বিজ্ঞাপন

এই প্রেক্ষাপটে মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, র‌্যাব ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে জানাচ্ছে সূত্রগুলো। র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক খন্দকার আল মঈন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা শুনেছি পদোন্নতির পর ৪৮ জন পুলিশ সুপারের পদায়ন হয়েছে র‌্যাবে। পুলিশ সদর দপ্তর ছাড়পত্র দিলে র‌্যাবের মহাপরিচালক তাঁদের পদায়ন করবেন।’

পুলিশ সুপারকে উপপরিচালক পদে পদায়ন করার বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশ সদর দপ্তরের দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, ২০০৪ সালে র‌্যাব গঠনের সময় কোন বাহিনী থেকে কতজন র‌্যাবে যোগ দেবেন, সে সম্পর্কে একটি অফিস আদেশ জারি করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এতে বলা হয়, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ থেকে আসবেন ৪৪ শতাংশ সদস্য।

ওই কর্মকর্তা বলেন, বাংলাদেশ পুলিশ থেকেও আসবেন ৪৪ শতাংশ। এর বাইরে বাকি ১২ শতাংশের আসার কথা বাংলাদেশ রাইফেলস, আনসার ও ভিডিপি, বাংলাদেশ কোস্টগার্ড ও সিভিল প্রশাসন থেকে। আগের বছরগুলোয় এই নির্দেশ মানা হয়নি। র‌্যাবে ভারসাম্য আনতেই পুলিশ সুপারদের সেখানে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।


অপর একটি সূত্র প্রথম আলোকে বলেন, পুলিশে যে ব্যাচের পদোন্নতি হলো, সেই একই ব্যাচে প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের বড় অংশের আগেই উপসচিব হিসেবে পদোন্নতি হয়েছে। র‌্যাবে পদগুলো খালি থাকায় এতসংখ্যক পুলিশ সুপারকে পদায়ন করা হয়েছে।


পুলিশের দাবি, র‌্যাবে পুলিশ সুপারদের পাঠানো হচ্ছে উপপরিচালক/কোম্পানি কমান্ডার হিসেবে। তাঁরা কাজ করবেন লেফটেন্যান্ট কর্নেলের অধীনে। লেফটেন্যান্ট কর্নেল ও পুলিশ সুপার একই পদমর্যাদার। তাঁদের র‌্যাঙ্ক ব্যাজও একই রকম। এতে একটি শাপলা ও একটি পিপস থাকে। এখন উপপরিচালক/কোম্পানি কমান্ডার পদে আছেন মেজররা।

র‌্যাবের দায়িত্বশীল সূত্র প্রথম আলোকে বলেন, লেফটেন্যান্ট কর্নেলরা পুলিশ সুপারদের থেকে জ্যেষ্ঠ। তা ছাড়া র‌্যাবে উপপরিচালক পদ আছে ১০৮টি। এর মধ্যে আগে থেকেই আছেন ৬৪ জন, সম্প্রতি আরও ১৪ জনকে সশস্ত্র বাহিনী থেকে পদায়ন করা হয়েছে। মাত্র ২৮টি পদ শূন্য আছে। এ অবস্থায়, ৪৮ জনকে কোথায় বসানো হবে তাঁরা বুঝতে পারছেন না।


র‌্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এখন উপপরিচালক পদে র‌্যাবে কোনো এসপি নেই। এই পদগুলোতে আছেন মেজর পদমর্যাদার সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকর্তারা। পুলিশ বলছেন, তাঁদের পুলিশ সুপাররা র‌্যাবে লেফট্যানেন্ট কর্নেলের অধীনে কাজ করতে আগ্রহ বোধ করেন না। এ কারণে উপপরিচালক পদে এখন কোনো এসপি নেই। এর আগে যাঁরা এই পদে গেছেন তাঁদের বড় অংশই কিছুদিন থেকে বা স্বল্প মেয়াদে থেকে চলে এসেছেন।

পুলিশ বলছে, লেফটেন্যান্ট কর্নেলরা পুলিশ সুপারদের থেকে জ্যেষ্ঠ নয়। এখানে র‌্যাঙ্কের কোনো পার্থক্য নেই।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন