বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

প্রথম আলো: আপনি রোহিঙ্গা বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন। সেই নিরিখেই বলছি, এ ঘটনার নেপথ্যের কারণ অনুমান করতে পারেন?

এমদাদুল ইসলাম: পুরো বিষয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তের মধ্যে দিয়ে উঠে আসবে। আমি কিছু অনুমানের কথা বলতে পারি। আমি তিনটি অনুমান করি। একটি হলো অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব। সারা দুনিয়াতেই এই নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব আছে। মুহিবুল্লাহ উপরে উঠে যাচ্ছে, সেই জিঘাংসা থেকে কেউ এটা ঘটাতে পারে। দ্বিতীয়, মুহিবুল্লাহ একধরনের জাতীয়তাবোধের উন্মেষ ঘটানোর কাজে ছিলেন। যাঁরা এই জাতীয়তাবোধের উন্মেষের বাইরে ভিন্ন কিছু ভাবেন, তাঁরাও এটা করতে পারেন। অন্য কিছু বলতে আমি উগ্রতার কথা বলতে পারি। যেখানে জাতীয়তাবোধের উন্মেষ ঘটে, সেখানে উগ্রবাদ কিছু করতে পারে না। তৃতীয়, মহিবুল্লাহ প্রত্যাবাসনের পক্ষে ছিলেন। তিনি এ নিয়ে ভবিষ্যতে আরও সক্রিয় হতে পারতেন। যদি প্রত্যাবাসন হতো তাঁর অবস্থান হয়তো আরও উচ্চকিত হতো। তিনি মিয়ানমারে গিয়ে তাদের নেতা হয়ে কার্যকর ভূমিকা নিতে পারতেন। যেসব দেশ রোহিঙ্গাদের এই প্রত্যাবাসন তৎপরতার পক্ষে নয়, তাদের অন্তর্ঘাতমূলক তৎপরতার বলি হতে পারেন মুহিবুল্লাহ। বাইরের কোনো দেশ এতে জড়িত থাকতে পারে, এটাও ধারণা করা যেতে পারে।

প্রথম আলো: রোহিঙ্গা শিবিরে কিছু সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতার কথা শোনা যায়। এসব কতটুকু সত্য?

এমদাদুল ইসলাম: এটা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। অনেক সময় পত্রপত্রিকায় এ নিয়ে কথা হয়। সেসব শুনে মনে হয়, রোহিঙ্গা শিবিরে বোধ হয় কত সশস্ত্র দল আছে। এখানে কোনো বড় সশস্ত্র দল নেই। তাহলে তো ইনসার্জেন্সি বা গেরিলা তৎপরতা তৈরি হতো। রোহিঙ্গা শিবিরে এত দিনে কয়টি গুলির শব্দ শোনা গেছে? সশস্ত্র তৎপরতার কথা একেবারে ভুয়া। এখানে দু–একটি দেশি অস্ত্র নিয়ে কখনো শিবিরের মধ্যে কিছু সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসবই হয়েছে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে। কিন্তু কোনো সশস্ত্র দল সেখানে নেই। সশস্ত্র দল থাকলে পাঁচ বছরে পাঁচটা হলেও গুলি ফুটত। তা তো হয়নি।

প্রথম আলো: তাহলে শিবিরে ভেতরে মুহিবুল্লাহর হত্যাকাণ্ড কীভাবে হলো?

এমদাদুল ইসলাম: এটা স্পষ্ট যে বাইরে থেকে অনুপ্রবেশকারীরা এ কাজ করেছে। তারা আবার পালিয়েও গেছে। এটাকে অন্তর্ঘাতমূলক তৎপরতাই বলা যায়।

প্রথম আলো: শিবিরের মধ্যে এ ধরনের ঘটনা বন্ধে কী করা যেতে পারে?

এমদাদুল ইসলাম: শিবিরের ভেতরে পর্যবেক্ষণ বাড়াতে হবে। যদি নেতৃত্বের সংঘাতের জন্য এটা হয়, তবে কারা এটা করেছে তা খুঁজে বের করতে হবে। অভ্যন্তরীণ হানানহানির উসকানি কারা দিল তার সন্ধান করতে হবে। আর এটা বের করা জটিল বিষয় না। কারণ, রোহিঙ্গা শিবিরি হাজার মাইল এলাকাজুড়ে থাকা কোনো শিবির নয়। এটি নির্দিষ্ট একটি এলাকা। ঘটনা যেই করে থাকুক, তাকে বা তাদের খুঁজে বের করে কড়া ব্যবস্থা নিতে হবে।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন