গত নভেম্বরে জেলা প্রশাসনের এ–সংক্রান্ত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকার ভূমি অধিগ্রহণের অনুমোদন দেয় গত বছরের ৬ এপ্রিল। এরপর মাঠপর্যায়ে জমির অস্বাভাবিক মূল্য দেখে জেলা প্রশাসন ভূমি অধিগ্রহণের জন্য ১৩ সদস্যের কমিটি করে দেয়। সেই কমিটি নির্ধারিত মৌজার জমি বেচাকেনার দলিল পর্যালোচনা করে ১৩৯টি দলিল পায় ‘অস্বাভাবিক উচ্চ মূল্যে’ (২০ গুণ বেশি দামে) রেজিস্ট্রি করা। এসব দলিল হয়েছে ২০২০ সালের ১৮ মে থেকে ২০২১ সালের ১৫ মের মধ্যে। অর্থাৎ বিশ্ববিদ্যালয়–সংক্রান্ত কার্যক্রম শুরুর পর। ওই জমির দাগ নম্বরের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য প্রস্তাবিত জমির দাগ নম্বরের মিল রয়েছে। আবার ওই সব দাগের বাইরে একই মৌজায় একই সময়ে সম্পাদিত ৪০টির বেশি জমি কেনাবেচার দলিল পাওয়া গেছে, যার মূল্য সরকারি মৌজা দরের কাছাকাছি। অর্থাৎ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপনের জন্য যে জায়গাটি ঠিক করা হয়েছে, কেবল ওই সব দাগের জমির দলিলে অস্বাভাবিক দাম দেখানো হয়েছে।

ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে ৫০০-৬০০ কোটি টাকার বাণিজ্য হচ্ছিল অবাধে। এর পেছনে যেহেতু খোদ শিক্ষামন্ত্রীর ক্ষমতা ও তাঁর ভাই-বেরাদর জড়িত, তাই কেউ মুখ খুলছিল না।
মুহম্মদ শফিকুর রহমান, আওয়ামী লীগের সাংসদ, চাঁদপুর-৪ আসন

সরেজমিনে এলাকার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, স্থানীয় লোকজন থেকে এসব জমি নেওয়া হয়েছে অনেকটা জোর করে। এ ক্ষেত্রে কাউকে নামমাত্র দাম দেওয়া হয়েছে। কাউকে আবার জমি অধিগ্রহণের টাকা হাতে পেলে জমির দাম পরিশোধের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। কেবল কৃষিজমির মালিকদের কিছু টাকা দেওয়া হয়েছে। এই কাণ্ডের নেপথ্যে রয়েছেন ১০ নম্বর লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সেলিম খান। তিনি চাঁদপুরে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনির ঘনিষ্ঠ হিসেবে এলাকায় পরিচিত।

এ–সংক্রান্ত নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ২৩ একরের বেশি (২৩০৫ শতাংশ) জমির দলিল হয়েছে চেয়ারম্যান সেলিম খান ও তাঁর স্বজনদের নামে। এর মধ্যে সেলিম খানের ছেলে শাহিন খানের নামে ৪৪১ শতাংশ, শান্ত খানের নামে ৪২৮ শতাংশ, মেয়ে সেলিনা বেগমের নামে ৪৩০ শতাংশ ও পিংকি আক্তারের নামে ১৭৩ শতাংশ; সেলিম খানের নিজ নামে ৩৬২ শতাংশ, তাঁর প্রতিষ্ঠান মেসার্স সেলিম এন্টারপ্রাইজের নামে ১১৮ শতাংশ এবং তাঁর কর্মচারী জুয়েলের নামে ৩৫৩ শতাংশ জমি কেনা হয়।

সেলিম খান প্রথম আলোর কাছে দাবি করেন, তিনি ফিল্ম সিটি করার জন্য নিজ এলাকায় আগে থেকেই জমি কিনে আসছেন। সেখানে চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় হবে—এই খবর তিনি জানতেন না।

সেখানে একক নামে সর্বোচ্চ জমি নিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনির ভাই জাওয়াদুর রহিম ওয়াদুদ। তাঁর নামে দলিল হয় ৫৬৮ শতাংশ (৫.৬৮ একর) জমির। মন্ত্রীর মামাতো ভাই ও ফরিদগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলামের নামে দলিল হয়েছে ১৬১ শতাংশ জমির। মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত চাঁদপুর সদর উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান আইয়ুব আলীর নামে কেনা হয় ৯৩ শতাংশ এবং মন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী (রাজনৈতিক) টুটুল মজুমদারের নামে ৩৭ শতাংশের দলিল হয়েছে।

জাওয়াদুর রহিম দাবি করেন, তিনি হাসপাতাল ও বৃদ্ধাশ্রম বানানোর জন্য কিছু জমি কিনে দিতে সেলিম খানকে অনুরোধ করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য জায়গা নির্ধারণ ও প্রাথমিক অনুমোদন দেওয়ার অনেক আগে থেকেই তিনি অল্প অল্প করে জমি কেনা শুরু করেন। তিনি বলেন, ‘কিন্তু যখন দেখলাম ওখানে আর হাসপাতাল ও বৃদ্ধাশ্রম করা হবে না, কারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য জায়গা নেওয়া হচ্ছে, তার মধ্যে পড়ে গেছে। অন্যদিকে শিক্ষামন্ত্রী আমার ছোট বোন, সুতরাং এখান থেকে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়া উচিত নয়। তাই গত বছরের ডিসেম্বরে আমার ক্রয়কৃত জমি বিক্রি করে দিই।’

তবে জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ভূমি অধিগ্রহণ কমিটি গত বছরের মে মাসে যখন আগের এক বছরের জমি কেনাবেচার দলিল বিশ্লেষণ করে, তখন সেখানে জাওয়াদুর রহিমের নামে ৫৬৮ শতাংশ জমি কেনার দলিল পেয়েছে। পরে সেই জমি তিনি হস্তান্তর করেছেন কি না, সে তথ্য জেলা প্রশাসনের কাছে নেই।

তবে ফরিদগঞ্জ উপজেলার চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, যাতে দ্রুতগতিতে বিশ্ববিদ্যালয় হয়, সে জন্য পরিকল্পনা করে কাজে গতিশীলতা আনতে তাঁরা একসঙ্গে জমি কিনেছেন। তিনি দাবি করেন, ‘কারও কাছ থেকে জোর করে জমি কিনিনি। সেখানে জমি কিনলে কিছু ব্যবসা হবে। ব্যবসার জন্য জমি কিনেছি।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য জায়গা ঠিক করার পর জমি কিনেছেন বলে জাহিদুল ইসলাম দাবি করলেও বাস্তবে তিনি জমি কিনেছেন ভূমি অধিগ্রহণের প্রশাসনিক অনুমোদনের আগে।

জেলা প্রশাসনের পর্যালোচনা

চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের খসড়া আইন মন্ত্রিসভা থেকে চূড়ান্তভাবে অনুমোদন পায় ২০১৯ সালের ২৩ ডিসেম্বর। জাতীয় সংসদে চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বিল পাস হয় ২০২০ সালের ৯ সেপ্টেম্বর। জমি অধিগ্রহণের জন্য প্রশাসনিক অনুমোদন দেওয়া হয় ২০২১ সালের ৬ এপ্রিল। আর মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ মহলটি নিজেদের নামে জমিগুলোর দলিল করে নেন ২০২০ সালের ১৮ মে থেকে এক বছরের মধ্যে। পরবর্তী সময়ে সেসব জায়গাই বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জন্য নির্ধারণ করে অধিগ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসনকে জানায়।

জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ শাখা বলছে, ওই এলাকার প্রকৃত মৌজা দর ধরে জমি অধিগ্রহণের দাম নির্ধারণ করলে সাড়ে ৬২ একরের জন্য (মূল দামের তিন গুণ ধরে) সরকারের ব্যয় হবে প্রায় ১৯৪ কোটি টাকা। কিন্তু হঠাৎ উচ্চ মূল্য দেখিয়ে যেসব দলিল করা হয়েছে, সেটা আমলে নিলে সরকারকে ৫৫৩ কোটি টাকা দিতে হবে। অর্থাৎ সরকারকে অতিরিক্ত দিতে হবে ৩৫৯ কোটি টাকা।

বিষয়টি নিয়ে চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে একটি প্রতিবেদন পাঠান গত ১৬ নভেম্বর। তাতে বলা হয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় গত বছরের ৬ এপ্রিল চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য সদর উপজেলার ১১৫ নম্বর লক্ষ্মীপুর মৌজার ৬২ দশমিক ৫৪৯০ একর ভূমি অধিগ্রহণের অনুমোদন দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ১১ এপ্রিল জমির দাগসূচি চূড়ান্তকরণ করে অধিগ্রহণ করার জন্য প্রস্তাব পায় জেলা প্রশাসন। কোন জমি অধিগ্রহণ করা হবে, সেটা নির্বাচন করেছে প্রত্যাশী সংস্থা; অর্থাৎ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই মৌজায় সাবরেজিস্ট্রি অফিসের নির্ধারিত বাজারমূল্য অনুযায়ী নাল শ্রেণি প্রতি শতাংশ জমির দাম ১৩ হাজার ৮০২ টাকা। বিভিন্ন শ্রেণির ভূমির জন্য সাবরেজিস্ট্রি অফিসে সংরক্ষিত সর্বশেষ ২০১৬ সালে নির্ধারিত মৌজা দরের তুলনায় অধিগ্রহণের জন্য সংগৃহীত মূল্যহার ‘চরম অস্বাভাবিকভাবে বেশি’ (২০.৪ গুণ) দেখা যায়। এটা বেড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়–সংক্রান্ত কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর।

এটাকে ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, এ অবস্থায় ‘চরম অস্বাভাবিক’ দলিলগুলো বিবেচনায় নিয়ে ভূমি অধিগ্রহণের প্রাক্কলন তৈরি করলে সরকারের ৩৫৯ কোটি ১৬ লাখ টাকা ক্ষতি হতো। একই সঙ্গে মানুষ ভূমি হস্তান্তরসহ এ–সংক্রান্ত বিষয়ে নানা অসুবিধার সম্মুখীন হতো। তাই ‘অস্বাভাবিক উচ্চমূল্যে সম্পাদিত’ দলিল ছাড়া ওই মৌজার অন্যান্য সাফ কবলা দলিল বিবেচনায় নিয়ে ওই জমি অধিগ্রহণের জন্য প্রায় ১৯৪ কোটি টাকার প্রাক্কলন করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসনের দুজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, জেলা প্রশাসনের প্রাক্কলন সংশোধন করে বর্ধিত দরে প্রাক্কলনের জন্য ভূমি মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. সেলিম খান। এ নিয়ে উচ্চ আদালতে একটি রিট খারিজ হয়। এরপর সেলিম খান আরেকটি রিট করেছেন।

চাঁদপুর জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ প্রথম আলোকে বলেন, জমি অধিগ্রহণে কত টাকা লাগবে, সে বিষয়ে প্রাক্কলন তৈরি করে তিনি যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন। তাঁর এ প্রাক্কলনের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে মামলা করেছেন সংক্ষুব্ধ ব্যক্তিরা। যেহেতু আদালতে এ নিয়ে মামলা রয়েছে, তাই এ নিয়ে তিনি কিছু বলতে রাজি নন।

‘ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করবেন না’

জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্র বলছে, চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জন্য নির্বাচন করে দেওয়া হয়েছে মূলত শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে। ভূমি অধিগ্রহণের প্রশাসনিক অনুমোদনের চার মাস আগে লক্ষ্মীপুর মৌজায় কয়েকটি জমির দাগ নম্বর উল্লেখ করে সেগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য নির্বাচন করতে শিক্ষামন্ত্রীর কাছে আবেদন করেন ইউপি চেয়ারম্যান সেলিম খান। সেই আবেদনের ওপর সুপারিশও করেছেন শিক্ষামন্ত্রী।

স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, বিশ্ববিদ্যালয় হবে এমন কথা বলে সেলিম খান জোরপূর্বক সাধারণ মানুষের জমিতে মাটি ভরাটের কাজ শুরু করেন। তিনি জমির মালিকদের কম টাকা দিয়ে বেশি মূল্য উল্লেখ করে দলিল করে নেন এবং কেউ কেউ এখনো টাকা পাননি বলেও অভিযোগ আছে।

এ অভিযোগ সত্য নয় বলে দাবি করে সেলিম খান প্রথম আলোকে বলেন, জমি কেনার সময় বিশ্ববিদ্যালয় হবে জানতেন না।

তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ওই জমি নিতে শিক্ষামন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছেন কেন? এ প্রশ্ন করা হলে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন সেলিম খান। ‘ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করবেন না। আমরা জমির ন্যায্য দাম পাচ্ছি না। তাই এই জমি সরকারকে দেব না। এ নিয়ে আর কোনো কথা নেই।’

চেয়ারম্যানের ভয়ে তটস্থ লোকজন

সম্প্রতি সরেজমিনে লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নে গেলে চেয়ারম্যান সেলিম খানের বিষয়ে ভয়ে কেউ নাম প্রকাশ করে কথা বলতে রাজি হননি। একাধিক বাসিন্দা জানান, মানুষের জমি দলিল করে নেওয়ার পর এলাকায় পাহারা বসিয়েছেন সেলিম খান।

জমির বিক্রেতাদের মধ্যে ১১ জনের সঙ্গে এই প্রতিবেদক দেখা করলে কথা বলতে রাজি হন ৮ জন। তবে পত্রিকায় নাম প্রকাশ না করার শর্তে। এমনই একজন জমির মালিক প্রথম আলোকে বলেন, ‘মাটি ভরাটের আগে চেয়ারম্যান জমির মালিকদের ডেকে নিয়ে বলেছেন, “জমিটা লাগবে দেন, না দিলেও নিয়ে যাব।” এমন কথা শুনে মানুষ ভয়ে জমি দিয়ে দিয়েছে। এসব জমির দখল নেওয়ার পর কেউ টাকা পেয়েছেন। কেউ পাননি।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম বলে জোর করে জমি লিখে নেওয়া হয়েছে জানিয়ে আরেক জমির মালিক বলেন, ‘আমাকে বলা হয়েছে, যা টাকা দিয়েছি নিলে নে, না দিলে ফেরত দে।’

এই ‘ভূমি অধিগ্রহণ–বাণিজ্যে’ ঘনিষ্ঠ লোকদের যুক্ত থাকার বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনির বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। এরপর মন্ত্রীর বক্তব্য জানতে চেয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবুল খায়েরের কাছে ই-মেইলে প্রশ্ন পাঠানো হয় ২৩ জানুয়ারি। গতকাল বুধবার পর্যন্ত কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। গতকাল সন্ধ্যায় যোগাযোগ করা হলে তথ্য কর্মকর্তা মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি মন্ত্রী মহোদয়কে জানিয়েছি। তিনি উত্তর দেননি।’

সমালোচনায় আওয়ামী লীগের নেতারাও

এই অধিগ্রহণ–বাণিজ্য নিয়ে সরকারি দলের স্থানীয় নেতা-কর্মীদের অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা করে যাচ্ছেন। মঙ্গলবার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নাসির উদ্দিন আহমেদ নিজ বাসায় নেতা-কর্মীদের নিয়ে এক সভায় বলেন, নদীর পারে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য স্থান নির্বাচন করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে তাঁদের কোনো মতামত নেওয়া হয়নি। এই সুযোগে শিক্ষামন্ত্রীর লোকজন জায়গাজমি কিনে বড় অঙ্কের টাকা লোপাটের পরিকল্পনা করেছেন।

গতকাল চাঁদপুর প্রেসক্লাবে জেলা আওয়ামী লীগের একাংশের সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, দীপু মনি ও তাঁর পরিবারকে জড়িয়ে মিথ্যাচার করা হচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মো. ইউসুফ গাজী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য যে জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে, তা নির্ধারণে জড়িত তহশিলদার, ভূমি অফিস, উপজেলা অফিস, এডিসি রেভিনিউ অফিস, জমি অধিগ্রহণ কমিটি এবং এদের সবার মূল জেলা প্রশাসক। তাঁদের পরামর্শেই চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে।

এদিকে এই ভূমি অধিগ্রহণ নিয়ে চাঁদপুর-৪ আসনের (ফরিদগঞ্জ) সরকারি দলের সাংসদ মুহম্মদ শফিকুর রহমান গত মঙ্গলবার একটি অনলাইন সংবাদমাধ্যমে কলাম লিখেছেন। তাতে তিনি বলেন, ‘প্রস্তাবিত চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে ৫০০-৬০০ কোটি টাকার বাণিজ্য হচ্ছিল অবাধে। এর পেছনে যেহেতু খোদ শিক্ষামন্ত্রীর ক্ষমতা ও তাঁর ভাই-বেরাদর জড়িত, তাই কেউ মুখ খুলছিল না।’ এই বিষয়ে জানতে চাইলে সাংসদ মুহম্মদ শফিকুর রহমান গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি তথ্য–প্রমাণের আলোকে সবকিছু লিখেছি।’

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন