সয়াবিন চাষে আগ্রহ বাড়ছে
উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় শুরু হয়েছে সয়াবিন চাষ। এ বছর উত্তরাঞ্চলের সাতটি জেলায় দেড় হাজার বিঘা জমিতে সয়াবিনের চাষ হয়েছে। আগামী বছরের ৫০ হাজার বিঘায় সয়াবিন চাষের পরিকল্পনা রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, সয়াবিনের উৎপাদন বাড়াতে পাড়লে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করা সম্ভব। কারণ, সয়াবিন তেল উৎপাদনকারী শিল্পের একমাত্র কাঁচামাল সয়াবিন। চাহিদার বেশির ভাগ সয়াবিন বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়। এত দিন নোয়াখালী, ফেনী, লক্ষ্মীপুর, ভোলা, বরিশাল ও ফরিদপুর জেলায় সয়াবিনের চাষ হতো।
মাটি সয়াবিন চাষের উপযোগী হওয়ায় এবারই প্রথম সয়াবিন চাষ শুরু হয়েছে নীলফামারী, রংপুর, দিনাজপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, বগুড়া ও ঠাকুরগাঁও জেলায়। নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার নিতাই ইউনিয়নের কৃষক আসাদুজ্জামান জানান, এপেক্স অর্গানিক সয়া ইন্ডাস্ট্রিজের সহযোগিতায় ৫০ শতক জমিতে তিনি সয়াবিন চাষ করেছেন। এতে তাঁর খরচ হয়েছে ছয় হাজার টাকা। উৎপাদন হয়েছে ১৬ মণ সয়াবিন। যার বর্তমান বাজারমূল্য ১৯ হাজার ২০০ টাকা। অপেক্ষাকৃত অনুর্বর জমিতে ৯৬ দিনের ব্যবধানে খরচ বাদে তাঁর লাভ হয়েছে ১৩ হাজার ২০০ টাকা। ভবিষ্যতে তিনি সয়াবিন চাষের জমির পরিমাণ বাড়াবেন।
এপেক্স অর্গানিক সয়া ইন্ডাস্ট্রিজের কর্মকর্তা গোলামুর রহমান জানান, উত্তরাঞ্চলের নদীতীরবর্তী এলাকাসহ অসংখ্য জমি পতিত থাকে। এসব জমিতে কৃষকদের উৎসাহিত করে সয়াবিন চাষ করা গেলে দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। তিনি বলেন, এর আগে বাজারজাত করতে না পারায় সয়াবিন চাষে কৃষকের উৎসাহ ছিল না। এখন তাঁরা বীজ সরবরাহ, কারিগরি সহায়তা ও বিক্রয়ের নিশ্চয়তা দিচ্ছেন।
নীলফামারী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক এস এম সিরাজুল ইসলাম বলেন, বাজারজাতের নিশ্চয়তা পেলে কৃষক সয়াবিন চাষে আগ্রহী হবেন। সয়াবিন চাষ করলে ওই জমির উর্বরতা শক্তিও বৃদ্ধি পায় বলে জানান তিনি।