রিবন রেটিং পদ্ধতি কাজে আসছে না

এক কোটি ৫৬ লাখ টাকা ভর্তুকি দিয়েও যশোরে পাটের আঁশ ছাড়ানোর রিবন রেটিং পদ্ধতি কাজে আসছে না। এ কারণে সরকারের দেওয়া এক হাজার ৫৩০টি আঁশ ছাড়ানোর যন্ত্র কৃষি বিভাগের বিভিন্ন কার্যালয়ে পড়ে নষ্ট হচ্ছে। অতিরিক্ত শ্রমিক লাগায় এবং টাকা খরচ হওয়ায় কৃষকেরা এ পদ্ধতি ব্যবহার করতে আগ্রহী নন বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।
কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১০ সালে সরকার যশোর জেলার আট উপজেলার কৃষকদের জন্য ৮০০টি এবং ২০১১ সালে ৭৩০টি পাটের আঁশ ছাড়ানোর যন্ত্র (রিবনার মেশিন) সরবরাহ করে। পাটকাঠি থেকে এ যন্ত্র দিয়ে আঁশ ছাড়িয়ে স্বল্প পানিতে তা পচানোর জন্য এই পদ্ধতি উদ্ভাবন করা হয়। এ জেলার ৭৮ হাজার কৃষককে ২০০ টাকা করে দুই বছরে মোট এক কোটি ৫৬ লাখ টাকা ভর্তুকি দেওয়া হয়। এ সময় সরকারি ব্যয়ে কৃষকদের প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়। কিন্তু এ পদ্ধতিতে পাটের আঁশ পচাতে ১২-১৫ জন অতিরিক্ত শ্রমিক ও সাড়ে তিন থেকে চার হাজার টাকা বেশি খরচ হয়। এ কারণে কৃষকেরা এই পদ্ধতি ব্যবহার করতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যশোর জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক শেখ হেমায়েত হোসেন জানান, কৃষকেরা এ পদ্ধতিতে পাট পচানোর বিষয়টিকে ঝামেলা মনে করছেন। এ কারণে তাঁরা বিভিন্ন ইউনিয়নের দায়িত্ব পাওয়া উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের কাছ থেকে পাটের আঁশ ছাড়ানোর যন্ত্রও নেননি।
কয়েকজন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা জানান, ভর্তুকির টাকা দেওয়ার পর দুই বছর কৃষকদের অনেকে যান্ত্রিক পদ্ধতিতে পাট পচান। কিন্তু এখন আর তাঁদের সামনে এ পদ্ধতিতে পাটের আঁশ পচানোর কথা বলাই যাচ্ছে না।
সদর উপজেলার তফসিডাঙ্গা ও কৃষ্ণবাটি গ্রামে কৃষকদের সনাতন পদ্ধতিতে পাটের আঁশ পচাতে দেখা গেছে। কৃষকেরা জানান, রিবন রেটিং পদ্ধতিতে আঁশ ছাড়ানোর পাটকাঠিটি আর কাজে লাগানো যায় না। কিন্তু সনাতন পদ্ধতিতে ছাড়ালে পাটকাঠিটি বেড়া তৈরিসহ অন্য কাজে ব্যবহার করা যায়।
তফসিডাঙ্গা গ্রামের কৃষক আবদুল মান্নান বলেন, ‘ওই যন্ত্র দিয়ে আঁশ ছাড়িয়ে পাট পচানো অত্যন্ত ঝামেলার কাজ। পাটের বীজ বপন থেকে শুরু করে আঁশ ছাড়িয়ে ঘরে তোলা পর্যন্ত যেখানে সনাতন পদ্ধতিতে ১৮ থেকে ২০ জন শ্রমিক লাগে, সেখানে রিবন রেটিং পদ্ধতিতে ৩০ থেকে ৩২ জন লাগে। রিবন রেটিং পদ্ধতিতে এক বিঘায় ১৬ হাজার টাকা খরচ হয়, আর সনাতন পদ্ধতিতে খরচ হয় মাত্র ১৩ হাজার টাকা।