শ্রমিক অসন্তোষ, ১০ কারখানায় ছুটি

ঢাকার আশুলিয়ার শিল্পাঞ্চল ক্রমেই অশান্ত হয়ে উঠছে। ন্যূনতম মজুরি বাড়ানোর দাবিতে গত কয়েক দিন বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ করছেন। এসব কারণে গতকাল শনিবার অন্তত ১০টি কারখানা ছুটি ঘোষণা করা হয়।
এ অবস্থায় ঢাকা জেলা পুলিশ গতকাল স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তি, বাড়ির মালিক, রাজনৈতিক দলের নেতা ও শ্রমিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করে। আশুলিয়ার বাইপাইলে একটি কমিউনিটি সেন্টারে ওই মতবিনিময় সভায় বক্তারা আলোচনার মাধ্যমে শ্রমিকদের যৌক্তিক দাবি পূরণের আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে তাঁরা ভাঙচুরসহ যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খল কাজের সঙ্গে যুক্ত না হওয়ার জন্য শ্রমিকদের প্রতি আহ্বান জানান।
শ্রমিক ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ন্যূনতম মজুরি ১৫ হাজার টাকা করার দাবিতে আশুলিয়ার জামগড়া এলাকার উইন্ডি গ্রুপের শ্রমিকেরা গত সোমবার কাজ বন্ধ করে বিক্ষোভ করেন। পরে কর্তৃপক্ষ কারখানাটি ছুটি ঘোষণা করে। এরপর থেকে প্রায় প্রতিদিনই বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকেরা একই দাবিতে বিক্ষোভ করে আসছেন।
গতকাল সকালে জামগড়া এলাকার ডিকে নিটওয়্যার লিমিটেডের শ্রমিকেরা কারখানায় উপস্থিত হয়ে ন্যূনতম মজুরি বাড়ানোর দাবি জানান। একপর্যায়ে তাঁরা কাজ বন্ধ করে কারখানার ভেতরে কর্মবিরতি পালন করতে থাকেন। কর্তৃপক্ষ সকাল নয়টার দিকে কারখানাটি ছুটি ঘোষণা করে। সকাল সাড়ে নয়টার দিকে কাজ বন্ধ করে কারখানা থেকে বের হয়ে যান উইন্ডি গ্রুপের শ্রমিকেরা। সকাল নয়টার দিকে কাজ বন্ধ করে কারখানার ভেতরে অবস্থান নেন বাইপাইলের ফাউন্টেন গার্মেন্টসের শ্রমিকেরা। কর্তৃপক্ষ সকাল ১০টার দিকে কারখানা ছুটি ঘোষণা করলে শ্রমিকেরা বাড়ি চলে যান।
দুপুরের খাবারের বিরতির সময় কারখানা থেকে বের হয়ে পলমল গ্রুপের শ্রমিকেরা পাশের একটি কারখানায় ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন বলে প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে। এরপর পলমল গ্রুপের শ্রমিকেরা আর কাজে ফেরেননি।
এ ছাড়া আশুলিয়ার জামগড়া এলাকার সেতারা গ্রুপ, সেড ফ্যাশনস, গ্রিন লাইটসহ আরও কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা মজুরি বাড়ানোর দাবিতে গতকাল কর্মবিরতি পালন করেন। পরে কারখানাগুলো ছুটি ঘোষণা করা হয়।
উইন্ডি গ্রুপ, ফাউন্টেন গার্মেন্টস ও পলমল গ্রুপের কারখানায় গিয়ে চেষ্টা করেও কারও সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
আন্দোলনরত কয়েকজন শ্রমিক বলেন, সর্বশেষ ২০১৩ সালে তাঁদের ন্যূনতম মজুরি বাড়ানো হয়। এরপর আর মজুরি বাড়ানোর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। কিন্তু ঘরভাড়াসহ জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে প্রতিবছর। বর্তমান বেতনে জীবনধারণ কষ্টকর হয়ে পড়েছে। মজুরি বাড়ানোর দাবি না মানায় তাঁরা আন্দোলনের পথ বেছে নিয়েছেন।
তবে গতকালের মতবিনিময় সভায় স্থানীয় সাংসদ এনামুর রহমান বলেন, ন্যূনতম মজুরি বাড়ানোর দাবিতে আশুলিয়ার শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকেরা যে আন্দোলন শুরু করেছেন, তাতে বিএনপি, জামায়াতসহ বাইরের শক্তির ইন্ধন রয়েছে। এই আন্দোলন আর বাড়তে দেওয়া যাবে না। আন্দোলনের মাধ্যমে নয়, সমাধান খুঁজতে হবে আলোচনার মাধ্যমে। এ জন্য পুলিশ, শ্রমিকনেতা ও জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে শ্রমিক কল্যাণ কমিটি গঠন করা হবে। কমিটির সদস্যরা শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যা চিহ্নিত করবেন। সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঢাকার পুলিশ সুপার শাহ মিজান শাফিউর রহমান বলেন, একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী আশুলিয়ায় শ্রমিক অসন্তোষ সৃষ্টির অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের কারণে যাতে পোশাকশিল্প ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আশরাফুল আজীমের পরিচালনায় মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন শিল্প পুলিশ আশুলিয়া জোনের পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান, যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুক হাসান, সাভার সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) নাজমুল হাসান প্রমুখ।