মায়ের কোলে সানজিদার লাশ

মায়ের অনুমতি নিয়ে গত বুধবার দুপুরে খেলতে গিয়েছিল ছয় বছরের শিশু সানজিদা আক্তার। দুপুর গড়িয়ে রাত আসে, সানজিদা আর ফেরে না। সময় যত যায়, মায়ের উৎকণ্ঠা তত বাড়ে। মনে প্রশ্ন জাগে, মেয়ে কি ফিরবে? মায়ের কাছে ঠিকই ফেরে সানজিদা, তবে লাশ হয়ে। নিথর মেয়েকে পেয়ে জ্ঞান হারান মা রুবি আক্তার।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে মহাখালীর দক্ষিণপাড়ায় এই হৃদয়বিদারক দৃশ্য দেখা যায়। রুবি আক্তারের চার ছেলেমেয়ের মধ্যে সবার ছোট সানজিদা। বুধবার দুপুরে খাবার খেয়ে তামিম নামে আরেক শিশুর সঙ্গে খেলতে যায় সে। এরপর হঠাৎ পা পিছলে বাসার পাশের নালায় পড়ে যায়। ২০ ঘণ্টা পর গতকাল সকালে সেই খাল থেকে মৃত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।
শিশু তামিম প্রথম আলোকে বলে, নালার পাশে তারা খেলছিল। কিছুক্ষণ পর সানজিদা নালার পানিতে থাকা কলমিশাক তুলতে যায়। এ সময় সে পানিতে পড়ে ডুবে যায়। তামিমের চিৎকারে প্রথমে সানজিদার ভাই রুবেল হোসেন ও পরে প্রতিবেশীরা নালায় নেমে সানজিদার খোঁজ করেন। ঘটনার কিছুক্ষণ আগে বৃষ্টি হওয়ায় নালাটি ছিল পানিতে পরিপূর্ণ, স্রোতও ছিল। এ কারণে সানজিদাকে উদ্ধার করতে পারেননি। পরে খবর দেওয়া হয় ফায়ার সার্ভিসে। বেলা তিনটা থেকে নালায় নেমে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। প্রায় সাড়ে আট ঘণ্টা চেষ্টা করে তাঁরাও ব্যর্থ হন। রাত সাড়ে ১১টার দিকে উদ্ধার অভিযান সকাল পর্যন্ত স্থগিত করা হয়। এরপর সকাল আটটা থেকে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আবার উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। দ্বিতীয় পর্বের অভিযান শুরুর পৌনে দুই ঘণ্টা পর শিশুটির লাশ উদ্ধার করা হয়।
ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা আরিফুজ্জামান শেখ বলেন, সকাল পৌনে ১০টার দিকে সানজিদার লাশ উদ্ধার করা হয়। যেখানে সানজিদা ডুবেছিল, সেখান থেকে প্রায় ১২০ ফুট দূরে নালার ভেতর পরে জমে থাকা আবর্জনার নিচে লাশটি পাওয়া যায়। মুঠোফোনে সানজিদার বাবা শাহ আলম বলেন, দুপুরের দিকে নাখালপাড়া স্টাফ কোয়ার্টার কবরস্থানে সানজিদাকে দাফন করা হয়েছে।
স্থানীয় ব্যক্তিরা অভিযোগ করেন, নালাটিতে ঢাকনা থাকলে এ দুর্ঘটনা ঘটত না। ওয়াসা নালাটির দুই পাড় বাঁধাই করার সময় নালায় ঢাকনা দেবে বলে জানিয়েছিল। এ অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তাকসিম এ খান বলেন, যেখানে পড়ে মেয়েটির মৃত্যু হয়েছে, সেটি একটি খাল। খালটি যাতে দখল না হয়ে যায়, সে জন্য সাত-আট বছর আগে খালের দুই পাড় বাঁধাই করা হয়েছিল। কিন্তু তাতে ঢাকনা লাগানোর কোনো প্রতিশ্রুতি ছিল না। তিনি বলেন, খালে ঢাকনা লাগানো আইনের পরিপন্থী।
সানজিদা পরিবারের সঙ্গে দক্ষিণপাড়ার ৭৩/১২ নম্বরের ছোট্ট একটি টিনশেড বাসায় ভাড়া থাকত। তার বাবা ভ্যানচালক শাহ আলম ৩০ বছর ধরে এই এলাকায় থাকেন। তাঁদের গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে।