default-image

নেত্রকোনার কেন্দুয়া সরকারি কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রাবেয়া আক্তার অবসরে গেছেন গত বছরের অক্টোবরে। তিনি যখন অবসরে যান, এরও প্রায় এক বছর আগে তাঁদের কলেজটি সরকারি হয়। কিন্তু তাঁকে বেসরকারি শিক্ষক হিসেবেই অবসরে যেতে হয়েছে। কারণ, কলেজ সরকারি হলেও শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরি তখনো সরকারি হয়নি। তারপর আরও এক বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো কলেজটির কোনো শিক্ষক-কর্মচারীর চাকরি সরকারি হয়নি।

শুধু এই কলেজই নয়, দেশের ৩০৩টি বেসরকারি কলেজের অবস্থা একই রকম। কলেজগুলো সরকারি হয়েছে ঠিকই। কিন্তু দুই বছর পেরিয়ে গেলেও এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষক-কর্মচারীর চাকরি সরকারি করতে পারেনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ কারণে ওই সব কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে। নতুন করে আন্দোলনে যাওয়ারও হুমকি দিয়েছেন তাঁরা।

বিজ্ঞাপন

ভুক্তভোগী শিক্ষকেরা অভিযোগ করেছেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গাফিলতি ও অবহেলার কারণেই সরকারি হতে দেরি হচ্ছে। কারণ, প্রথমে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) দীর্ঘ সময় নিয়ে যাচাই-যাচাই করার পর এখন মন্ত্রণালয়ে আবার যাচাই-যাচাইয়ের কাজে সময়ক্ষেপণ করছে। শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরি সরকারি না হওয়ায় কলেজ সরকারি হলেও শিক্ষার্থীরা উপকার পাচ্ছে না। আগের মতোই টিউশন ফি দিতে হচ্ছে। উপরন্তু অনেক শিক্ষককে অবসরে যেতে হচ্ছে সরকারি সুবিধা ছাড়াই। কারণ, নিয়ম করা হয়েছে, শিক্ষকেরা যখন সরকারি হবেন, তখন থেকে সরকারি সুবিধা কার্যকর হবে। যদিও শিক্ষকদের দাবি, যখন কলেজ সরকারি হয়েছিল তখন থেকে শিক্ষক-কর্মচারীদেরও সরকারি সুবিধা দেওয়া হোক।

শিক্ষক রাবেয়া আক্তার বলেন, তাঁদের কলেজটি সরকারি হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই তাঁরও স্বপ্ন ছিল তাঁর চাকরিও সরকারি হবে। এ জন্য কয়েকবার কাগজপত্রও নেওয়া হয়েছে। কিন্তু সেটি না হওয়ায় বেসরকারি শিক্ষক হিসেবেই অবসরে যেতে হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সরকারি হওয়া কলেজগুলোর শিক্ষকদের সংগঠন সরকারি কলেজশিক্ষক সমিতির তথ্য অনুযায়ী, এই কলেজগুলো সরকারি হওয়ার পর গত দুই বছরে ১ হাজার ২৬৭ জন শিক্ষক-কর্মচারী অবসরে গেছেন। আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত আরও ৬৭ জন শিক্ষক ও ৩৮ জন কর্মচারী অবসরে যাবেন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন বলেন, একসঙ্গে এতগুলো কলেজ সরকারি হওয়ায় কাজের চাপ বেড়েছে। তবে যাচাই-বাছাইয়ের জন্য তিনি পাঁচটি দল গঠন করে দিয়েছেন। করোনোর কারণে প্রথমে এই দলগুলো কাজ করতে পারেনি। কারণ, কলেজ থেকেও অধ্যক্ষসহ কয়েকজনকে কাগজপত্র নিয়ে আসতে হয়। পরিবহন চালুর পর আবার যাচাই-বাছাইয়ের কাজটি শুরু হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাউশির সূত্রমতে, দেশের যেসব উপজেলায় কোনো সরকারি কলেজ ছিল না, সেগুলোতে একটি করে বেসরকারি কলেজকে জাতীয়করণ বা সরকারি করা হয়েছে। এই কলেজগুলো সরকারীকরণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল ২০১৬ সালে। এ জন্য ওই বছরের ৩০ জুন কলেজগুলোতে নতুন করে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। পরে বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে ২০১৮ সালের ১২ আগস্ট দেশের ২৭১টি বেসরকারি কলেজকে সরকারি করে প্রজ্ঞাপন জারি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এর আগে-পরে আরও ৩২টি কলেজ জাতীয়করণ হয়।

মন্তব্য পড়ুন 0