মুন্সিগঞ্জে জমে উঠেছে কোরবানির পশুর হাট

মুন্সিগঞ্জের মীরকাদিম আরএমসি হাট থেকে গতকাল সকাল ১০টার দিকে কোরবানির পশুর ছবিটি তোলা হয় l প্রথম আলো
মুন্সিগঞ্জের মীরকাদিম আরএমসি হাট থেকে গতকাল সকাল ১০টার দিকে কোরবানির পশুর ছবিটি তোলা হয় l প্রথম আলো

মুন্সিগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় কোরবানির পশুর হাট জমে উঠেছে। গতকাল বুধবার পশুর বেচাবিক্রি বেশ জমে ওঠে। তবে গরুর দাম নিয়ে ক্রেতা, বিক্রেতা—উভয়েরই নানা অভিযোগ আছে

গতকাল মুক্তারপুর বিসিক, মিরকাদিম আরএমসি, আবদুল্লাহপুর, সুধাচর ও মুন্সিরহাটে গিয়ে দেখা যায় পশু বেচাকেনার জমজমাট পরিবেশ। হাটে সারি সারি বাঁশের খুঁটিতে বাঁধা রয়েছে হাজারো কোরবানির পশু। গরুর দরদাম নিয়ে হাঁকডাক করছেন ক্রেতা-বিক্রেতারা। অবশ্য গত কয়েক দিন গরুর ব্যাপারী থাকলেও ক্রেতার সংখ্যা ছিল না বললেই চলে।

গরু কিনতে আসা উত্তর ইসলামপুর গ্রামের মো. শামীম বলেন, ‘আমরা যারা কোরবানি দেই, আমাদের অনেকেরই গরু রাখার জায়গা বা গরু পালার অভিজ্ঞতা নেই। তাই প্রতিবছর ঈদের দু-তিন দিন আগেই কোরবানির পশু কিনে থাকি।’

সদরের হাটগুলোতে আসা ব্যাপারী ও ইজারাদারেরা বলেন, গতবারের তুলনায় এবার হাটে গরুর সংখ্যা তুলনামূলক বেশি। গবাদিপশু মোটাতাজাকরণে খরচ বেশি হওয়ায় দামও একটু বেশি। তাঁরা আরও বলেন, হাটে আসা গরুর মধ্যে দেশি জাতের গরুর সংখ্যাই বেশি।

গরু কিনতে আসা সদর উপজেলার নয়াগাঁও এলাকার মো. রিয়াদ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, গতবারের তুলনায় এবার হাটে অনেক বেশি পরিমাণে দেশি জাতের গরু উঠছে। গরুগুলো দেখতেও খুব সুন্দর। কিন্তু দাম একটু বেশি মনে হচ্ছে।

শুক্রবার ঝিনাইদহ থেকে ১৪টি গরু নিয়ে এসেছেন খামারি মো. নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ঝিনাইদহ থেকে মুন্সিগঞ্জের উদ্দেশে গরু নিয়ে আসছিলেন। ঢাকার মোহাম্মদপুরে আসার পর সেখানকার হাটের ইজারাদারেরা তাঁর ট্রাক থামিয়ে হাটে গরু রাখতে চান। এ জন্য তাঁকে দুই ঘণ্টা সেখানে বসে থাকতে হয়। সেখানে অতিরিক্ত গরমে চার লাখ টাকার দুটি ষাঁড় স্ট্রোক করে মারা যায়। মঙ্গলবার বিকেলে তাঁর দুটি ষাঁড় তিন লাখ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর থেকে ২০টি গরু নিয়ে এসেছেন ব্যাপারী আ. মতিন ও আলমাছুর রহমান। তাঁরা বলেন, নৌপথে গরু নিয়ে এসেছেন তাঁরা। সিরাজদিখান উপজেলার তালতলা এলাকার নদীতে এলে পুলিশ তাঁদের কাছ থেকে ট্রলারপ্রতি ২০০ টাকা করে চাঁদা আদায় করেছে।

সিরাজদিখান থানার ওসি মো. আবুল কালাম বলেন, ‘আমার জানামতে, তালতলা নদীপথে থানার কোনো পুলিশ ছিল না। যদি কোনো বিষয়ে আমাদের কাছে অভিযোগ করা হয়, তাহলে আমরা নদীপথে মানুষের সুবিধার জন্য পুলিশ মোতায়েন করব।’

মুন্সিগঞ্জ জেলা রাজস্ব শাখা সূত্রে জানা যায়, এবার জেলায় গতবারের তুলনায় কোরবানির পশুর অস্থায়ী হাটের সংখ্যা কম। গত বছর ছিল ৫০টির বেশি, এবার বসেছে মাত্র ৪২টি।

সদরের ইউএনও সুরাইয়া জাহান বলেন, যেসব পশুর হাটের ডাক (ইজারা) হচ্ছে না, সেগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ইজারা ছাড়া যদি কোথাও হাট বসানো হয় বা হাটে অনিয়মের খবর পাওয়া যায়, তবে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মুক্তারপুর বিসিক হাটের ইজারাদার মো. গোলাম কিবরিয়া বলেন, গত কয়েক দিন নদীপথে ও সড়কপথে সিরাজগঞ্জ, ঝিনাইদহ, খুলনা, রাজশাহী থেকে কোরবানির পশু এসে জড়ো হয়েছে হাটে। ইতিমধ্যে ক্রেতাদের আনাগোনায় হাট জমে উঠেছে। গতকাল সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত তাঁদের হাটে অন্তত ১০০টি গরু বিক্রি হয়েছে। মঙ্গলবার ৪০টির মতো গরু বিক্রি হয়।