সূত্র: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা
সূত্র: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

তিনটি সমস্যা কাটিয়ে উঠতে পারছে না জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি। আন্তর্জাতিক যৌথ পর্যবেক্ষণ মিশন এক দশকের বেশি সময় ধরে এসব সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নিতে সরকারের কাছে একাধিকবার সুপারিশ করেছে। যদিও অগ্রগতি তেমন হয়নি।

যক্ষ্মাবিষয়ক যৌথ পর্যবেক্ষণ মিশনের একাধিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, শিশুদের যক্ষ্মা ঠিকমতো শনাক্ত হচ্ছে না। চিকিৎসকদের ব্যক্তিগত চেম্বারে যাওয়া রোগী জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচিতে যথাযথভাবে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে না। যক্ষ্মা পরীক্ষাগার বা ল্যাবরেটরিগুলো থেকে মানুষ কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছে না। এসব সমস্যার কথা ২০১৯ সালের সর্বশেষ পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা আছে। এর আগে ২০১০ ও ২০১৬ সালের পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনেও এই সমস্যাগুলোর কথা বলা হয়েছিল।

এ বিষয়ে জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির লাইন ডিরেক্টর অধ্যাপক সামিউল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘করোনাকালেও যক্ষ্মা ল্যাবরেটরির সংখ্যা ও পরীক্ষার উল্লেখযোগ্য বিস্তার ঘটেছে। শিশু যক্ষ্মা ও চিকিৎসকদের ব্যক্তিগত চেম্বার থেকে রোগী জাতীয় কর্মসূচিতে যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রগতি আছে। তবে কিছু সমস্যা এখনো রয়ে গেছে।’

বিজ্ঞাপন

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে গতকাল মঙ্গলবার দেওয়া তথ্যে বলা হয়েছে, ২০২০ সালে দেশে নতুন যক্ষ্মা রোগী শনাক্ত হয়েছিল ২ লাখ ৯২ হাজার ৯৪০ জন। গত বছর যক্ষ্মার উপসর্গ থাকা ২৭ লাখ মানুষের কফ পরীক্ষা করা হয়েছে। চিকিৎসায় ৯৬ শতাংশ যক্ষ্মা রোগী সুস্থ হয়ে যাচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে আজ বিশ্ব যক্ষ্মা দিবস পালন করা হবে। যক্ষ্মা দিবসের এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘সময় বয়ে যাচ্ছে’ বা ‘দ্য ক্লক ইজ টিকিং’। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূলের জন্য বিশ্বনেতারা কিছু বৈশ্বিক প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। ২০৩৫ সালের মধ্যে সেসব প্রতিশ্রুতি পূরণ করার কথা। কিন্তু সময় আছে অল্প।

অন্যান্য বছরের মতো এবারও জাতীয়ভাবে বিশ্ব যক্ষ্মা দিবস পালন করবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। তবে স্বাধীনতার ৫০ বছর ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদ্‌যাপন উপলক্ষে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবারের যক্ষ্মা দিবসের প্রতিপাদ্যে কিছু পরিবর্তন এনেছে। তারা দিবসটির প্রতিপাদ্য ঠিক করেছে ‘মুজিব বর্ষের অঙ্গীকার, যক্ষ্মামুক্ত বাংলাদেশ গড়ার’।

যক্ষ্মা দিবস উপলক্ষে আজ বুধবার সকালে রাজধানীতে র‌্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে একই ধরনের কর্মসূচি হওয়ার কথা আছে।

যৌথ পর্যবেক্ষণ মিশন

যক্ষ্মা অনেক পুরোনো ব্যাধি। এর সঙ্গে যুক্ত সমস্যাগুলোও অনেক পুরোনো। স্বাধীনতার আগেই যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু হয়েছিল। জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি শুরু হয়েছিল স্বাধীনতার পর, সত্তরের দশকে। ১৯৯৪ সালের পর থেকে প্রতি তিন বছর পর আন্তর্জাতিক ও দেশি বিশেষজ্ঞদের একটি দল এই কর্মসূচি মূল্যায়ন করে সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনে যক্ষ্মাসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন খাত ধরে সুপারিশ করা হয়। এ পর্যন্ত আটবার এই ধরনের মূল্যায়ন হয়েছে।

সর্বশেষ ২০১৯ সালে এই মিশন প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। মিশন দলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, গ্লোবাল ফান্ড, স্টপ টিবি পার্টনারশিপ, ইউএসএআইডির প্রতিনিধিসহ ১৮ জন আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি ছিলেন। আর দেশি বিশেষজ্ঞ ছিলেন ৪৮ জন। মিশন ১২০ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন দিয়েছিল। প্রতিবেদনে সরকার ছাড়াও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও দাতাদের করণীয় বিষয়ে সুপারিশ করা হয়।

বিজ্ঞাপন

শিশু যক্ষ্মা পরিস্থিতি

প্রতিবেদন বলছে, বাংলাদেশে শিশুদের যক্ষ্মা ঠিকভাবে শনাক্ত হচ্ছে না। দেশের জনসংখ্যা ও যক্ষ্মার প্রাদুর্ভাব ধরে শিশুদের আক্রান্তের একটি প্রাক্কলন করা হয়। এই প্রাক্কলনের তুলনায় মাত্র ৬ শতাংশ শিশুর যক্ষ্মা শনাক্ত হচ্ছে। অর্থাৎ পাঁচ বছরের কম বয়সী ৯৪ শতাংশ (প্রাক্কলনের) শিশুর যক্ষ্মা শনাক্ত হচ্ছে না। শিশুদের যক্ষ্মা অনুসন্ধানের ব্যাপারে জোর দিতে বলেছে মিশন।

২০১০ সালের মিশন প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, বাংলাদেশে শিশু যক্ষ্মাকে অবহেলা করা হয়। বার্ষিক প্রতিবেদনে যক্ষ্মায় আক্রান্ত শিশুদের সংখ্যা উল্লেখ করা হয় না। এরপর শিশু যক্ষ্মা রোগীদের কীভাবে শনাক্ত করতে হবে, তাদের চিকিৎসার জন্য কী করতে হবে, তার সুপারিশ করা হয়েছিল। ২০১৬ সালের মিশন প্রতিবেদনেও শিশু যক্ষ্মা শনাক্ত ও চিকিৎসা বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি করণীয় বিষয়ে ২১টি সুপারিশ করা হয়।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির লাইন ডিরেক্টর অধ্যাপক সামিউল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের যক্ষ্মা শনাক্ত করা একটি বৈশ্বিক সমস্যা। শিশুদের কফ সংগ্রহ করা কঠিন কাজ। অনেক বাবা-মা শিশুদের কফ নেওয়ার বিষয়ে সহযোগিতা করেন না। তবে শিশুদের পরীক্ষা বাড়ানো এবং তাদের চিকিৎসার ব্যাপারে অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।’ তিনি বলেন, শিশুদের যক্ষ্মার ব্যাপারে দেশের শিশু চিকিৎসকদের আরও সহযোগিতা দরকার।

শিশু যক্ষ্মা বিশেষজ্ঞ ও ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিশু বিভাগের অধ্যাপক সাকিল আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, আগে শিশুদের জন্য যক্ষ্মার নির্দিষ্ট ডোজের ওষুধ তৈরি হতো না। বড়দের ওষুধের অংশ তাদের খাওয়ানো হতো। এখন শিশুদের উপযোগী ডোজের ওষুধ পাওয়া যাচ্ছে। এটা চিকিৎসার ক্ষেত্রে বড় অগ্রগতি। তবে রোগ শনাক্তের সমস্যা থেকেই গেছে। সমস্যা দূর করতে কফের নমুনা সংগ্রহের জন্য প্রশিক্ষিত চিকিৎসকের সংখ্যা বাড়াতে হবে।

বেসরকারি খাতের সমস্যা

যক্ষ্মা চিকিৎসা সেবার বড় অংশ আসে বেসরকারি খাত থেকে। সম্ভাব্য যক্ষ্মা রোগীদের একটি বড় অংশ প্রথমে চিকিৎসার জন্য বেসরকারি খাতের চিকিৎসকদের কাছে যান। রোগ শনাক্ত হওয়ার হওয়ার পর অনেকেই ব্যক্তিগতভাবে চিকিৎসা নেন। তাঁদের বড় অংশ জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত হন না। আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআরবি) গবেষণায় দেখা গেছে, রোগ শনাক্ত হওয়ার পর ২০ শতাংশ রোগী বেসরকারি খাতেই চিকিৎসা নেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এতে ঝুঁকি আছে। যক্ষ্মা রোগীদের নির্দিষ্ট সময় ধরে নিয়মিতভাবে ওষুধ সেবন করতে হয়। জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির আওতায় থাকা রোগীরা স্বাস্থ্যকর্মীদের সহায়তায় নিয়মিত ওষুধ সেবন করেন, এতে নজরদারির ব্যবস্থা আছে। কিন্তু বেসরকারি খাতে সেই ব্যবস্থা নেই। কোনো নতুন রোগী পেলে তা সরকারের নজরে আনা বাধ্যতামূলক। ২০১৪ সালে এ ব্যাপারে সরকার গেজেটও প্রকাশ করে। তারপরও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি বলে ২০১৯ সালের যৌথ পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

চিকিৎসকদের ব্যক্তিগত চেম্বারে বা বেসরকারি খাতের রোগীদের নিয়ে সমস্যার কথা ২০১০ ও ২০১৬ সালের প্রতিবেদনেও বলা হয়েছিল। ২০১০ সালের প্রতিবেদনে এ বিষয়ে জাতীয় পর্যায়ে পরিকল্পনা তৈরির কথা বলা হয়েছিল এবং একটি উপদেষ্টা পরিষদ গঠনের কথাও বলা হয়েছিল। ২০১৬ সালের প্রতিবেদনে পেশাজীবী সংগঠনকে যুক্ত করার কথা বলা হয়েছিল। এ ব্যাপারে সামিউল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘এখন প্রতিবছর যে রোগী শনাক্ত হচ্ছে, তার একটি অংশ কর্মসূচির বাইরের চিকিৎসকদের মাধ্যমে হচ্ছে। তবে তাদের কাছ থেকে যে পরিমাণ রোগী কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার কথা, সে পরিমাণ হচ্ছে না। সার্বিকভাবে পরিস্থিতি আশাব্যঞ্জক নয়।’

জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির সঙ্গে এক দশকের বেশি সময় কাজ করা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা বলেন, বেসরকারি খাতের চিকিৎসকদের যুক্ত করতে সৃজনশীল পথে যায়নি সরকার। তাই বছরের পর বছর সমস্যা থেকেই গেছে।

অন্যদিকে সামিউল ইসলাম বলেন, চিকিৎসকেরা যেন রোগী পেলেই জাতীয় কর্মসূচিকে অবহিত করে, সে ব্যাপারে সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে প্রচারণা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।এ ব্যাপারে একটি মুঠোফোন অ্যাপও চালু করা হয়েছে।

পরীক্ষাগার নিয়ে অনেক সুপারিশ

সর্বশেষ মিশন প্রতিবেদনে যক্ষ্মা ল্যাবরেটরি বা পরীক্ষাগার নিয়ে ২৪টি সুপারিশ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, যক্ষ্মা চিকিৎসার প্রাপ্যতা বাড়াতে এবং উন্নত মানের সেবা পেতে দেশের যক্ষ্মা ল্যাবরেটরিগুলোর মধ্যে একটি নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে হবে। যন্ত্রপাতি ঠিক রাখা, কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া, ল্যাবরেটরিগুলোর উপাত্ত ব্যবহার নিয়ে পৃথক পৃথক সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে মানসম্পন্ন পরীক্ষার জন্য ‘জিনএক্সপার্ট’ যন্ত্রের সংখ্যা ও মান বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়। ল্যাবরেটরির মান উন্নয়ন নিয়ে ২০১০ ও ২০১৬ সালেও সুপারিশ করা হয়েছিল।

যক্ষ্মা পরীক্ষার মান ও ল্যাবরেটরির ক্ষেত্রে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন অধ্যাপক সামিউল ইসলাম। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘করোনা মহামারির সময় ২০০টি নতুন জিনএক্সপার্ট যন্ত্র বসানো হয়েছে। বর্তমানে দেশে ৪৫৯টি জিনএক্সপার্ট যন্ত্র, ১ হাজার ১৩৬টি অণুবীক্ষণযন্ত্র এবং ১২৬টি ডিজিটাল এক্স-রে যন্ত্র রোগ পরীক্ষা ও চিকিৎসার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে পরীক্ষার আওতা ও মান—দুটোই বেড়েছে।’

যক্ষ্মা কর্মসূচি বাস্তবায়নে ১৯৯৪ সাল থেকে বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাক সরকারকে সহায়তা করে আসছে। ব্র্যাকের সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির পরিচালক মো. আকরামুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, যৌথ পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন তৈরিতে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট থাকে, অনেক কারিগরি বিষয়ও থাকে। কিন্তু বিভিন্ন দেশের বাস্তবতা ভিন্ন। বাংলাদেশ তার সাধ্যমতো সুপারিশ বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে।

বিজ্ঞাপন

নতুন সমস্যা করোনা

যক্ষ্মা এখনো বাংলাদেশে একটি বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব অনুযায়ী দেশে মোট যক্ষ্মা রোগী ৩ লাখ ৬১ হাজার। আর যক্ষ্মায় বছরে প্রায় ৩৯ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। শনাক্ত হওয়া রোগীদের ৮১ শতাংশ চিকিৎসাসেবা পায়, ১৯ শতাংশ চিকিৎসার বাইরে থেকে যায়। অন্যদিকে যারা চিকিৎসাসেবা পাচ্ছে, তাদের ৬ শতাংশের চিকিৎসা সফল হচ্ছে না।

এই পরিস্থিতিতে করোনা মহামারি জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচিকে বাধাগ্রস্ত করেছে। একদিকে মানুষ সেবা নেওয়ার জন্য কম আগ্রহ দেখায়, অন্যদিকে স্বাস্থ্যকর্মীরাও সেবাকেন্দ্রে যাওয়া থেকে বিরত থাকে। জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির মূল্যায়ন বলছে, ২০২০ সালের মার্চ থেকে মে মাসের মধ্যে সব ধরনের প্রশিক্ষণ স্থগিত হয়ে যায়, স্থানীয় অঘোষিত ‘লকডাউন’ ও যানবাহনের স্বল্পতার কারণে কিছু কর্মী কর্মস্থলে উপস্থিত হতে পারেননি। কফ সংগ্রহ বা রোগ শনাক্তকরণ স্থগিত হয়ে যায়। একই কারণে জেলা পর্যায়ের সব পাক্ষিক সভা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মাঠপর্যায়ের নজরদারি ও তত্ত্বাবধানকাজ ঠিকমতো হয়নি। ফলে এই সময় ৭৭ হাজার আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত করতে পারেননি জাতীয় কর্মসূচির কর্মীরা।

তবে করোনার ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে জাতীয় কর্মসূচি। কর্মসূচির লাইন ডিরেক্টর সামিউল ইসলাম বলেন, ‘গত বছরের জুন-জুলাই থেকে কর্মসূচি আবার গতি ফিরে পেয়েছে। আশা করি, ২০২১ সালের সব লক্ষ্যমাত্রা আমরা অর্জন করতে পারব।’

এদিকে তিন সপ্তাহ ধরে দেশে করোনা সংক্রমণ আবার বাড়তে দেখা যাচ্ছে। সংক্রমণ পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, তা কেউ অনুমান করতে পারছেন না। পরিস্থিতির অবনতি হলে মানুষ আবার সেবা নেওয়া থেকে দূরে থাকবে, সেবাকেন্দ্রে স্বাস্থ্যকর্মীর উপস্থিতিও কমে যাবে। আবারও ঝুঁকির মুখে পড়বে জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন