প্রথম আলো: ফজলি আম জিআই স্বীকৃতি পাওয়ায় এখন কী লাভ হবে?

আলীম উদ্দীন: জিআই পণ্য হিসেবে ব্র্যান্ডিংয়ের কারণে এখন আন্তর্জাতিক বাজারে রাজশাহীর ফজলি আমের চাহিদা বাড়বে। বিদেশি ক্রেতারা নিশ্চিন্তে এ আম কিনবেন। রপ্তানিকারকেরা সুবিধা পাবেন। এতে দেশের আয় বাড়বে। জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার কারণে এ আমের উৎপাদনের অধিকার এখন রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্রের জন্য সংরক্ষিত হবে। আইনি সুরক্ষা থাকবে। এ আম এখন বাংলাদেশের নিজস্ব সম্পদ। লিখিতভাবে এর ওপর রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্রের অধিকার প্রতিষ্ঠা পেল।

প্রথম আলো: ২০১৭ সালে জিআই স্বীকৃতির জন্য আবেদন করা হয়। তারপর এত সময় লাগল কেন?

আলীম উদ্দীন: আবেদন করার পর এ দাবি প্রতিষ্ঠার পক্ষে নানা ধরনের তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করতে হয়েছে। ফজলি আমের ঐতিহাসিক তথ্য, ডিএনএ সিকোয়েন্সসহ বিভিন্ন ধরনের তথ্য চাওয়া হয়েছে। সবকিছু যাচাই-বাছাই শেষে এ স্বীকৃতি পাওয়া গেছে।

প্রথম আলো: অন্য কোনো অঞ্চল এ স্বীকৃতিকে চ্যালেঞ্জ করতে পারবে?

আলীম উদ্দীন: যে কেউ চ্যালেঞ্জ করতে পারে। কিন্তু এর জবাব দেওয়ার মতো প্রস্তুতি রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্রের আছে। এর সপক্ষে প্রয়োজনীয় সব তথ্য-উপাত্ত জমা দেওয়া আছে। রাজশাহীর ফজলি আর কেউ নিতে পারবে না।

প্রথম আলো: এ স্বীকৃতিতে আমচাষিদের কোনো প্রতিক্রিয়া পেয়েছেন?

আলীম উদ্দীন: রাজশাহীর ফজলি আম হিসেবে জিআই স্বীকৃতির খবর পাওয়ার পর রপ্তানিকারকেরা আমার সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন। বাঘা থেকে এ আম দেশের বাইরে রপ্তানি করা হয়। সেখানকার উৎপাদকেরা আমার সঙ্গে দেখা করেছেন। তাঁরা এ আমের উৎপাদন ও রপ্তানি বাড়ানোর বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন। তাঁরা এ আমের বিষয়ে এখন অনেক বেশি আগ্রহী। আমি বিশ্বাস করি, রাজশাহীর ফজলি আম এখন সারা বিশ্বে সাড়া ফেলবে।

প্রথম আলো: ফজলি আমের মধ্যে নাকফজলি, সুরমা ফজলি ও মহারাজ ফজলিও রয়েছে। স্বীকৃতির জন্য কোনো শ্রেণিবিভাগ করে দেওয়া হয়েছে?

আলীম উদ্দীন: সুরমাও না, নাকফজলিও না; রাজশাহীতে সবচেয়ে বেশি উৎপাদিত হয় যে ফজলি আম, স্থানীয়ভাবে একে মহারাজ ফজলিও বলা হয়ে থাকে। রাজশাহীর ফজলি আম বলতে সেই আমকেই বোঝাবে।

প্রথম আলো: আনুষ্ঠানিক সনদ পেতে কতটা সময় লাগবে?

আলীম উদ্দীন: জার্নালে প্রকাশের দুই মাসের মাথায় সনদ দেওয়া হয়। ৬ অক্টোবর জার্নাল প্রকাশিত হয়েছে। ঠিক দুই মাসের মাথায় সনদ দেওয়ার জন্য ঢাকায় ডাকা হবে বলে আশা করছি।

প্রথম আলো: আর কোনো ফলের জিআই স্বীকৃতির জন্য আবেদন করার ইচ্ছা আছে?

আলীম উদ্দীন: এটা অনেক পরিশ্রমের ব্যাপার। অনেক ঐতিহাসিক তথ্য-উপাত্ত জোগাড় করতে হয়। তাৎক্ষণিকভাবে নতুন কোনো ফলের নাম বলতে পারছি না। তবে চেষ্টা করব।