বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

রেহমান সোবহান বলেন, সরাসরি নির্বাচনের মাধ্যমে নারীদের নির্বাচিত হতে না পারা অন্যতম একটি সমস্যা। এ বিষয়ে আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনা ও বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়াকে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হতে হবে যে তাঁরা সংরক্ষিত আসনে নির্বাচন দেবেন। মহিলা পরিষদকে জোরালো ভূমিকা পালন করতে হবে। সামনের দিনগুলোতে এ বিষয়ে জোর প্রচারণা চালাতে পারেন তাঁরা।

পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রে নারীর সম-অংশীদারত্ব নিশ্চিত করতে হবে—এই স্লোগান সামনে রেখে মহিলা পরিষদের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রেহমান সোবহান বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নারীরা এখন অনেক বেশি সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। তিনি বলেন, শ্রম খাতে বিশেষ করে পোশাকশিল্প খাতে নারীরা এখন গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে তৈরি পোশাকশিল্প খাতে নারী শ্রমিকদের এখনো অনেক অধিকার আদায় হয়নি। প্রয়োজনীয় সুযোগ–সুবিধা তাঁরা এখনো পাচ্ছেন না। এ ছাড়া প্রবাসী নারী শ্রমিকরা নানা রকমের নির্যাতন, পাচার ও সহিংসতার শিকার হচ্ছেন। তাঁদের কাছে যেতে হবে, তাঁদের নিরাপত্তা ও সহায়তার জন্য কাজ করতে হবে। এ ছাড়া নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে মহিলা পরিষদকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।

জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী মহিলা পরিষদকে শুভেচ্ছা জানিয়ে একটি লিখিত বক্তব্য দেন। পরিষদের সহসভাপতি রেখা চৌধুরী তা পড়ে শোনান। লিখিত বক্তব্যে শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশে অগ্রগতির ধারায় নারীর উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে। নারীর এই উন্নয়নের পেছনে সরকারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক উদ্যোগ এবং নারীসমাজের গৃহীত ভূমিকাও আছে। নারীর মর্যাদা ও সমমর্যাদা প্রতিষ্ঠায় মহিলা পরিষদ কাজ করে যাচ্ছে।

অনলাইনে যুক্ত হয়ে বাংলাদেশে অবস্থিত সুইডেন দূতাবাসের ডেপুটি হেড অব মিশন ক্রিস্টিন জোহানসন বলেন, বাংলাদেশে লিঙ্গবৈষম্যের ব্যবধান অনেক বেশি। নারী অধিকার প্রতিষ্ঠান এখানে অনেক চ্যালেঞ্জের। মহিলা পরিষদ সেই অধিকার আদায়ে কাজ করে যাচ্ছে। তবে এ দেশে লক্ষ্য করার মতো কিছু উন্নতিও আছে।

পেশাগত কাজে সচিবালয়ে গিয়ে হেনস্তার শিকারসহ কারাগারে থাকার সময় মহিলা পরিষদ যেভাবে পাশে দাঁড়িয়েছে, তাতে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন প্রথম আলোর বিশেষ প্রতিনিধি রোজিনা ইসলাম। তিনি বলেন, গত ২ বছরে নারীর প্রতি সহিংসতা বেড়েছে ১০ শতাংশ। যেকোনো ঘটনায় নারী হেনস্তার শিকার হলে তাঁর চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়, তাঁকে সাইবার বুলিংয়ের শিকার হতে হয়। তবে প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে এগিয়ে যেতে হলে নারীকে প্রতিবাদী ও সাহসী হতে হবে। একে অপরের পাশে দাঁড়াতে হবে।
বাংলাদেশের উন্নয়নের কেন্দ্রে মূলত আছেন নারী। লিঙ্গ সমতায় যতটুকু অগ্রসর হয়েছে দেশ, তা নারীসমাজের অবদানের কারণেই বলে জানান বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ফওজিয়া মোসলেম। তিনি বলেন, দেশের উন্নয়নের অন্যতম সূচক হচ্ছে নারীর ক্ষমতায়ন। তবে রাষ্ট্রের নীতি নির্ধারণে যাঁরা বসে আছেন, তাঁদের মানসিকতা থেকে পুরুষতান্ত্রিকতার ‘প’–ও সরেনি। তাঁদের মানসিকতা পরিবর্তনের উদ্যোগও রাষ্ট্রের নেই।

সকালে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সম্মেলনের সূচনা হয়। মহিলা পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক উম্মে সালমা বেগমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু, সহসভাপতি মাখদুমা নার্গিস, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সীমা মোসলেম প্রমুখ।

দুদিনব্যাপী এ সম্মেলনে প্রথম অধিবেশন শেষে একটি শোভাযাত্রার আয়োজন করে মহিলা পরিষদ। আগামীকাল শুক্রবার নতুন কমিটি ঘোষণার মধ্য দিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় পরিষদ সম্মেলন শেষ হবে।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন