রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের পাঁচ বছর ঘনিয়ে এলেও প্রত্যাবাসন এখন পর্যন্ত শুরু হয়নি। মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের পর পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। এমন এক প্রেক্ষাপটে প্রত্যাবাসন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র কতটা আশাবাদী জানতে চাইলে ইসোবেল কোলম্যান বলেন, ‘কক্সবাজার এবং ভাসানচরে মতবিনিময় করে জেনেছি, প্রত্যেক রোহিঙ্গাই তাদের আদি নিবাসে ফিরে যেতে চায়। তবে এখনই তারা ফিরে যেতে পারছে না। কারণ, সেখানকার (রাখাইন) পরিবেশ এখনো যে নিরাপদ নয়, সেটা সবার জানা আছে। যে বিয়োগান্ত, নৃশংস ও ভয়াবহ পরিস্থিতির শিকার তারা হয়েছিল, তা কখনো ভোলার নয়। মার্কিন সরকার কয়েক মাস আগে সেখানকার ঘটে যাওয়া নৃশংসতাকে গণহত্যা হিসেবে অভিহিত করেছে। আমরা ওই নৃশংসতা ভুলতে পারি না। তাদের সমস্যাটি দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত বিষয়। নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ, স্বেচ্ছামূলক ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশের পাশাপাশি নিজেদের অধিকার নিশ্চিত হওয়ার আগে রোহিঙ্গাদের সেখানে ফিরে যাওয়ার কোনো সম্ভাবনা দেখছি না। আমরা আসিয়ানের সদস্যদেশগুলোর সঙ্গে সংঘাত অবসানের জন্য কাজ করছি। তবে আমাকে যদি প্রশ্ন করেন, প্রত্যাবাসনের কোনো সম্ভাবনা দেখি কি না? শিগগিরই এর কোনো সম্ভাবনা দেখছি না। তারপরও আমাদের আশাবাদী থাকতে হবে যে তারা একদিন স্বেচ্ছায় নিজেদের আদি নিবাসে ফিরে যাবে।’

ভাসানচরের পরিবেশের উন্নয়ন, বিশেষ করে পরিবহন ও যাতায়াতব্যবস্থা উন্নয়নের ওপর কেন জোর দিয়েছেন জানতে চাইলে ইউএসএআইডির উপপ্রধান বলেন, কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের অনেক বেশি গাদাগাদি করে থাকতে হচ্ছে। তাদের মর্যাদাপূর্ণ অস্তিত্বের জন্য সেখানে পরিস্থিতি উন্নয়নের সুযোগ আছে। সংখ্যায় কম হলেও সম্প্রতি একটি পাইলট প্রকল্পে মিয়ানমারের পাঠ্যক্রমের আওতায় নিজেদের ভাষায় রোহিঙ্গা শিশুরা পড়াশোনার সুযোগ পেয়েছে। সংখ্যাটা খুবই নগণ্য। মাত্র ১০ হাজার। অথচ কক্সবাজারে স্কুলগামী রোহিঙ্গা শিশুর সংখ্যা চার লাখ। তাদের সবার জন্য পড়াশোনার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।

রোহিঙ্গাদের সঙ্গে মতবিনিময়ের জন্য কক্সবাজার ও ভাসানচর সফরকে ফলপ্রসূ উল্লেখ করে ইসোবেল কোলম্যান বলেন, ‘ভাসানচর ঘুরে আসার পর আমার কিছু উদ্বেগের কথা জানাতে চাই। এটা দুর্গম একটা জায়গা, যেখানে পৌঁছানো বেশ দুরূহ।

কক্সবাজার থেকে ভাসানচরে সরিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে রোহিঙ্গাদের কাউকে কাউকে যে স্বেচ্ছায় নেওয়া হয়নি, এমন কিছু উদ্বেগের কথাও শুনেছি। মৌলিক কিছু সেবার ঘাটতির কথা জেনেছি। এসব বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আমার খোলামেলা আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে জীবিকার পাশাপাশি সেখানকার মৌলিক সুবিধা নিশ্চিতের ক্ষেত্রে কীভাবে এগোনো যায়। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ মৌলিক সুবিধার পাশাপাশি তারা যাতে প্রয়োজন হলে কক্সবাজারে আসা-যাওয়া করতে পারে, এটাও জরুরি। কারণ, এটা অনেক দূরের এক যাত্রা। রোহিঙ্গারা তাদের পরিবারের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। কেউ কেউ কক্সবাজারে, কেউ ভাসানচরে। পরিবরারের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন থাকাটা চ্যালেঞ্জের। তাই এ নিয়ে আমাদের উদ্বেগ আছে।’

ইসোবেলের মতে, ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের জীবিকার জন্য সবজির চাষাবাদ, পশুপালন ও মাছ চাষের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এসব একেবারেই নতুন উদ্যোগ। রোহিঙ্গারা এ থেকে এমন কিছু আয় করছে না, যা তাদের জীবিকা হিসেবে যথেষ্ট। এখনো সবকিছু তাদের কিনে খেতে হচ্ছে। যার দাম বেশ চড়া। ভাসানচরের আবাসন কক্সবাজারের চেয়ে ভালো। তবে কক্সবাজারে প্রয়োজনীয় খাবারদাবার দেশি-বিদেশি সংস্থার কাছ থেকে পাওয়ার পাশাপাশি সহজে তাজা সবজি ও পুষ্টিকর খাবার পাচ্ছে। তাই ভাসানচরে এ বিষয়গুলো নিশ্চিত করাটা জরুরি।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন