ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, ‘অতীতে ভারতের প্রধানমন্ত্রীরা যা বলেছিলেন, গত বছরের মার্চে বাংলাদেশ সফরের সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তার সবগুলোই বলেছেন এবং তিনি তাঁর বক্তৃতায় অতিরিক্ত কিছু প্রসঙ্গ উল্লেখ করেছেন। ’

বিক্রম দোরাইস্বামী বলেন, সংযুক্তি জোরদারের পাশাপাশি অর্থনীতি, বিনিয়োগ ও আন্তসংযোগ বাড়ানোর প্রেক্ষাপট থেকে আমাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও কার্যকর করার চেষ্টা করা প্রয়োজন।

ভারতের হাইকমিশনার বলেন, ভারতের প্রেক্ষাপট থেকে গত এক দশকের দিকে বিশেষ করে গত ছয়–সাত বছরের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের দিকে নজর দিলে দেখবেন সম্পর্কের মৌলিক এবং নাটকীয় পরিবর্তন হয়েছে।

তাঁর মতে, দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেতিবাচক প্রচারণা রয়েছে। একসঙ্গে কাজ করার মাধ্যমে এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের সুযোগ আছে।

আঞ্চলিক সহযোগিতা বিশেষ করে সার্কের প্রসঙ্গ টেনে বিক্রম দোরাইস্বামী বলেন, ‘আমরা অবশ্যই আঞ্চলিক সহযোগিতা চাই। এ অঞ্চলের একটি দেশ তাদের সঙ্গে সংযুক্তিসহ সবকিছুরই বিরোধিতা করছে। বৃহত্তর আঞ্চলিক সহযোগিতার জন্য সবাইকে একসঙ্গে যুক্ত হতে হবে।’

সাবেক রাষ্ট্রদূত এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের (বিইআই) প্রেসিডেন্ট এম হুমায়ূন কবির বলেন, ‘বড় পরিসরে আন্তসীমান্ত সমস্যার সমাধান হলেও কিছু নেতিবাচক উপাদান এখনো রয়ে গেছে। আমরা এগুলোর সমাধান করতে পারি। আমার কাছে এটি অসমাপ্ত কাজ। দুই দেশ তিস্তাসহ অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন নিয়ে আলোচনা করতে পারি। ভারতে রপ্তানির কতটা সামর্থ্য বাংলাদেশের আছে, তা নিয়ে আলোচনা হতে পারে।’

সাবেক এই কূটনীতিক মনে করেন, দুই দেশের সহযোগিতাকে অবশ্যই বৃহত্তর আঞ্চলিক সমৃদ্ধির প্রেক্ষাপট থেকে দেখতে হবে।

অনুষ্ঠানে প্রথম আলো অনলাইন ইংরেজি বিভাগের প্রধান আয়েশা কবির বলেন, বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিরাট ভূমিকা রাখতে পারে গণমাধ্যম।

আলোচনায় সঞ্চালনা করতে গিয়ে সিএফআইএসএসের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান কমোডর (অব.) মোহাম্মদ নুরুল আবসার বলেন, তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি সই এবং রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে ভারতের সহযোগিতার বিষয়ে দুই দেশকে বিশেষ মনোযোগ দিতে হবে।

গোলটেবিল বৈঠকের অপর সঞ্চালক এবং ইংরেজি দৈনিক ঢাকা ট্রিবিউনের সম্পাদক জাফর সোবহান বলেন, ‘দুই দেশের সীমান্তে কী ঘটছে, সে বিষয়ে আমাদের তা স্বীকার করতে হবে। দুই দেশের মধ্যে আস্থা স্থাপন জরুরি।’

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন