বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

যাঁদের জমি আছে, বাড়ি বা ফ্ল্যাটের মালিকানার অংশ হিসেবে জমি পেয়েছেন, তাঁদের সবার জন্য ভূমি কর দেওয়া বাধ্যতামূলক । প্রতিবছর সংশ্লিষ্ট ভূমি কার্যালয়ে ভূমি কর জমা দিয়ে রসিদ নিতে হয়। ভূমির মালিকদের খাজনা দিতে দূরের জেলায় যাতায়াতে সময় বেশি লাগত। ভূমি কার্যালয়ে গিয়ে সময়ক্ষেপণ হতো। অল্প পরিমাণ খাজনা দিতেও অতিরিক্ত টাকা খরচ করা লাগত। অন্যদিকে পরপর তিন বছর খাজনা না দিলে মালিকের বিরুদ্ধে রেন্ট সার্টিফিকেট মামলা হয়। ভোগান্তির কারণে অনেকে নিয়মিত খাজনা না দেওয়ায় মামলার সংখ্যা বাড়ছিল।

default-image

কর দিতে ভূমির মালিককে যেন ভূমি কার্যালয়ে যেতে না হয়, এমন ভাবনা থেকে অনলাইনে কর পরিশোধের উদ্যোগ নেয় ভূমি মন্ত্রণালয়। ২০১৬ সালে ঢাকার তেজগাঁও ও পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলায় পরীক্ষামূলকভাবে এমন ব্যবস্থা চালু করা হয়। এর পরের ধাপে ১১টি উপজেলায় এই কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়। পরীক্ষামূলক কার্যক্রম সফল হওয়ায় সারা দেশের জন্য অনলাইনে কর সুবিধা চালু হয়।

পল্লবীর বাসিন্দা আবুল কালাম আজাদ প্রথম আলোকে বলেন, করোনার সময়ে অনলাইনের মাধ্যমে কর দিতে পারায় সুবিধা হয়েছে। সময় ও খরচ দুটোই বেঁচেছে। নিবন্ধনের পর তহশিলদার হোল্ডিং নম্বর খুলতে বেশি সময় নেন। হটলাইনে ফোন করে বিষয়টি জানানোর পর দ্রুতই হোল্ডিং নম্বর খুলে দেওয়া হয়।

ভূমির মালিককে ldtax.gov.bd এই পোর্টালে প্রবেশ করে জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মতারিখ ও মুঠোফোন নম্বর দিয়ে নিবন্ধন করতে হবে। ভূমি সেবা হটলাইন ‘১৬১২২’ নম্বরে ফোন করেও প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়েও নিবন্ধন করা যাবে। নিবন্ধন করা যাবে দেশের যেকোনো ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার থেকেও। একবার নিবন্ধিত হলে পরে আর নিবন্ধনের প্রয়োজন হবে না।

ভূমির মালিক জেলা, উপজেলা, মৌজা ও জমির খতিয়ান নম্বর উল্লেখ করে আবেদন করলে তা সংশ্লিষ্ট ভূমি কার্যালয়ের ভূমি সহকারী কর্মকর্তার (তহশিলদার) কাছে চলে যায়। মালিকের দেওয়া তথ্য সঠিক থাকলে তহশিলদার একটি হোল্ডিং নম্বর খুলে দেন। ভূমিমালিক আবেদন করার তিন থেকে সাত দিনের মধ্যে তহশিলদারকে আবেদনের অগ্রগতি জানাতে হয়। হোল্ডিং নম্বর পেলে ভূমির মালিক অনলাইনে কর দিতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে বিকাশ, নগদ, রকেটের মতো মুঠোফোনে আর্থিক সেবা, বিভিন্ন ব্যাংকের কার্ডসহ ৩৬ ধরনের পেমেন্ট টুলস ব্যবহার করে কর পরিশোধ করতে পারেন। ভূমির মালিককে কর পরিশোধের প্রমাণস্বরূপ দাখিলা অনলাইনেই দেওয়া হয়।

ঢাকার মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা শরীফ আহসান তাঁর তিন জায়গার জমির খাজনা অনলাইনে দিয়েছেন। জমির দুটি ঢাকায়, আরেকটি বাগেরহাট সদর উপজেলায়। শরীফ আহসান প্রথম আলোকে বলেন, আগে বাগেরহাটে যেতে হতো। তিন জমির জন্য তিন অফিসে একাধিক দিন যেতে হয়েছে। এবার ভূমি অফিসে দৌড়াদৌড়ি করতে হয়নি।

ইতিমধ্যে দেশের চার কোটি সাড়ে পাঁচ লাখের বেশি হোল্ডিংয়ের মধ্যে ৮৫ শতাংশের বেশি হোল্ডিং অনলাইনে নিবন্ধিত হয়েছে। দৈনিক এক থেকে দেড় লাখের মতো হোল্ডিং অনলাইনে নিবন্ধিত হচ্ছে। গত ৮ সেপ্টেম্বর এই ব্যবস্থা চালুর পর থেকে ৩ জানুয়ারি পর্যন্ত ১৪ কোটি ২৩ লাখ টাকার বেশি খাজনা আদায় হয়েছে। ৩ জানুয়ারি অনলাইনে খাজনা আদায় হয় ৩ লাখ ৮৫ হাজার ১২০ টাকা।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের হয়ে অনলাইন ভূমি করের পোর্টালটি তৈরি, তথ্য সংযোজন, রক্ষণাবেক্ষণসহ যাবতীয় কাজ করছে মাইসফট হ্যাভেন (বিডি) লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মোফাখখারুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ভূমির ডিজিটালাইজেশনে বেশ কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভূমি কর ব্যবস্থাপনা পুরো অনলাইনে চলে এলে কাউকে ভোগান্তিতে পড়তে হবে না।

অনলাইনে ভূমি কর পরিশোধ করতে গিয়ে কিছু ক্ষেত্রে জটিলতা হচ্ছে। বিশেষ করে নিবন্ধন করার পর ভূমির মালিক তথ্য দিলেও হোল্ডিং নম্বর পেতে দীর্ঘ সময় লাগছে। সংশ্লিষ্ট ভূমি কার্যালয়ের তহশিলদার সহযোগিতা করেন না বলেও অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, অনেক ক্ষেত্রে উত্তরাধিকারীরা আবেদন করছেন। সে ক্ষেত্রে খতিয়ানের সঙ্গে নাম মিল না থাকায় হোল্ডিং নম্বর অনুমোদন হয় না। উত্তরাধিকারেরা যাতে হোল্ডিং তৈরির মাধ্যমে কর দিতে পারেন, সে সুবিধা যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে ভূমি সংস্কার বোর্ড অনলাইনে ভূমি করের বিষয়টি দেখভাল করছে। উপভূমি সংস্কার কমিশনার মুহাম্মদ কামরুল হাসান প্রথম আলোকে বলেন, ভূমি ব্যবস্থাপনা নিয়ে অনিয়মের যে খাত, সেগুলো বন্ধ হবে। নতুন ব্যবস্থাপনা হওয়ায় কিছু সমস্যা হচ্ছে। নিবন্ধনের পর ভূমির মালিকের দেওয়া তথ্য যাচাইয়ে কিছুটা

সময় বেশি লাগছে। এই জটিলতা নিরসনে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন