গত বছরের জুনে জি-৭ সামিটের কার্বন নিঃসরণ কমাতে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে সরে আসার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছিল বলে জানানো হয়।

মাতারবাড়ী এলাকায় ৫১ হাজার ৮৫৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬০০ মেগাওয়াটের দুটি ইউনিট নিয়ে এক হাজার ২০০ মেগাওয়াটের একটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের কাজ চলছে। একই প্রকল্পের আওতায় কয়লা আমদানির জন্য তৈরি হচ্ছে টার্মিনাল। এই ব্যয়ের প্রায় ৮৩ শতাংশ বহন করছে জাপান আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থা (জাইকা)।

মাতারবাড়ী বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে কোল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি। এই কোম্পানির একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের পরিকল্পনা থেকেই ১ হাজার ৪১৪ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। দ্বিতীয় কেন্দ্রের জন্য সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজও করা হয়েছে। ২০২৪ সালে প্রথমটি চালুর পর দ্বিতীয়টির কাজ শুরুর কথা। জাপানের অর্থায়ন নিশ্চিত হলেই ঠিকাদার নিয়োগে দরপত্র আহ্বানের কথা ছিল। দ্বিতীয় বিদ্যুৎকেন্দ্রটি জুন ২০৩০ সালের মধ্যে উৎপাদনে আসার কথা ছিল। এখন এটি বাতিল হয়ে গেলে বিকল্প ভাবতে হবে। দ্বিতীয় প্রকল্পটি বাতিল হলে কয়লা টার্মিনালের ব্যবহার কমে যাবে কি না—এ প্রশ্নের জবাবে ওই কর্মকর্তা বলেন, টার্মিনাল বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার হবে। দেশের সব আমদানিনির্ভর কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র এটি ব্যবহার করতে পারবে।

এ বিষয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ প্রথম আলোকে বলেন, কয়লা থেকে সরে আসার পরিকল্পনা করা হয়েছে। একই এলাকায় সৌর বা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্র করার পরিকল্পনা আছে। ওই এলাকায় একটি এলএনজি টার্মিনালও করা হচ্ছে।

এর আগে দ্বিতীয় পর্যায়ের বিদ্যুৎকেন্দ্রে ঠিকাদার হবে না বলে গত ফেব্রুয়ারিতে জানায় জাপানের প্রতিষ্ঠান সুমিতোমো করপোরেশন। প্রথম পর্যায়ের বিদ্যুৎকেন্দ্রটির ঠিকাদার হচ্ছে জাপানি কনসোর্টিয়াম সুমিতোমো করপোরেশন, তোশিবা করপোরেশন ও আইএইচআই করপোরেশন। জাপানের অন্যতম বড় ঠিকাদার সংস্থা সুমিতোমো ধাপে ধাপে কয়লানির্ভর প্রকল্প থেকে সরে আসার পরিকল্পনা নিয়েছে।

তবে পরিবেশগত প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে গত বছরের জুনে কয়লাভিত্তিক ১০টি বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প বাতিলের ঘোষণা দেয় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়।

এই তালিকায় ছিল না মাতারবাড়ী দ্বিতীয় পর্যায়ের ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রটি।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন