default-image

মিয়ানমারের কাছ থেকে চাল কিনছে সরকার। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে চুক্তির মাধ্যমে আমদানির প্রক্রিয়ায় থাকা ১ লাখ টন আতপ চাল এক মাসের মধ্যে দেশে আসতে পারে বলে জানিয়েছেন খাদ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। তাঁরা বলছেন, মিয়ানমারে গত ১ ফেব্রুয়ারি অভ্যুত্থানের পর সামরিক সরকার ক্ষমতা দখল করলেও চাল আসার ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা হবে না।

দেশে আমন মৌসুমে উৎপাদন কম হওয়া ও বাজারে দাম বেড়ে যাওয়ায় খাদ্য মন্ত্রণালয় গত মাসে চাল আমদানির উদ্যোগ নেয়। সরকারিভাবে যেমন আমদানি করা হচ্ছে, তেমনি বেসরকারি খাতকেও কম শুল্কে আমদানির সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত ভারত থেকে ৩ লাখ টন ও মিয়ানমার থেকে ১ লাখ টন চাল আমদানির প্রক্রিয়া এগিয়েছে। ভারত থেকে ১ লাখ টন চাল এসে গেছে।

সরকারের ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি ৩ ফেব্রুয়ারি মিয়ানমার থেকে ১ লাখ টন চাল আমদানির অনুমোদন দেয়। মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় চাল রপ্তানিকারক সংস্থা মিয়ানমার রাইস ফেডারেশন এই চাল বাংলাদেশে পাঠাবে। আসবে সমুদ্রপথে।

এ বিষয়ে খাদ্যসচিব মোছাম্মৎ নাজমানারা খানুম প্রথম আলোকে বলেন, ‘বাংলাদেশের চাল দরকার। যেখান থেকে কম দামে ভালো চাল পাওয়া যাবে, সেখান থেকেই আমরা আনব।’ তিনি বলেন, মিয়ানমার কয়েক দফা চিঠি দিয়ে চাল রপ্তানির আগ্রহ দেখিয়েছে। তাদের আতপ চালের গুণগত মান ভালো। সে অনুযায়ী দামও বেশি নয়।

খাদ্য মন্ত্রণালয় চলতি অর্থবছরে সরকারি ও বেসরকারিভাবে ১০ লাখ টন করে মোট ২০ লাখ টন চাল আমদানির লক্ষ্য ঠিক করেছে। মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, চারটি দেশ থেকে রাষ্ট্রীয়ভাবে বাংলাদেশ চাল রপ্তানির আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছিল। এর মধ্যে সরকার এখন পর্যন্ত ভারত ও মিয়ানমার থেকে চাল আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের রোববারের দৈনিক খাদ্যশস্য পরিস্থিতির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতে বর্তমানে প্রতি টন আতপ চালের দাম ৪০২ ডলার। পাকিস্তানে তা ৪৫৩, ভিয়েতনামে ৫০৬ ও থাইল্যান্ডে ৫৩২ ডলার। মিয়ানমার থেকে আমদানির ক্ষেত্রে প্রতি টন চালের দাম পড়ছে ৪৮৫ মার্কিন ডলার, কেজিপ্রতি ৪১ টাকার কিছু বেশি।

দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছে। এরই মধ্যে গত সপ্তাহে দেশটিতে সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখল করে। সব মিলিয়ে আমদানির প্রক্রিয়ায় থাকা চাল আসবে কি না, অন্য দেশ থেকে আমদানির সুযোগ থাকার পরও মিয়ানমার থেকে চাল আনা উচিত হবে কি না—এসব নিয়ে কারও কারও প্রশ্ন ছিল।

টিসিবির হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে প্রতি কেজি মোটা চালের দাম ৪৪ থেকে ৪৮ টাকা, যা গত বছরের এ সময়ের তুলনায় ৩৫ শতাংশ বেশি। আর খাদ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, সরকারি গুদামে বর্তমানে চাল রয়েছে ৫ লাখ ২৫ হাজার টন।

সাবেক কৃষিসচিব এ এম এম শওকত আলী প্রথম আলোকে বলেন, এমন দুটি দেশ থেকে আমদানির প্রক্রিয়া চলছে, যেখান থেকে চাল আনার পূর্ব অভিজ্ঞতা ভালো নয়। ভারত ও মিয়ানমারের চালের দাম কিছুটা কম। কিন্তু রাজনৈতিক কারণে দেশ দুটির চালের বাজারে প্রায়ই অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। ফলে আমদানির জন্য আরও অন্য দেশের সঙ্গেও কথা বলে রাখা উচিত। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ এরই মধ্যে চাল আমদানির উদ্যোগ নিতে দেরি করে ফেলেছে। গত জুলাই থেকেই বোঝা যাচ্ছিল যে চাল আমদানি করতে হবে। কিন্তু তা না করে জানুয়ারি থেকে আমদানির প্রক্রিয়া শুরু করা হয়।

এদিকে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে আমদানি করা চাল আসতে শুরু করলেও বাজারে তেমন প্রভাব পড়ছে না। দাম কমেছে একেবারেই নগণ্য হারে। অন্যদিকে সরকারের গুদামে চালের মজুতও স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বেশ কম।
সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে প্রতি কেজি মোটা চালের দাম ৪৪ থেকে ৪৮ টাকা, যা গত বছরের এ সময়ের তুলনায় ৩৫ শতাংশ বেশি। আর খাদ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, সরকারি গুদামে বর্তমানে চাল রয়েছে ৫ লাখ ২৫ হাজার টন।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন