বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

এই ব্যবসায়ীর নাম আরাফাত রুবেল। সওদাগর অ্যাগ্রো নামের তাঁর একটি গরুর খামার রয়েছে। করোনাকালে বিপাকে পড়েছিলেন খামারের উৎপাদিত দুধ নিয়ে। দুধের বিকল্প বাজার খুঁজতে গিয়ে নিজেই শুরু করেছেন রসগোল্লার কারবার। সম্প্রতি রাজশাহী নগরের ভদ্রা রেলগেট এলাকায় ‘রসগোল্লা’ নামেই একটি বিক্রয়কেন্দ্র খুলেছেন। সেখানে বরিশালের মৃৎশিল্পীদের হাতে বানানো মাটির হাঁড়ি ভরা রসগোল্লা শিকায় করে তুলে দিচ্ছেন ক্রেতার হাতে।

শৌখিন ব্যবসায়ী আরাফাতের দেশ-বিদেশ ঘুরে বেড়ানোর নেশা রয়েছে। সেই সঙ্গে বিভিন্ন শহরের রসগোল্লা চেখে দেখারও বাতিক রয়েছে। সেই সব অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এই উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। সাধারণ রসগোল্লার পাশাপাশি তৈরি করেছেন কলকাতার রসগোল্লা, নারকেল দিয়ে তৈরি কাশ্মীরি রসগোল্লা। আর বিশেষ আইটেম হিসেবে করেছেন আম, কমলা, খেজুরের গুড় (নলেন গুড়) ও কাঁচা মরিচের রসগোল্লা। আমের ফালির মতো আরাফাতের রসগোল্লায় কমলা ও কাঁচা মরিচ যেন তাকিয়ে রয়েছে। নতুন জিনিস হিসেবে মানুষ সেটা পরখ করে দেখছেন। আমের মিষ্টি এক ফালি ৪০ টাকা, খেজুর গুড়ের মিষ্টি ২৫ টাকা ও মরিচের রসগোল্লা ৩০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে।

কয়েক দিন আগে তাঁর বিক্রয়কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে তরুণ-তরুণীদের ভিড় বেশি। তাঁরা একটি মাটির হাঁড়ি নিয়ে বাইরে দাঁড়িয়ে মিষ্টি খাচ্ছেন। ফেসবুকে এই ব্যতিক্রমী মিষ্টির খবর শুনে বরিশাল থেকে এসেছিলেন একটি বেসরকারি সংস্থার কর্মকর্তা আরিফুর রহমান। তিনি বিভিন্ন পদের পাঁচ কেজি মিষ্টি কিনলেন। তিনি বললেন, এই মিষ্টি খেয়ে তাঁর অভিনব মনে হয়েছে। তাই বাড়ির জন্য নিয়ে যাচ্ছেন।

default-image

একটি ডেভেলপার কোম্পানির কর্মকর্তা মিজানুর রহমান কাজী আমের মিষ্টি খেয়েছেন। তিনি বললেন, তাঁর ভালো লেগেছে। তাই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের তাঁর বিভাগের বন্ধুদের ‘গেট টুগেদার’-এর জন্য তিনি সাত কেজি রসগোল্লা কিনেছেন। তিনি বলেন, আরাফাতের সব রসগোল্লার আইটেমই ব্যতিক্রমী।

খেজুর গুড়ের মিষ্টি খেয়েছেন রাজশাহী নগরের লক্ষ্মীপুর বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষক ফারুক হোসেন। তিনি বলেন, খেজুর গুড়ের ঘ্রাণটা তার বরাবরই প্রিয়। এই মিষ্টির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে খাঁটি দুধের ছানার স্বাদ। দুইয়ে মিলে রসগোল্লাটা মজার হয়েছে।

ব্যতিক্রমী রসগোল্লা তৈরির ব্যাপারে জানতে চাইলে আরাফাত বলেন, ‘করোনাকালে বিধিনিষেধের মধ্যে শহরের গরুর খামারগুলো হুমকির মুখে পড়ে। বিশেষ করে দুধ নিয়ে খামারিরা চরম বিপাকে পড়েন। তখন বন্ধু রবিউল আর তিনি নতুন আইডিয়া বের করেন। নিজেরাই দুধ থেকে ছানা কেটে মিষ্টি তৈরি করে অনলাইনে বাড়ি বাড়ি বিক্রি শুরু করেন। সেই চিন্তা থেকে প্রথমে তাঁরা তৈরি করেন খেজুরের গুড়ের মিষ্টি। সেটা অনলাইনে স্থানীয় রাইডার দিয়ে বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেন। তাতে ভালো সাড়া পান। তারপর ঐতিহ্য নিয়ে কাজ করার চিন্তা করেন। সেই ধারণা থেকে রাজশাহীর গর্ব আম নিয়ে কাজ শুরু করেন এবং তখনই পাকা আম সংগ্রহ করে ডিপ ফ্রিজে রেখে দিয়েছিলেন। সেই আম আর খাঁটি দুধের ছানা সংমিশ্রণ করে আমের রসগোল্লা তৈরি করতে শুরু করেন। সেই মিষ্টি মাটির হাঁড়ি আর মাটির পাত্রে পরিবেশন করছেন। তিনি বলেন, আমের মৌসুমে পাকা আমের রসগোল্লার স্বাদ আরও বেশি হবে।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন