শেখ হাসিনা বলেন, ‘এখন আমাদের সময়। অনুগ্রহ করে আমাদের অনুকূল পরিবেশে বিনিয়োগব্যবস্থার সুযোগ নেওয়ার সময় তৈরি করুন।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন, ইউএস-বাংলাদেশ এনার্জি টাস্কফোর্স, যেটি ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে চালু হয়, সেটি উভয় দেশের স্টেকহোল্ডারদের মধ্যে জ্বালানি–সহযোগিতাকে এগিয়ে নিতে সহায়তা করবে।

একইভাবে প্রস্তাবিত ইউএস-বাংলাদেশ ডিজিটাল ইকোনমি টাস্কফোর্স টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে উভয় দেশের কোম্পানির সহযোগিতাকে আরও জোরদার করতে অবদান রাখবে বলে উল্লেখ করেন সরকারপ্রধান।

বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বন্ধুত্ব অভিন্ন মূল্যবোধ ও অংশীদারত্বমূলক স্বার্থের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে বলে উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘এটি আমাদের সম্প্রসারিত সার্বিক ব্যবসায়িক সম্পর্কের মধ্যে প্রতিফলিত হয়েছে।’

মার্কিন বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার ও অন্যান্য বাণিজ্য–সুবিধার মাধ্যমে দুই দেশের বাণিজ্য–সম্পর্ক আরও জোরদার করা যেতে পারে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশ একটি উপযুক্ত সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মুক্তবাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু করতে প্রস্তুত।

বাণিজ্য-বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য বাংলাদেশকে অন্যতম সম্ভাব্য অংশীদার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য ইউএস চেম্বারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন শেখ হাসিনা। তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রতিনিধিদলের এই সফরের পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে মতবিনিময়ের ফলে প্রত্যাশিত ব্যবসা থেকে ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব আরও অন্বেষণ হবে। নিশ্চিতভাবে বাণিজ্যের পরিমাণ দ্বিগুণ হবে। উভয় দেশের বেসরকারি খাত উপকৃত হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে ২০২৬ সালে এলডিসি থেকে স্নাতক হওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশের একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হওয়ার আকাঙ্ক্ষা রয়েছে। সে কারণে বাংলাদেশের বন্ধুপ্রতিম দেশগুলো থেকে, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও বেশি বিনিয়োগ প্রয়োজন।

বাংলাদেশকে এখন একটি আকর্ষণীয় বিনিয়োগ–গন্তব্য হিসেবে উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ভৌত অবকাঠামোর পাশাপাশি বাংলাদেশ বিনিয়োগ-ব্যবসাসংক্রান্ত নিয়মকানুন উন্নত ও সহজ করেছে।
সরকারপ্রধান বলেন, ‘দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের সবচেয়ে উদার বিনিয়োগনীতি রয়েছে। বিদেশি বিনিয়োগ সংসদের আইন ও দ্বিপক্ষীয় চুক্তি দ্বারা সুরক্ষিত।’

সম্প্রতি বাংলাদেশের শতভাগ এলাকা বিদ্যুতের আওতায় আনা হয়েছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা কিছু মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে আমাদের সড়ক, রেলপথ ও নৌ যোগাযোগের উন্নয়ন করছি।’

বাংলাদেশ দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী প্রতিনিধিদলকে প্রস্তাব দেন, ‘আপনারা যদি চান, তবে আমরা শুধু মার্কিন বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি জোন নির্ধারণ করে দিতে পারি।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘জনসংখ্যাগত লভ্যাংশ ও দক্ষ জনশক্তির বিকাশে আমাদের ফোকাস নিশ্চিত করে এখানে বিনিয়োগকারীরা প্রতিযোগিতামূলক মজুরিতে দক্ষ মানবসম্পদ পাবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির কৌশল অনুসরণ করছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিবিদ ও সংস্থাগুলো দ্বারা টেকসই হিসেবে স্বীকৃত।

বাংলাদেশে অবস্থানকালে সফররত অতিথিরা নিশ্চিতভাবে মেগা অবকাঠামো প্রকল্পগুলো দেখবেন—উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, এগুলো আরও বেশি বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের বিশ্বস্ত উন্নয়ন অংশীদারদের অন্যতম। বাংলাদেশের আর্থসামাজিক অগ্রগতিতে যুক্তরাষ্ট্র অবদান রেখেছে। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের জন্য এফডিআই ও রপ্তানি বাজারের একক বৃহত্তম উৎস।

শেখ হাসিনা আরও বলেন, গত পাঁচ বছরে রপ্তানির পরিমাণ ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি বেড়েছে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৫ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার থেকে ২০২১-২২ অর্থবছরে রপ্তানির পরিমাণ বেড়ে ৭ দশমিক ৬ বিলিয়ন হয়েছে।

ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের বোর্ড চেয়ার জে আর প্রাইর, বোর্ড সদস্য ও বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের বিজনেস এক্সিকিউটিভরা বৈঠকে বক্তব্য দেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি খাত উন্নয়নবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, অ্যাম্বাসেডর অ্যাট লার্জ এম জিয়াউদ্দিনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমেদ কায়কাউস বৈঠক সঞ্চালনা করেন।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন