বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি চিকিৎসক সারওয়ার আলী বলেন, মুক্তিযুদ্ধ ছিল জনযুদ্ধ। সব শ্রেণি–পেশার মানুষ সমবেতভাবে জীবনপণ না করলে দেশকে শত্রুমুক্ত করা কঠিন হতো। মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের দিন ঘোষণা করা হয়েছে, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের মালিক হবে জনগণ। মানুষের সহায়তায় এ জাদুঘর পরিচালিত হবে।

অনুষ্ঠানে প্রয়াত শিক্ষাবিদ জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের লেখা ও সংগৃহীত বই স্মারক হিসেবে তুলে দেন তাঁর স্ত্রী সিদ্দিকা জামান। ভবিষ্যতে অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের সংগ্রহ থেকে আরও স্মারক উপহার হিসেবে দেবেন বলে জানান তিনি। সিদ্দিকা জামান বলেন, ‘জাদুঘরে বইগুলো দিতে পেরে আমি গর্বিত। আনিসুজ্জামান যেখানেই থাকুক, তিনি এই উদ্যোগ দেখে খুশি হবেন।’

অনুষ্ঠানে আগরতলায় থাকা দুই মেয়েকে লেখা কবি সুফিয়া কামালের একটি চিঠি স্মারক হিসেবে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরকে উপহার দেন কবিকন্যা মানবাধিকারকর্মী সুলতানা কামাল। তিনি চিঠিটি পড়ে শোনান। সুলতানা কামাল বলেন, ‘আমি আজ একটি বিরল কাজ করতে যাচ্ছি। অমূল্য একটি সম্পদ অনন্য প্রতিষ্ঠানকে উপহার দিচ্ছি, যা আমার জীবনে উল্লেখযোগ্য মাইলফলক।’

সুলতানা কামাল দুই বোনের আগরতলা যাওয়াসহ মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলোর স্মৃতিচারণা করেন। তিনি বলেন, ইতিহাস বলে মায়েরা তাঁদের ছেলেদের মুক্তিযুদ্ধে পাঠিয়েছেন। মায়েরা মেয়েদেরও মুক্তিযুদ্ধে পাঠিয়েছিলেন।

মুক্তিযোদ্ধা ও লেখক শাহরিয়ার কবির ১৯৭১ সালে কলকাতা ও দিল্লিতে শিল্পী দেবদাস চক্রবর্তী, শিল্পী নিতুন কুন্ডু, শিল্পী আবুল বারক আলভী, শিল্পী বীরেন সোমসহ খ্যাতনামা শিল্পীদের ‘এক্সিবিশন অব পেইন্টিংস অ্যান্ড ড্রয়িংস বাই আর্টিস্ট অব বাংলাদেশ’ শিরোনামে প্রদর্শনীতে স্থান পাওয়া চিত্রকর্ম থেকে সাতটি দেন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরকে।

শাহরিয়ার কবির বলেন, মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গনের ইতিহাস যেভাবে গুরুত্ব পেয়েছে, প্রচারযুদ্ধ তেমনই উপেক্ষিত থেকেছে। শিল্পীরা তাঁদের কথাগুলো সেভাবে লিখেও রাখেননি। গণযুদ্ধের ইতিহাস সেভাবে লেখা হয়নি। এভাবেই ইতিহাস হারিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে মৌলবাদ, সাম্প্রদায়িকতা এখনো সক্রিয়। তাই মুক্তিযুদ্ধের অর্জনগুলো বারবার বলতে হবে।

শিল্পী বীরেন সোম স্মৃতিচারণা করে বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় তাঁর বয়স ছিল ২২ বছর। কলকাতা আর্ট কলেজের ক্যানটিনে বসে সারা রাত ছবি আঁকতেন। যেসব শিল্পীর কাছে মুক্তিযুদ্ধের স্মারক বা আঁকা ছবি আছে, সেগুলো মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরকে উপহার দেওয়ার জন্য আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে শিল্পী আবুল বারক আলভী এবং অন্য শিল্পীদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে নির্মাণ প্রতিষ্ঠান মীর আক্তার হোসেন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মীর নাসির হোসেন ৬০ লাখ টাকা অনুদান দিয়ে পৃষ্ঠপোষক সদস্যপদ গ্রহণ করেন। তাঁর প্রতিষ্ঠানই মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের নির্মাণকাজ করেছে।

বীর মুক্তিযোদ্ধা ও নাট্যব্যক্তিত্ব প্রয়াত আলী যাকের এবং মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি ও সদস্যসচিব সারা যাকের দম্পতির ছেলে ইরেশ যাকের এবং মেয়ে শ্রিয়া সর্বজয়া মোট ১০ লাখ টাকা অনুদান দিয়ে জীবন সদস্যপদ লাভ করেন। শ্রিয়া সর্বজয়া চেকটি তুলে দেন জাদুঘর কর্তৃপক্ষের সদস্যদের হাতে।

অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি সারওয়ার আলীর মেয়ে চিকিৎসক সায়মা আলী, সাংবাদিক অজয় দাশগুপ্তর মেয়ে শাওলী দাশগুপ্ত বিভিন্ন পরিমাণে অনুদানের টাকা তুলে দেন কর্তৃপক্ষের কাছে। বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মাজিদ চৌধুরী মুক্তিযোদ্ধা ভাতার অর্থ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে দেওয়ার ঘোষণা দেন।

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হক বলেন, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের শক্তি হচ্ছে দেশে-বিদেশে থাকা জাদুঘরের শুভানুধ্যায়ীরা। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের পরিসর বাড়ায় এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি স্মারক সংরক্ষণ করা সম্ভব।

নিউইয়র্ক থেকে মুক্তিযুদ্ধের সুহৃদ ড্যানিয়েল সি ডানহ্যামের স্ত্রী মেরি ফ্রানসিস ড্যানহাম বেসরকারি টেলিভিশন একাত্তরের সিইও সামিয়া জামানের কাছে নানা দলিল ও চিঠিপত্র পাঠিয়েছেন বলে জানান মফিদুল হক।

শহীদ বুদ্ধিজীবী চিকিৎসক আজহারুল হকের স্ত্রী সৈয়দা সালমা হক, শহীদ বুদ্ধিজীবী চিকিৎসক ফজলে রাব্বীর মেয়ে অধ্যাপক নাসরীন সুলতানা, মুক্তিযুদ্ধের সুহৃদ মনোয়ারা বেগমসহ অনেকে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এবং বিভিন্ন স্মারক উপহার দেন।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন