বিবৃতিতে বলা হয়, বিপুলসংখ্যক ওলামায়ে কেরামকে দীর্ঘদিন ধরে কারাবন্দী করে রাখায় তাঁদের দায়িত্বাধীন মসজিদ-মাদ্রাসাসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে গভীর সংকট তৈরি হয়েছে। শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। একই সঙ্গে কারাবন্দী আলেমদের প্রত্যেকের পারিবারিক জীবন ও জীবিকা দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে সুস্থ অবস্থায় জেলে যাওয়া আলেমদের কেউ কেউ বর্তমানে এমন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন যে তাঁরা হাঁটাচলা পর্যন্ত করতে পারছেন না। ফলে তাঁদের পরিবার-পরিজনসহ মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশার পাশাপাশি ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ছে।

বিবৃতিতে আলেমরা বলেন, একজন কারাবন্দী শীর্ষ আলেমকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে যেকোনো মূল্যে বন্দী করে রাখার ও নানা রকম মামলা দিয়ে রায় ঘোষণার পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে। একদিকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কোনো রকম যোগাযোগ করতে দেওয়া হচ্ছে না, অন্যদিকে দ্রুত রায় ঘোষণা করে তাঁকে সামাজিক ও ধর্মীয়ভাবে কোণঠাসা করার অপচেষ্টা করা হচ্ছে।

‘অনেক বড় বড় অপরাধীকেও সরকারি আনুকূল্যে নানা ছুতোয় মুক্তি দেওয়া হয়েছে’ উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘কারাবন্দী আলেমদের ব্যাপারে ন্যূনতম মানবিকতার নমুনা দেখা যাচ্ছে না। ওলামায়ে কেরামদের পক্ষ থেকে সরকারকে এ মর্মে বারবার আশ্বস্ত করা হয়েছে যে আলেমদের আন্দোলন সরকারের বিরুদ্ধে নয়, ইসলামবিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে। তারপরও একটি চিহ্নিত মহল আলেম সমাজকে বারবার সরকারের প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড় করাতে চেয়েছে। এ ক্ষেত্রে আমরা সরকারের শুভবুদ্ধির অপেক্ষা করছি।’

বিবৃতিতে মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব, মাওলানা মামুনুল হক, মুফতি সাখাওয়াত হোসাইন, মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, মাওলানা আতাউল্লাহ আমিনসহ কারাবন্দী সব আলেমকে রমজানের মধ্যেই নিঃশর্তভাবে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানানো হয়।

বিবৃতিদাতাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য আলেমরা হলেন হেফাজতে ইসলামের আমির ও ফটিকছড়ির আল জামিয়াতুল ইসলামিয়া বাবুনগর মাদ্রাসার মহাপরিচালক আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী, কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের (বেফাক) চেয়ারম্যান ও জামিয়া ইসলামিয়া মাদানিয়া যাত্রাবাড়ী মাদ্রাসার মহাপরিচালক আল্লামা মাহমুদুল হাসান, হেফাজতে ইসলামের নায়েব আমির ও জামিয়া নূরীয়া ইসলামিয়া কামরাঙ্গীরচর মাদ্রাসার মহাপরিচালক আতাউল্লাহ হাফেজ্জী, মধুপুরের পীর মাওলানা আবদুল হামিদ, হাটহাজারী মাদ্রাসার মুহাদ্দিস মাওলানা আহমাদ দিদার কাসেমী, জমিয়তে ওলামায়ে ইসলামের সভাপতি ও জামিয়া মাদানিয়া আঙ্গুরার মহাপরিচালক মাওলানা জিয়াউদ্দিন, জামিয়া রাহমানিয়া আজিজিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মাহফুজুল হক, বিশিষ্ট ইসলামি বক্তা এনায়েতউল্লাহ আব্বাসী প্রমুখ।

উল্লেখ্য, গত বছর মার্চে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের বিরোধিতা করাকে ঘিরে দেশের বিভিন্ন স্থানে হেফাজতের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। এরপর সহিংসতার বিভিন্ন মামলায় হেফাজতের নেতা-কর্মীরা গ্রেপ্তার হন। এ বিষয়ে গত ৯ ফেব্রুয়ারি হেফাজতে ইসলামের ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের সঙ্গে সচিবালয়ে সাক্ষাৎ করে। ওই সময় সংগঠনের সাবেক যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হকসহ সারা দেশে কারাবন্দী ৪৮২ জন নেতা-কর্মীর মুক্তির দাবি জানানো হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতে নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে ২০১৩, ২০১৬ ও ২০২১ সালে করা সব মামলা প্রত্যাহারের অনুরোধ জানিয়েছিলেন হেফাজত নেতারা।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন