বিজ্ঞাপন

আব্দুল মোমেন বলেন, ‘আমি ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করকে ফোন করেছিলাম। ভারত কখনোই বলেনি যে টিকা দেবে না। তবে তারা দিতে পারছে না। আমি এর আগে চিঠিও দিয়েছি। আমি ওই দিন বলেছি যে আমরা ঝামেলায় পড়েছি। আমাদের ১৫ লাখ লোক দ্বিতীয় ডোজ টিকার জন্য আটকে গেছে। টিকা রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা থাকলে প্রয়োজন হলে আমাদের উপহার হিসেবে দিন। কারণ, এর আগে আপনারা আমাদের উপহার দিয়েছিলেন।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘জয়শঙ্কর বললেন, “আমি আপনাদের অবস্থা জানি। আপনিও আমাদের অবস্থা জানেন। দিনে চার হাজারের বেশি লোক মারা যাচ্ছে। চার লাখের বেশি লোক সংক্রমিত হচ্ছে। সেরামের উৎপাদন করার ক্ষমতা ছিল ২০ কোটি। কিন্তু ১০ কোটিও উৎপাদন করতে পারছে না। আমাদের অবস্থা শোচনীয়।” আমি বললাম, আমাদের অবস্থা আরও খারাপ। কারণ, ১৫ লাখ লোক টিকা না পেলে সবকিছু নষ্ট হয়ে যাবে। যেকোনোভাবে টিকা সরবরাহ করার কথা বলেছি।’

আব্দুল মোমেন বলেন, ‘জয়শঙ্কর আমাকে জিজ্ঞাসা করেছেন, অন্য জায়গা থেকে আমরা টিকা আনার চেষ্টা করছি কি না। আমি বললাম, আমরা যুক্তরাষ্ট্রকে বলেছি। কোভ্যাক্সকে আপনারা দিচ্ছেন না বলে সেখান থেকে পাচ্ছি না। যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ভারতের প্রভাব রয়েছে। আমি জয়শঙ্করকে অনুরোধ করেছি তাদেরকে আমাদের টিকা দেওয়ার জন্য বলতে।’

ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটে উৎপাদিত অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার করোনাভাইরাসের টিকা দিয়ে গত ৮ ফেব্রুয়ারি দেশে গণটিকাদান কর্মসূচি চালু করা হয়েছিল। সেরাম ইনস্টিটিউট থেকে তিন কোটি ডোজ টিকা আনার বিষয়ে চুক্তি হয়েছিল। চুক্তি অনুযায়ী ছয় মাসে এসব টিকা আসার কথা ছিল। তবে সেরাম ইনস্টিটিউট থেকে দুই চালানে মোট ৭০ লাখ টিকা পেয়েছে বাংলাদেশ। এর বাইরে ভারত সরকারের উপহার হিসেবে পাওয়া গেছে ৩৩ লাখ ডোজ টিকা। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়ায় গত মার্চে টিকা রপ্তানিতে বিধিনিষেধ আরোপ করে ভারত। এতে বাংলাদেশ টিকা পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছে। ইতিমধ্যে যাঁরা টিকার প্রথম ডোজ নিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে প্রায় ১৫ লাখ মানুষের দ্বিতীয় ডোজ পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন