রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় জোহরা তাজউদ্দীনের দাফন
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য এবং বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের স্ত্রী সৈয়দা জোহরা তাজউদ্দীনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
আজ রোববার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে রাজধানীর বনানী কবরস্থানে তাঁকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়। এ সময় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তানজিম আহমেদ সোহেল তাজ, গাজীপুর-৪ আসনের সাংসদ সিমিন হোসেন রিমিসহ আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে গাজীপুরে জোহরা তাজউদ্দীনের তিন দফা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
গাজীপুর প্রতিনিধি জানান, গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার দড়দড়িয়া প্রাইমারি স্কুল মাঠে আজ বেলা সোয়া তিনটার দিকে জোহরা তাজউদ্দীনের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
জানাজা শুরু হওয়ার আগে সাংসদ রহমত আলী, গাজীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাংসদ আ ক ম মোজাম্মেল হক, তাজউদ্দীনের মেয়ে সাংসদ সিমিন হোসেন রিমি, ছেলে তানজিম আহমেদ সোহেল তাজসহ স্থানীয় আ.লীগের নেতারা বক্তব্য দেন। জানাজায় স্থানীয় ও বিভিন্ন এলাকার শত শত মানুষ অংশ নেন। এর আগে বেলা পৌনে তিনটার দিকে জোহরা তাজউদ্দীনের মৃতদেহ দড়দড়িয়া স্কুল মাঠে পৌঁছালে এক হূদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। এ সময় এলাকাবাসী তাঁকে একনজর দেখতে সেখানে ভিড় জমায় এবং ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায়। এরপর কাপাসিয়া পাইলট স্কুল মাঠে এবং গাজীপুর শহরের ভাওয়াল রাজবাড়ির মাঠে আরও দুটি জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
কোমরের হাড় ভেঙে যাওয়ায় গত ২২ নভেম্বর সকালে জোহরা তাজউদ্দীনকে চিকিত্সার জন্য দিল্লির অ্যাপোলো হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে তাঁকে ১৭ ডিসেম্বর ঢাকায় নিয়ে আসা হয়। এরপর তাঁকে ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গত বৃহস্পতিবার সকাল থেকে তাঁর অবস্থার আবার অবনতি হতে থাকে। পরদিন শুক্রবার সকাল ১০টা ২০ মিনিটে তিনি ইউনাইটেড হাসপাতালে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
১৯৩২ সালের ২৪ ডিসেম্বর সৈয়দা জোহরা তাজউদ্দীনের জন্ম। উদার সংস্কৃতিমনা পরিবারে বেড়ে ওঠেন তিনি। অধ্যাপক বাবার সান্নিধ্যে কিশোর বয়স থেকেই সমাজকর্মের প্রতি মনোনিবেশ ছিল তাঁর। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞানে পড়াশোনা। মহিলা পরিষদের সহসভানেত্রী জোহরা নারীমুক্তি আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ষাটের দশকের আইয়ুববিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন তিনি। ১৯৬৮ সালের গঠিত রাজবন্দী সাহায্য কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন জোহরা। এই কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন আতাউর রহমান খান। ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক নির্বাচিত হন।
দীর্ঘদিন আফ্রো-এশীয় গণসংহতি পরিষদের সহসভানেত্রী ছিলেন জোহরা। তিনি এই পরিষদের বিভিন্ন সভা ও সেমিনারে অংশ নিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যান।