প্রথম আলো: শেষ সময়ে আপনি সেতু বিভাগের দায়িত্ব পেয়েছেন। এসেই ইতিহাসের সাক্ষী হলেন। সেতু বিভাগকে কোথায় রেখে যেতে চান?

মো. মনজুর হোসেন: আমার আগে যেসব কর্মকর্তা সেতু বিভাগে কাজ করেছেন এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের যাঁরা পদ্মা সেতুর বাস্তবায়নে আন্তরিকভাবে সহায়তা দিয়েছেন, তাঁদের সবাই এই ইতিহাসের সাক্ষী। সবার প্রতি সেতু বিভাগ কৃতজ্ঞ। সরকারের উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় সেতু বিভাগ তার সামর্থ্যের প্রমাণ রেখে যাচ্ছে। দেশে ও বহির্বিশ্বে সরকারের উজ্জ্বল ভাবমূর্তি বজায় রাখতে সেতু বিভাগের এই পরিশ্রম অব্যাহত থাকবে।

পদ্মা সেতু এখন সেতু বিভাগের সম্পদ। সেতু ও এর সম্পদ রক্ষণাবেক্ষণে আপনাদের কী পরিকল্পনা?

মো. মনজুর হোসেন: পদ্মা সেতুর পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে ইতিমধ্যে পদ্মা সেতু তৈরির দায়িত্বে থাকা চীনের চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি (এমবিইসি) ও দক্ষিণ কোরিয়ার কোরিয়া এক্সপ্রেসওয়ে করপোরেশনকে (কেইসি) যৌথভাবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দেশের যাঁরা এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকবেন, তাঁদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ শেখানো হবে। ফলে ভবিষ্যতে আমরা দেশের জনবল দিয়ে পদ্মা সেতুর এই কাজগুলো করতে পারব। একই সঙ্গে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের ভূমি অধিশাখা সেতুর সম্পদ রক্ষণাবেক্ষণে নিয়মিত কাজ করে যাবে।

পদ্মা সেতু বাস্তবায়নে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে আপনারা ঋণ নিয়েছেন। ৩৫ বছরে সুদে-আসলে এই ঋণ শোধ করতে হবে। আপনি কি মনে করেন সেতুর আয় থেকে ঋণ পরিশোধ করা সম্ভব?

মো. মনজুর হোসেন: দেশের নিজস্ব অর্থায়নে তৈরি এই সেতুর সমুদয় অর্থ সুদসহ বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষকে পরিশোধ করতে হবে। বর্তমান ‘অ্যামোর্টাইজেশন শিডিউল’ অনুসারে নির্ধারিত সময় ২০৫৬-৫৭ অর্থবছরের মধ্যে আমরা এই ঋণ অর্থ মন্ত্রণালয়কে পুরোপুরি পরিশোধের ব্যাপারে আশাবাদী। সেতু বিভাগ ইতিমধ্যে সেই সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে। টোলের অর্থ দিয়ে বঙ্গবন্ধু সেতু নির্মাণের ঋণের অর্থও বছর বছর পরিশোধ করছে।

বঙ্গবন্ধু সেতুকে কেন্দ্র করে সেতু কর্তৃপক্ষ গঠিত হয়েছিল। এখন পদ্মা সেতু ঘিরে একটি কোম্পানি করার কথা শোনা যাচ্ছে। এটি কেন দরকার?

মো. মনজুর হোসেন: আগেই বলেছি, পদ্মা সেতু পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে আমরা কেইসি ও এমবিইসি কোম্পানিকে যৌথভাবে দায়িত্ব দিয়েছি। সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে আমরা দেশের জনবল দিয়ে সেতুর পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ করতে পারলে সেতুর পরিচালনায় ব্যয় কমবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে উন্নয়ন প্রকল্প পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে দেশের জনবলের এই অভিজ্ঞতা কাজে আসবে। পদ্মা সেতু পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে কোম্পানি করার ব্যাপারে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের বোর্ড সভায় আলোচনা হয়েছে। এতে বোর্ডের সদস্যরা ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন।

সেতু বিভাগ দেশে বড় সেতু নির্মাণের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা। ভবিষ্যতে দেশে কোনো বড় সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা
আছে? শিগগিরই কোনো সেতুর কাজ শুরু হতে পারে?

মো. মনজুর হোসেন: ভবিষ্যতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সেতু নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা ও সম্ভাব্যতা নিয়ে সেতু বিভাগ কাজ করে যাচ্ছে। বৃহৎ সেতু নির্মাণের মতো বেশি ব্যয়ের প্রকল্পের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি এবং সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদন নিতে হয়। এই দুই কমিটির অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর কাজ চলছে, সেটি আপনারা জানেন। নতুন কোনো প্রকল্প এই দুই কমিটির অনুমোদন পেলে আপনাদের জানাতে পারব।

প্রথম আলো: উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কোনো চমক আছে? থাকলে সেটা কী? উৎসুক মানুষকে সেতু দেখার সুযোগ দেবেন কীভাবে?

মো. মনজুর হোসেন: উদ্বোধনের দিন প্রকল্প এলাকায় সুধী সমাবেশের আয়োজন করছে সেতু বিভাগ। সম্প্রতি পদ্মা সেতুর উদ্বোধনসংক্রান্ত একটি সভায় মন্ত্রিপরিষদ সচিব দেশের সব বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসককে উদ্বোধন-সংক্রান্ত অনুষ্ঠান আয়োজনের নির্দেশনা দিয়েছেন। উদ্দেশ্য, দেশের সব জেলার মানুষ একসঙ্গে যাতে পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উদ্‌যাপন করতে পারেন। একটি গণবিজ্ঞপ্তি দিয়ে ইতিমধ্যে যান চলাচলের জন্য সেতুটি উন্মুক্ত করার সময়সূচি জানানো হয়েছে। তবে সেতুর নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণের স্বার্থে সেতুতে হাঁটা বা গাড়ি থামানো নিষিদ্ধ করা হচ্ছে। যান চলাচল উন্মুক্ত করা হলে সবাই সেতুতে চলাচলের মাধ্যমে সেটি দেখতে পারবেন।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন