বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

প্রদর্শনীর শিল্পকর্মগুলো সাজানো হয়েছে ১, ২, ৪, ৫ ও ৬ নম্বর গ্যালারির ভেতরে এবং সামনের খোলা অংশে। এবার সব মাধ্যমে সেরা শিল্পীর শ্রেষ্ঠ পুরস্কার পেয়েছেন মোহাম্মদ হাসানুর রহমান। তাঁর বিশাল আকারের স্থাপনাকর্মটি রয়েছে তৃতীয় তলার গ্যালারির সামনেই। পুঁজিবাদী অর্থনীতি কীভাবে সবকিছু গ্রাস করে ফেলছে, সেই ভাবনা তিনি তুলে ধরেছেন মাছ ধরা ফাঁদের মতো একটি আকৃতির ভেতর দিয়ে।

করোনা সংক্রমণ এখন সবচেয়ে বড় সংকট। অনিবার্যভাবেই শিল্পীদের নান্দনিক ভাবনাতেও এর প্রভাব পড়েছে। চিত্রকলা, ভাস্কর্যসহ বিভিন্ন মাধ্যমে করোনা নিয়ে অনেক রকমের কাজ করেছেন শিল্পীরা। আরও আছে যুদ্ধ, সন্ত্রাস, মৌলবাদ, উদ্বাস্তু সমস্যার মতো সামাজিক সংকট। আছে অপত্যস্নেহ, জীবনযাত্রার নানা অনুষঙ্গ, বিভিন্ন আঙ্গিকের অবয়ব, নিসর্গ, ভূদৃশ্য, রংরেখার বিমূর্ত বিন্যাস ও মুক্তিযুদ্ধের মতো চিরায়ত বিষয়গুলো।

এবারে প্রদর্শনীর বিশেষ সংযোজন ৬ নম্বর গ্যালারিতে কিউরেটরদের তত্ত্বাবধানে বিষয়ভিত্তিক শিল্পকর্মের উপস্থাপনা। এই পর্বেই রয়েছে প্রিয়াংকা চৌধুরী, প্রণবেশ দাস ও তৌকির আহমেদের ‘ঢাকা কত দূর’ নামের পোশাককর্মীদের নিয়ে করা মিশ্রমাধ্যমের কাজটি। ঢাকা শুধু রাজধানী নয়, বহু মানুষের গন্তব্যস্থল, তাদের জীবিকা ও স্বপ্নের ঠিকানা। পোশাককর্মীরাও বিধিনিষেধের সময় বহু পথ হেঁটে রাজধানীতে আসছিলেন। এই রাজধানী কীভাবে তাঁদের কাছে সাড়া দেয়, এসবই আছে এই শিল্পভাবনায়।

এবার জাতীয় চারুকলা প্রদর্শনীতে কিউরেটর পর্বে চারটি অংশ রয়েছে। অন্য অংশগুলোর মধ্যে শিল্পী কনকচাঁপা চাকমার কিউরেট করা অংশটির নাম ‘নশ্বর-অবিনশ্বর’। এতে দেশের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর শিল্পীরা তাঁদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও জীবনযাত্রার নানা দিক তুলে ধরেছেন। তাঁদের বয়নকর্ম, কারুকর্মে এসব আছে।

প্রদর্শনীতে দর্শক আসছেন প্রচুর। সবার হাতেই এখন ক্যামেরাযুক্ত ফোন। তাই ছবির বা ভাস্কর্যের পাশে, সামনে দাঁড়িয়ে, এমনকি মেঝেতে বসেও ছবি তুলতে দেখা যাচ্ছে অনেক দর্শককে। প্রদর্শনী চলবে ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন