default-image

রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তরের বিষয়ে শুরু থেকে আপত্তি জানিয়ে আসছিল জাতিসংঘসহ কিছু দেশ ও অন্তর্জাতিক সংস্থা। এ অবস্থায় জাতিসংঘের একটি প্রতিনিধিদল গত মাসে সরেজমিন ভাসানচার পরিদর্শন করেছে। জায়গাটি ঘুরে দেখে এবং সেখানকার সুযোগ–সুবিধার বিষয়ে জানার পর আগের অবস্থান থেকে জাতিসংঘ সরে এসেছে বলেই মনে হচ্ছে। ওই সফর নিয়ে সরকারের কাছে জমা দেওয়া প্রতিবেদনে তেমন ইঙ্গিতই আছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।

পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেন গত মঙ্গলবার প্রথম আলোকে বলেন, ‘জাতিসংঘের প্রতিনিধিদলটি ভাসানচরে গিয়ে সেখানে কী দেখেছে এবং সামগ্রিকভাবে তাদের মূল্যায়ন কী, সেটা প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে। গত বছরের ডিসেম্বরে রোহিঙ্গাদের প্রথম দলটিকে ভাসানচরে নেওয়া হয়েছিল। ওই সময় জাতিসংঘ রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তর নিয়ে প্রশ্ন তোলে। এ বিষয়টিকে বিবেচনায় নিলে জাতিসংঘের দেওয়া প্রতিবেদনটিকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছি।’

বিজ্ঞাপন

প্রতিবেদনের বিষয়ে জানতে প্রথম আলোর পক্ষ থেকে বাংলাদেশে জাতিসংঘের একাধিক দপ্তরে যোগাযোগ করা হয়েছিল। প্রতিবেদন দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করলেও বিষয়বস্তু সম্পর্কে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলতে চায়নি।

জাতিসংঘের প্রতিনিধিদলটির পর যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ ১০টি দেশের শীর্ষ কূটনীতিকদের একটি প্রতিনিধিদল এপ্রিলের ৩ তারিখ ভাসানচর সফরে যায়। ভাসানচর ঘুরে রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় ও অবকাঠামো–সুবিধা দেখে তাঁরাও সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

এ ছাড়া মার্কিন প্রেসিডেন্টের জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক বিশেষ দূত জন কেরি সম্প্রতি ঢাকা সফরের সময় রোহিঙ্গাদের স্থানান্তরের জন্য ভাসানচরে প্রকল্প নেওয়ায় বাংলাদেশের প্রশংসা করেন। জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক শীর্ষ নেতাদের একটি ভার্চ্যুয়াল সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আমন্ত্রণ জানাতে জন কেরি ৯ এপ্রিল ঢাকা সফর করেন।

দীর্ঘ আলাপ–আলোচনা ও প্রস্তুতির পর গত বছরের ৪ ডিসেম্বর রোহিঙ্গাদের প্রথম দলটিকে কক্সবাজার থেকে ভাসানচরে পাঠানো হয়। এরপর থেকে গত ২ এপ্রিল পর্যন্ত মোট সাত দফায় ১৭ হাজার ৯৭১ জনকে ভাসানচরে নেওয়া হয়েছে।

তবে ১ হাজার ৬৪২ জনের প্রথম দলকে ভাসানচরে নেওয়ার দুই দিন আগে ২ ডিসেম্বর জাতিসংঘ একটি বিবৃতি দিয়ে এই স্থানান্তরের বিরোধিতা করেছিল। এতে জাতিসংঘ রোহিঙ্গা স্থানান্তরের প্রক্রিয়া বা প্রস্তুতিতে তাদের না রাখা এবং সীমিত তথ্যের ভিত্তিতে স্থানান্তরের পুরো প্রক্রিয়া হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছিল। পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায় এবং সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে সরানো এবং অবাধে মূল ভূখণ্ডে চলাফেরার সুযোগ নিশ্চিত করতে বলেছিল। এ ছাড়া রোহিঙ্গাদের জন্য ভাসানচরে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবাসহ মৌলিক এবং মানবিক সব ধরনের চাহিদা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করতে বলেছিল।

এ অবস্থায় বাংলাদেশে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) সহকারী প্রতিনিধি ফুমিকো কাশিওয়ার নেতৃত্বে জাতিসংঘের ১৮ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল গত ১৭ থেকে ২০ মার্চ ভাসানচর সফর করে।

বিজ্ঞাপন

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা গত সোম ও মঙ্গলবার প্রথম আলোকে জানান, জাতিসংঘের প্রতিনিধিদলটি এ সপ্তাহে মন্ত্রণালয়ের কাছে ভাসানচর নিয়ে প্রতিবেদন দিয়েছে। অবশ্য চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়ার আগে এপ্রিলের ৬ তারিখ তাদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ সম্পর্কে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছিল। এরপর ১৩ এপ্রিল জাতিসংঘ মন্ত্রণালয়ের কাছে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা এই প্রতিবেদককে জানান, ভাসানচর নিয়ে জাতিসংঘের দেওয়া প্রতিবেদনটি বেশ ইতিবাচক।

তাহলে কি ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তায় জাতিসংঘ যুক্ত হতে যাচ্ছে—এই প্রশ্নের উত্তরে পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেন বলেন, ‘আশা করছি, রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তায় কক্সবাজারের পাশাপাশি ভাসানচরেও জাতিসংঘ যুক্ত হবে।’

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন