তারা সুবিধাবঞ্চিত। নিজের কথা বলার জায়গা নেই। বলার সুযোগও তাদের কেউ দিতে চায় না। সমাজের নানা অসংগতি, সহিংসতার বিরুদ্ধে তাদেরও বলার আছে, প্রতিবাদ জানানোর ভাষা রয়েছে।
দেশ নিয়ে, সমাজ নিয়ে নিজের মনের কথা জানাতে তারা যেন বেছে নিয়েছে যেমন খুশি তেমন সাজো প্রতিযোগিতাকে। তাই তো কেউ সেজেছে পেট্রলবোমায় দগ্ধ শিক্ষার্থী, কেউবা অ্যাসিডদগ্ধ মেয়ে।
কক্সবাজার শহরের বাইপাস সড়কের দক্ষিণ পাশে পাহাড়ঘেরা উত্তরণ স্কুল অ্যান্ড কলেজ। চারদিকের কয়েক বর্গকিলোমিটার এলাকার দুর্গম পাহাড়ে বসবাসরত সুবিধাবঞ্চিত সাত শতাধিক ছেলেমেয়ের লেখাপড়ার জন্য এটি একমাত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। গতকাল রোববার ছিল বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা।
যেমন খুশি তেমন সাজো প্রতিযোগিতায় বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র মিজানুর রহমান মাথা, হাত-পা ও শরীরে সাদা ব্যান্ডেজ বেঁধে মাঠে হাজির। মিজানুর বলে, ‘পেট্রলবোমা আতঙ্কে ভুগছে সবাই। কেউ বাদ যাচ্ছে না। পেট্রলবোমা থেকে শিক্ষার্থীদের সাবধান করতে এমনটা সেজেছি। আমরা পেট্রলবোমার আঘাতে আর কোনো মায়ের বুক খালি দেখতে চাই না।’
চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী হিরার কালো সাজের কারণ, ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ীদের দমন করবে সে।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি কক্সবাজারের পুলিশ সুপার শ্যামল কুমার নাথ বলেন, দুর্গম পাহাড়ে আলো ছড়াচ্ছে উত্তরণ স্কুল। পাহাড়ের ভেতরে এই স্কুল প্রতিষ্ঠা করা না হলে এসব শিশু-কিশোরেরা হয়তো অপরাধে জড়িয়ে পড়ত। এখন শিক্ষায় নিজেকে আলোকিত করার সুযোগ পাচ্ছে তারা।
উত্তরণ গৃহায়ণ সমবায় সমিতির সভাপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বার্ষিক ক্রীড়া ও পুরস্কার বিতরণী সভায় বক্তব্য দেন কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তোফায়েল আহমদ, কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শহিদুল ইসলাম, কক্সবাজার বায়তুশ শরফ কমপ্লেক্সের মহাপরিচালক এম এম সিরাজুল ইসলাম, কক্সবাজার সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. নাছির উদ্দিন, মহেশখালী সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক নাজিম উদ্দিন, কক্সবাজার বায়তুশ শরফ জব্বারিয়া একাডেমির প্রধান শিক্ষক মো. ছৈয়দ করিম, মুক্তিযোদ্ধা এস এম কামাল, জেলা শিল্পকলা একাডেমীর সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ পাল প্রমুখ।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন