একটা তদন্ত কমিটি অবশ্য গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটি কী করে, সেটা অবশ্য কমবেশি সবারই জানা। এখন কী কী হবে, সেটা বরং অনুমান করি। প্রথমত, প্রমাণ করা হবে আসল দোষ সেই টিটিইরই। তিনিই খারাপ ব্যবহার করেছিলেন, নয়তো বাড়তি টাকা চেয়েছিলেন, অথবা অন্য কিছু। সুতরাং আপাতত টিটিইর মুক্তি নেই।

মন্ত্রী বা নেতাদের আত্মীয় কাহিনি অবশ্য নতুন কিছু নয়। এই তো ঈদের আগে, ৫ মে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য কাজী কানিজ সুলতানা হেলেনের স্বজনেরা পটুয়াখালীর পায়রা সেতুর টোল না দিয়েই গাড়ির বহর নিয়ে সেতু পার হতে চেয়েছিলেন। পরিণতিতে মারধর, ১০ জন আহত। আরও কিছুদিন আগে শিক্ষামন্ত্রীর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে ভূমি অধিগ্রহণ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছিল। বেরসিক জেলা প্রশাসন তদন্ত করলে বিষয়টি জানাজানি হয়ে যায়। এরও আগে হাজি মো. সেলিমের পুত্রের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগই দাঁড় করাতে পারেনি। এভাবে তালিকা করতে থাকলে এই লেখা আর শেষ হবে না।

এসব ঘটনা কিন্তু সরকারের ভাবমূর্তির জন্য খুবই খারাপ। আমরা যারা আইনের শাসন আছে বলে চিৎকার-চেঁচামেচি করি, তাদের জন্য অনেক বড় হুমকি। সুতরাং অবশ্যই এর সমাধান দরকার। এ জন্য কিছু ব্যবস্থা নিলেই হয়। আমার প্রস্তাব অবশ্য পাঁচটি। এই পাঁচ পদক্ষেপ গ্রহণ করলে আত্মীয় কাহিনির অবসান ঘটবে, আইনের শাসনে লাগবে না সামান্যতম আঁচড়। যেমন,

default-image

১. বিশেষ রেলের ব্যবস্থা

সবচেয়ে ভালো হতো যদি সম্পূর্ণ এক রেল দিয়ে দেওয়া যায়। তবে আমাদের সম্পদ সীমিত। সুতরাং এর পরিবর্তে প্রতিটি রেলের সঙ্গে বিশেষ বগি রাখা যেতে পারে। অবশ্যই এই বগি শীতাতপনিয়ন্ত্রিত হতে হবে। এখানে কোনো টিটিইর কোনো ধরনের প্রবেশাধিকার থাকবে না। বগিতে বড় বড় করে আত্মীয়স্বজন লেখা থাকবে। আত্মীয়স্বজনেরা আরামে বিনা টিকিটে সেই বগিতে উঠে পড়বেন। কোনো ঝামেলাই নেই।

২. নতুন আইন

মন্ত্রী-এমপিদের বেতন-ভাতা বাড়াতে, শুল্কমুক্ত গাড়ি কিনতে, প্লট পেতে, বরাদ্দ নিতে আছে নানা ধরনের বিশেষ ব্যবস্থা। এ জন্য সংসদে মাঝেমধ্যে বিলও ওঠানো হয়। এবার আত্মীয়স্বজনের পালা। তাদের জন্যও এখন বিশেষ আইন করা সময়ের দাবি। নতুন আইন অনুযায়ী, আত্মীয়স্বজনেরা বিনা টিকিটে রেল ও বিমান ভ্রমণ করতে পারবেন, টোল ছাড়া সেতু পার হবেন, ফেরি পারাপারে লাগবে না ভাড়া, যেকোনো ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহার করতে পারবেন, সরকারি রেস্টহাউসে থাকবেন। এ রকম আরও কিছু ব্যবস্থা রেখে ‘মন্ত্রী-এমপিদের আত্মীয়স্বজন অগ্রাধিকার বিল’ পাস করে নিলেই ঝামেলা শেষ। তখন সবই হবে আইনের মধ্যে। সুতরাং আইনের শাসনও নিশ্চিত।

৩. আত্মীয় সমিতি গঠন

মন্ত্রী-এমপিদের আত্মীয়রা একটা সমিতি গঠন করতে পারেন। এই সমিতি নিজেদের চাহিদা বা দাবি পেশ করতে পারবে। বিনা টিকিটে রেলে চড়ার সময়ে টিটিইর টিকিট দাবির বিরুদ্ধে যৌথ বিবৃতি দিতে পারবে, টিটিইর চরিত্র হননে একযোগে ঝাঁপিয়ে পড়তেও পারবে।

৪. ছবিসহ পরিচিতি বই

আত্মীয় সমিতি নিজ উদ্যোগেও করতে পারেন, সরকারিভাবেও হতে পারে। তাঁরা নিজের ছবিসহ একটা ডিরেক্টরি বা পরিচিতি বই বের করতে পারেন। এই ডিরেক্টরি প্রকাশ করতে বিজ্ঞাপনের কোনো অভাবই হবে না। টিটিই বা এ–জাতীয় পদে চাকরি করতে হলে এই ডিরেক্টরি মুখস্থ করতে হবে। প্রশ্ন আসবে এখান থেকে। যাতে পরে কোনো ভুল–বোঝাবুঝি না হয়।

৫. বিশেষ আইডি কার্ড

সরকারি পর্যায়ে সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি এটা হতে পারে। মন্ত্রী-এমপিরা তাঁদের আত্মীয়স্বজনের তালিকা দেবেন। সেই তালিকা অনুযায়ী বিশেষ পরিচয়পত্র তৈরি করা হবে। দুই রঙের পরিচয়পত্র হতে পারে। একটি নিজের আত্মীয়, অন্যটি শ্বশুরবাড়ির আত্মীয়। এতে ঝামেলা আরও কমবে।

এই পাঁচ পদ্ধতি সংশ্লিষ্টদের বিবেচনার জন্য পেশ করা হলো।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন