৯ অক্টোবর পাকিস্তানি সরকার পেশোয়ারে ব্ল্যাকআউট চলবে বলে ঘোষণা দিলে প্রথমবারের মতো পরিস্থিতির গুরুত্ব জনগোচরে আসে; দ্বিতীয়বারের মতো এই ঘোষণা দেওয়া হয় যখন ইয়াহিয়া ‘পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতীয় আগ্রাসনের সমূহ সম্ভাবনা’র উল্লেখ করে ভারতীয় পদাতিক, সশস্ত্র ও আর্টিলারি ইউনিটের কার্যক্রমের কথা জানান। ১২ অক্টোবর সন্ধ্যায় ইয়াহিয়া একটি আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন, যার উদ্দেশ্য ছিল দেশে ও বহির্বিশ্বে উদ্বেগ কমানো এবং ইতিবাচক রাজনৈতিক পরিবর্তন নিশ্চিত করা। ঘোষণায় বলা হয় যে ২০ ডিসেম্বর জনসমক্ষে সংবিধান প্রকাশিত হবে, জাতীয় সংসদের উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ২৩ ডিসেম্বর আর ২৭ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ অধিবেশনে বসে সংবিধানের খসড়া সম্পাদনা করবে এবং বেসামরিক সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করবে। অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকে সীমান্তের উভয় পাশেই সংকেতগুলো অস্পষ্ট হতে থাকে। ১৭ অক্টোবর ইয়াহিয়া উভয় পক্ষ থেকে সেনা প্রত্যাহারের প্রস্তাব দেন; অথচ পাঁচ দিন পরেই পাকিস্তান বিমানবাহিনীকে সতর্ক সংকেত দেওয়া হয়, সৌদি আরবে প্রশিক্ষণরত পাইলটদের ফেরত আনা হয়। ব্ল্যাকআউট আর সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে লোকজনকে সরিয়ে আনা ছাড়াও ২৪ অক্টোবর সরকার ঘোষণা করে যে আজানের সময় করাচিতে সাইরেন ব্যবহৃত হবে না।

অক্টোবরের শেষ নাগাদ ইন্দিরা গান্ধী ইউরোপ ও আমেরিকার উদ্দেশে রওনা দেওয়ার প্রাক্কালে পাকিস্তানে যুদ্ধের কথাবার্তা শুরু হয়। নেতৃস্থানীয়দের মধ্যে কাইয়ুম বলেন যে ভারত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অঘোষিত যুদ্ধ আরম্ভ করেছে। মিসেস গান্ধী যাওয়ার এক সপ্তাহের কম সময়ের মধ্যে রেডিও পাকিস্তান প্রচার করে যে ভারতীয় বাহিনী পাকিস্তান আক্রমণের জন্য জমায়েত হয়েছে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছিল, ভারতের মজুত সৈন্যদের ডাকা, বিএসএফের সব সদস্যের ছুটি বাতিল করা এবং বিদেশযাত্রার আগে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবদের সঙ্গে বৈঠক পরিস্থিতির সংকটই প্রমাণ করে। নিউজউইক–এর সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে ইয়াহিয়া জানান যে তিনি পাকিস্তানের সঙ্গে সংঘাত বাড়াতে চান না, কিন্তু ভারত যদি পূর্ব পাকিস্তানে ‘পুতুল’ সরকার বসাতে চায়, তাহলে যুদ্ধ হবে। তিনি মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে আরও জানান যে সংকট মোকাবিলার প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে একপক্ষীয় সেনা প্রত্যাহারে তিনি রাজি আছেন এবং তবে এও বলেন যে ‘উপমহাদেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জন্য আমি আমার সামর্থ্যের সবটুকু করব শুধু পাকিস্তানকে ভারতের হাতে তুলে দেওয়া ছাড়া।’ ইয়াহিয়া অবশ্য মুজিবকে মুক্ত করতে বা বড় ধরনের অপরাধে অভিযুক্ত আওয়ামী সংসদ সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে প্রস্তুত ছিলেন না। শেষ অবধি তিনি এই অবস্থানেই অবিচল থাকেন।

যুদ্ধের সিদ্ধান্ত

সীমান্ত সংঘাত বৃদ্ধিতে ভারতের প্রত্যক্ষ আগ্রহের কারণে ‘আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা’ই ছিল যুদ্ধ এড়ানোর একমাত্র পথ। পাকিস্তানিরা আন্তর্জাতিক মহলের সামনে পরিস্থিতির গুরুত্ব নাটকীয়ভাবে উপস্থাপন করতে থাকে এবং বোঝাতে থাকে যে তারা আঞ্চলিক সংকট কমাতে চায়। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুলতান মোহাম্মদ খান ইন্দিরা গান্ধীর যাত্রাপথ অনুসরণ করে পশ্চিমা রাজধানীগুলোতে পরিস্থিতির ভয়াবহতার বিবরণ দেন। তিনি নিউইয়র্ক, অটোয়া ও প্যারিসে জনসমক্ষে ঘোষণা দেন যে প্রতিদিনই যুদ্ধের সম্ভাবনা বাড়ছে এবং ভারত–পাকিস্তানের মধ্যকার পরিস্থিতি ‘সংঘাতপূর্ণ’ থেকে পাল্টে ‘যুদ্ধাবস্থা’ই পরিবর্তিত হয়েছে; তিনি বলেন যে পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ভারতের মাথাব্যথা নয়।

১৯ নভেম্বর জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে ইয়াহিয়া বলেন যে পাকিস্তান তার ‘সম্মান ও অখণ্ডতা যেকোনো মূল্যে রক্ষা করতে’ প্রস্তুত। তিনি আরও বলেন ‘ভারত ও পাকিস্তান নিজেদের সামর্থ্য ও সম্পদ একে অন্যের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারণ করতে গিয়ে অপচয় করছে, যা আসলে স্বাধীনতার প্রকৃত সুফল ভোগ করার জন্য ব্যবহার করা উচিত ছিল।’ তিনি ইঙ্গিত করেন যে তিনি ভারতের দিকে ‘বন্ধুত্বের হাত’ বাড়াতে চান। ভারতকে তিনি তা গ্রহণ করে ‘সৎ প্রতিবেশীর সম্পর্ক তৈরিতে নতুন যুগের সূচনা ঘটানো’র আমন্ত্রণ জানান। ভারতের সিদ্ধান্তপ্রণেতাদের কাছে এই আমন্ত্রণ অবোধ্য ও অবাস্তব ঠেকে। এতে পাকিস্তানিদের দিক থেকে পরিস্থিতি সম্পর্কে যথেষ্ট গুরুত্বের অভাব অথবা ভারতের পূর্ব ও দক্ষিণ–পূর্ব রাজ্যগুলোর মধ্যকার অভ্যন্তরীণ শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার জন্য জন্য করণীয় সম্পর্কে ভ্রান্ত ধারণা প্রতিফলিত হয়।

পাকিস্তান সরকারের দিক থেকে তাদের দেওয়া ঘোষণা আর কার্যকলাপের মধ্যে সামঞ্জস্যের অভাব দেখা যায়। কী করতে হবে, সে বিষয়ে তারা কিছুই বলে না; ভারত তাদের বিশ্বাস করেনি, তাদের কার্যকলাপ, আনুমানিক উদ্দেশ্য আর সামর্থ্য সম্পর্কে ভারত যা ভাবে, তার সঙ্গে পাকিস্তান খাপ খায়নি। নভেম্বরের ২১ তারিখে যশোর, কুমিল্লা, সিলেট ও পার্বত্য চট্টগ্রামে ভারতের অনুপ্রবেশের মাধ্যমে উচ্চপদস্থ সামরিক নেতাদের মধ্যকার বিভাজন স্পষ্ট হয়ে ওঠে। আগের সেনানায়ক ঘোষণা দেন, যুদ্ধ শুরু হয়েছে, ভারত অনুপ্রবেশ করেছে, পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তান থেকে দাপ্তরিক আদেশ কার্যকর করতে হবে। এই পর্যায়ে দুই দিককার যোগাযোগ হয় মূলত টেলেক্সের মাধ্যমে। হেডকোয়ার্টারগুলোতে টেলিফোন ব্যবহৃত হতো। ডিসেম্বরের ৩ তারিখ যুদ্ধ ঘোষিত হওয়ার পর যোগাযোগ বিলম্বিত এবং নিয়মিত বন্ধ হয়ে যেতে থাকে, বার্তাগুলোর অর্থ উদ্ধার করা কঠিন হয়ে পড়ে। সর্বাধিনায়ক এবং তাঁর নিকটতম উপদেষ্টা মনে করেন যে ভারতের ২১ নভেম্বরের পদক্ষেপটি সীমিত আকারের ছিল; কিন্তু বুঝতে পারেন একে আন্তর্জাতিক মহলের সামনে নাটকীয়ভাবে উপস্থাপন করতে হবে, যাতে বিশ্বের পরাশক্তিগুলো ভারতের ওপর কড়া নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। যুদ্ধ ঘোষণা করলে পাকিস্তানিদের কোনো লাভ হবে না, তাদের কৌশল ছিল যুদ্ধ এড়িয়ে কূটনৈতিকভাবে ভারতকে মোকাবিলা করা।

পূর্ব ও পশ্চিমের সেনা কর্মকর্তাদের ভারতের সঙ্গে যুদ্ধে জড়ানোর প্রবল ইচ্ছা সম্পর্কে জানা যায়। ২২ নভেম্বর শিয়ালকোটের সেনাবাহিনী পরিদর্শনে গেলে ইয়াহিয়াকে ‘আল্লাহু আকবর’ ধ্বনিতে স্বাগত জানানো হয়। তিনি ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধ কোনো সমাধান নয় বলে মতামত ব্যক্ত করার সময় এ–ও বলেন যে যুদ্ধ অবশ্যম্ভাবী হলে পাকিস্তান অবশ্যই লড়বে এবং শত্রুকে পরাভূত করবে। সেই বিকেলে ফেরার সময় সেনাপ্রধান গুল হাসান ও বিমানবাহিনীর সর্বাধিনায়ক এয়ার মার্শাল রহিম খানের সঙ্গে ইয়াহিয়া ও হামিদের হেলিকপ্টার ল্যান্ডিং প্যাডে সাক্ষাৎ হয়। তাঁরা ইয়াহিয়া ও হামিদকে অন্যান্য সেনাসদস্যের সঙ্গে দেখা করে পূর্ব পাকিস্তানের পরিস্থিতি সম্পর্কে তাঁদের অবহিত করার অনুরোধ জানান। কর্মকর্তাদের মধ্যে অস্বস্তি বিরাজ করছিল। পরস্পরবিরোধী অনেক গুজব তাঁরা শুনছিলেন, যা কিনা গোলমেলে ঠেকছিল। ইয়াহিয়া ও হামিদ এই প্রস্তাবে সম্মত এবং জেনারেল হেডকোয়ার্টারে তাঁদের সঙ্গে দেখা করেন সেই সন্ধ্যায়। এই দুই বৈঠকেই সেনাসদস্যরা যুদ্ধ ঘোষণার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন। তাঁরা মনে করেন, এটি পাকিস্তানের জন্য ‘সম্মান, প্রয়োজন এবং বিচক্ষণতা’র ব্যাপার। অবশ্য ইয়াহিয়া আর হামিদ এমন সিদ্ধান্ত বাতিল করে দেন এবং বলেন যে ভারতীয় সীমান্তে সংঘাত বাড়িয়ে যুদ্ধের অজুহাত তৈরি করছে বেশ কয়েক মাস ধরেই। তাহলে কেন কেবল ট্যাংক আর সৈন্যরা সীমান্ত পেরিয়েছে বলেই এমন চরম সিদ্ধান্ত নিতে হবে? এত বড় মাত্রায় না হলেও এই ঘটনা আগেও ঘটেছে, তখন পাকিস্তান যুদ্ধের কথা ভাবেনি।

প্রেসিডেন্ট বলেন, যুদ্ধের বদলে এটিকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে হবে। তাঁর কথায় বোঝা যায় যে তিনি মনে করছেন, প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্র আর জাতিসংঘের হস্তক্ষেপে ভারতকে বিরত করা সম্ভব হবে। ইয়াহিয়া ও হামিদ একেই বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত বলে মনে করেন, কিন্তু অন্য কর্মকর্তাদের কাছে একে অসাড়তা আর বৈকল্যের পরিচয় বলে মনে হয়।

ভারতীয় অনুপ্রবেশের কিছুদিন পর জেনারেল হামিদ বিমানবাহিনী ও নৌবাহিনীর প্রধানসহ আর সব সেনা কর্মকর্তাকে ডেকে বলেন, ভারতের সঙ্গে যুদ্ধ অবশ্যম্ভাবী বলে মনে হচ্ছে। তিনি প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেন এবং দ্রুত যুদ্ধের তারিখ জানানো হবে বলে তাঁদের অবহিত করেন। জাতীয় পর্যায়ে জরুরি অবস্থা জারি করা, জুনিয়র কমিশন থেকে মেজর পর্যন্ত ছুটিতে থাকা সব সেনাসদস্যকে তলব করার ফলে বোঝা যায়, ওপরের মহল পরিস্থিতিকে কতটা গুরুত্বসহকারে দেখছে। জাতীয় বেতারে ঘোষণা দেওয়া হয়, জরুরি ভিত্তিতে কমিশন সার্ভিসে চিকিৎসক প্রয়োজন। বিমানবাহিনীকে দ্বিতীয় পর্যায়ের সতর্কসংকেত দেওয়া হয়। সব ঘাঁটিতে ১০টি যুদ্ধবিমানকে সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়। ২৬ নভেম্বর দুপুরের মধ্যে লাহোর সেনানিবাসে পৌঁছানোর শর্তে বেসামরিক ট্রাক রিকুইজিশন দেওয়া হয়।

জেনারেল হামিদ ও নিয়াজির মধ্যে নভেম্বরের শেষ দিকে যেসব বার্তা বিনিময় হয়, তাতে যুদ্ধপ্রস্তুতি সম্পর্কে তাঁদের দৃঢ় সংকল্পের প্রকাশ ঘটে। নিয়াজি হামিদের কাছ থেকে যে বার্তা পান তাতে বলা হয়, ‘পূর্ব পাকিস্তানের শত্রু মোকাবিলা করায় আপনাকে নিয়ে পুরো জাতি গর্বিত, আপনার প্রতি তাদের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। শত্রুদের হীন চক্রান্ত ব্যর্থ করে দিতে আপনার বাহিনী যে বীরত্ব দেখিয়েছে, সে জন্য দেশবাসী আপনার প্রতি কৃতজ্ঞ। আপনি এই মহান দায়িত্বে নিষ্ঠাবান থাকুন এবং শত্রুদের সম্পূর্ণরূপে পরাভূত করে আমাদের পুণ্যভূমিকে শত্রুমুক্ত করুন।আল্লাহ আপনার সহায় হোন।’

নিয়াজি উত্তর দেন, ‘পুনরায় নিশ্চিত করতে চাই যে ইতিহাসের এই সংকটময় সন্ধিক্ষণে আমাদের ওপর আস্থা ও অর্পিত মহান দায়িত্বের প্রতি পূর্ণ সম্মান রাখতে অঙ্গীকারবদ্ধ এবং আমাদের পুণ্য পিতৃভূমিকে রক্ষা করার জন্য কোনো ত্যাগ স্বীকারেই পিছপা হব না ইনশাল্লাহ। আল্লাহর কৃপায় ভারতের প্রাথমিক আক্রমণ প্রতিহত করা গেছে। সৃষ্টিকর্তা চাইলে আমরা এই যুদ্ধ ভারতের মাটিতে নিয়ে যাব আর ইসলামের সর্বোচ্চ ক্ষমতাবলে অবিশ্বাসীদের সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করব। প্রার্থনা করুন এবং ভরসা রাখুন, শেষ পর্যন্ত জয় আমাদেরই হবে ইনশা আল্লাহ।’

পাকিস্তান যুদ্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় তিনটি বিষয় বিবেচনা করেছিল, পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমে পাকিস্তান সেনাবাহিনী সম্পর্কে নেতিবাচক প্রচারণা, যা সামরিক নেতাদের গায়ে লাগছিল। ‘জড়বুদ্ধি’ ও ‘অথর্ব’ ভারতের সামনে ক্ষমতাহীন হিসেবে তৈরি হওয়া ভাবমূর্তি। ঘোষণার সঙ্গে কার্যকলাপের অসংগতি, পাকিস্তানের মাটিতে ভারতের অনুপ্রবেশ সহ্য করা হবে না, এটা ঘটলে যুদ্ধ নিশ্চিত—এমন কথা বলে বলে আসলে সহ্য করে যাওয়ার ব্যাপারটিই অসহনীয় হয়ে উঠেছিল।

দ্বিতীয়ত, ভারতের আগ্রাসন সীমিত আকারের হওয়াতে আন্তর্জাতিক মহলের পক্ষ থেকে ভারতের ওপর চাপ আসার পর্যায়ে যায়নি। এই প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে যুদ্ধের দরকার ছিল।

তৃতীয়ত, এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়টি প্রভাবিত হয়েছিল ভুট্টোর দৃঢ় সমর্থনের মাধ্যমে। ভুট্টো নভেম্বরের শেষে ইয়াহিয়ার সঙ্গে এক বৈঠকে ইন্দিরা গান্ধী পাকিস্তানি সামরিক নেতাদের সঙ্গে কী কী করছেন, তার বিবরণ দিয়ে বলেন যে এক্ষুনি ভারতের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে ইয়াহিয়া ‘জনগণের রোষানলে পড়বেন’।

৩০ নভেম্বর ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করা হয় এবং ডিসেম্বরের ২ তারিখ ডি ডে হিসেবে নির্ধারণ করা হয়।

সূত্র: ওয়ার অ্যান্ড সিসেশন: পাকিস্তান, ইন্ডিয়া অ্যান্ড দ্য ক্রিয়েশন অব বাংলাদেশ, রিচার্ড সিসোন ও লিও ই রোজ, ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া প্রেস ১৯৯০

রিচার্ড সিসোন যুক্তরাষ্ট্রের ইউসিএলএ: সেন্টার ফর ইন্ডিয়া অ্যান্ড সাউথ এশিয়ার রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর ইমেরিটাস এবং লিও ই রোজ যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া ইউনিভার্সিটির রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর ইমেরিটাস

অনুবাদ: উম্মে ফারহানা

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন