শিক্ষকসহ কিছু কর্মকর্তার গ্রেড-১এ যাওয়ার সুযোগ
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ শিক্ষকসহ অন্যান্য ক্যাডারের কিছু সংখ্যক কর্মকর্তাকে গ্রেড-১এ যাওয়ার সুযোগ রেখেই অষ্টম বেতন কাঠামো চূড়ান্ত করা হচ্ছে। সবার আর্থিক সুবিধা যাতে বৃদ্ধি পায় ও মর্যাদা অক্ষুণ্ন থাকে, এটি বিবেচনা করেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দ্রুত এই সমস্যা সমাধানের নির্দেশ দিয়েছেন।
তবে সিলেকশন গ্রেড ও টাইমস্কেল থাকছে না। এর পরিবর্তে নির্দিষ্ট একটি সময়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতনস্কেল স্বয়ংক্রিয়ভাবে ওপরের গ্রেডে যাওয়ার ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে।
আজ সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনির্ধারিত আলোচনায় এসব কথা বলা হয়। বৈঠকে উপস্থিত একজন মন্ত্রী প্রথম আলোকে এই আলোচনার কথা জানান। তিনি বলেন, অনির্ধারিত আলোচনায় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বেতন বৈষম্য নিরসন সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির কার্যক্রম শুরুর কথা প্রধানমন্ত্রীকে জানালে এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দ্রুত বিষয়টি সমাধানের পরামর্শ দেন।
ওই মন্ত্রী বলেন, শিক্ষকেরা বলছেন প্রস্তাবিত অষ্টম বেতন স্কেলে তাঁরা বঞ্চিত হবেন। বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারসহ অন্যান্য ক্যাডারের কর্মকর্তাও বলে আসছেন, তাঁরা আর গ্রেড-১এ যাওয়ার সুযোগ পাবেন না। আবার কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী বলছেন, সিলেকশন গ্রেড ও টাইমস্কেল বাতিল হওয়ায় তাঁরা বেতন ও মর্যাদা দুই দিক দিয়েই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। এ বিষয়গুলো সমন্বয় করেই নতুন বেতন কাঠামো চূড়ান্ত হবে।
বৈঠকে বলা হয়, গ্রেড-৩ থেকে গ্রেড-২এ যাওয়ার সুযোগের পাশাপাশি একই প্রক্রিয়ায় কিছুসংখ্যক শিক্ষক ও কর্মকর্তা যাতে গ্রেড-১ যেতে পারেন, সেই সুযোগ রাখা হবে। এমনকি সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকসহ সরকারের অন্য দপ্তরের শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকটি পদকে জ্যেষ্ঠ সচিবদের পদমর্যাদায় উন্নীত করা যায় কি না, এ নিয়েও সরকারের মধ্যে আলোচনা হচ্ছে।
সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অভিযোগ, সিলেকশন গ্রেড বাদ দেওয়ায় তাঁরা এখন কার্যত গ্রেড-৩ এ গিয়েই চাকরি শেষ করতে হবে। এ জন্য শিক্ষকদের জন্য পৃথক বেতন কাঠামো ও গ্রেড সমস্যা নিরসনের জন্য তাঁরা প্রায় পাঁচ মাস ধরে আন্দোলন করছেন।
এর মধ্যে গত রোববার বেতন বৈষম্য নিরসন সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি বৈঠকে বসে। বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, সরকারি চাকরিজীবীরা বর্তমানে যেসব সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন, অষ্টম বেতনকাঠামোতে এর কিছুই কমানো হবে না। বরং তা আরও কীভাবে বাড়ানো যায়, সে চিন্তা করা হচ্ছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সূত্রমতে, সিলেকশন গ্রেড ও টাইম স্কেলের পরিবর্তে ১০ বছর পার হলে ১১ বছরের মাথায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বয়ংক্রিয়ভাবে ওপরের ধাপে (গ্রেড) বেতন ভাতা দেওয়া হবে। তারপর ১৫ বছর পার হলে ১৬ বছরের মাথায় তাঁরা আরেক ধাপ ওপরে উঠে যাবেন। আজ মন্ত্রিসভায়ও বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
বৈঠকে জানানো হয়, শিগগিরই আইন মন্ত্রণালয়ের আইনি যাচাই (ভেটিং) শেষে বেতনস্কেলের প্রজ্ঞাপন জারির করা হবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।