default-image

ছুটির দিনে যাঁদের বাজার করার অভ্যাস, তাঁদের পকেটে আজ বাড়তি টাকা থাকতে হবে। এর একটি কারণ হলো গত শুক্রবারও ঢাকার বিভিন্ন বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হয়েছে সর্বোচ্চ ১৫০ টাকায়। এক সপ্তাহ পর আজ শুক্রবারে একই ওজনের মুরগি কিনতে বাড়তি আরও ১০ টাকা খরচ করতে হবে।

নিউমার্কেট কাচাঁবাজারে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে মুরগি কিনতে আসা আজিমপুরের বাসিন্দা সায়মা রহমান বলেন, ‘বাচ্চাদের জন্য বাসায় অন্তত মুরগির একটা পদ রাখতে হয়। কিন্তু মুরগির দাম যেভাবে বাড়ছে, তাতে তো মুশকিলে পড়ে যাব।’

শবে বরাত, রমজান মাস ও ঈদ আসছে। তাই দাম কমার কোনো সম্ভাবনা নেই। শুধু মুরগির দামই যে বাড়তি, তা নয়; বাজারে নতুন ওঠা ঢ্যাঁড়স, পটল, করলার দামও চড়া। চালের বাজারেও সুখবর নেই।

অবশ্য দুই সপ্তাহ ধরেই মুরগির দাম বাড়ছে। বিক্রেতাদের দাবি, পোলট্রি খামারে বাচ্চা মুরগির দাম বেড়ে যাওয়ায় এ অবস্থা হয়েছে। যদিও গত সপ্তাহে বিক্রেতাদের যুক্তি ছিল, বিয়ে, বনভোজনসহ বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান বেড়ে যাওয়ায় মুরগির চাহিদা বেড়েছে। কিন্তু সরবরাহ কম থাকায় দাম বেড়ে গেছে।

বিজ্ঞাপন

সামনে মুরগির দাম কমবে, এমন কোনো আশার কথাও শোনাতে পারেননি খুচরা ও পাইকারি বিক্রেতারা। এর কারণ হিসেবে তাঁরা বলছেন, শবে বরাত, রমজান মাস ও ঈদ আসছে। তাই দাম কমার কোনো সম্ভাবনা নেই। শুধু মুরগির দামই যে বাড়তি, তা নয়; বাজারে নতুন ওঠা ঢ্যাঁড়স, পটল, করলার দামও চড়া। চালের বাজারেও সুখবর নেই।

default-image

গতকাল রাজধানীর নিউমার্কেট কাঁচাবাজার, কারওয়ান বাজার এবং পাড়ার দোকানে দেশি মুরগি বিক্রি হয়েছে ৪৫০-৫০০ টাকায়, কক (সোনালি) বিক্রি হয়েছে ৩২০ টাকা কেজি দরে। ব্রয়লার মুরগির দাম ছিল ১৬০ টাকা। নিউমার্কেট কাঁচাবাজারের মুরগির ব্যবসায়ী শিপন তালুকদার বলেন, খামারে উৎপাদন কম। তাই মুরগি কম আসছে।
অবশ্য মুরগির দাম বাড়লেও ডিমের দাম একই রয়েছে, ডজন ৯০ টাকা।

শীতের সবজির সরবরাহ কমে গেলেই সবজির দাম বেড়ে যাবে
আহাম্মদ আলী, কারওয়ান বাজারের সবজি বিক্রেতা

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় হেঁটে মুরগি বিক্রি করেন সেলিম শেখ। গতকাল দুপুরের দিকে তিনি ছিলেন ধানমন্ডি ৭/এ সড়কের পাশের গিলিতে। দেশি মুরগির দাম জানতে চাইলে বলেন, যা অবস্থা, ৫০০ টাকার কমে (কেজি) মুরগি বিক্রি করলে পোষায় না।

দাম শুনে পাশে থাকা ধানমন্ডির বাসিন্দা মো. সোবহান বলেন, মুরগি আর গরু তো এখন সমান হয়ে গেল। আর ৫০ টাকা দিলেই ১ কেজি গরুর মাংস কেনা যাবে।
পোলট্রি ব্যবসায়ীরা এক দিন বয়সী বাচ্চা মুরগি কেনেন। জানুয়ারি মাসে ২০ থেকে ২২ টাকায় তা কিনতে পারলেও এখন ৫০ টাকা করে কিনতে হচ্ছে বলে জানান টাঙ্গাইলের পোলট্রি ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম।

এদিকে বাজারে চালের দাম আগের মতোই রয়েছে। মোটা চালের কেজি ৪৮-৫০ টাকা, মিনিকেট ৬০-৬৩ টাকা এবং নাজিরশাহ ৬৫-৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

default-image

দাম বাড়ার পর এখন সয়াবিন তেলের বাজার স্থিতিশীল রয়েছে। বোতলজাত সয়াবিন তেলের লিটার কোম্পানিভেদে ১৩০-১৪০ টাকা এবং খোলা তেল ১১৫ থেকে ১২০ টাকা।

শীত বিদায় নিলেও বাজারে শীতের সবজি এখনো প্রচুর। এসব সবজির দাম ক্রেতাদের জন্য বড় স্বস্তি। বেশির ভাগ সবজি পাওয়া যাচ্ছে ২০ থেকে ৪০ টাকার মধ্যে। তবে নতুন যেসব সবজি উঠছে, তার দাম চড়া। ঢ্যাঁড়স, পটল ও করলার কেজি ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কারওয়ান বাজারের সবজি বিক্রেতা আহাম্মদ আলী বলেন, শীতের সবজির সরবরাহ কমে গেলেই সবজির দাম বেড়ে যাবে।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন