সর্বোচ্চ ট্যাক্স রিবেট এবং অর্থের সু-বৃদ্ধির শরিয়া-সম্মত পন্থা

শরিয়া মেনে চলা মানুষগুলো শরিয়া সম্মতভাবেই নিজেদের আয়ের ব্যবস্থা করেন এবং শরিয়া সম্মতভাবেই টাকা জমা রাখতে চান। কিন্তু, এই জমানো টাকার ওপরে যে রিটার্ন/মুনাফা পাওয়া যায় সেটি ইনফ্লেশন বা মূল্যস্ফীতি’র তুলনায় কম হওয়ায় টাকা মোটেও বাড়ে না। এ ছাড়া যারা ট্যাক্সের জন্য শরিয়া মোতাবেক নিরাপদ বিনিয়োগ বা ইনভেস্টমেন্ট করতে চায় (সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগও সুদের কারণে শরিয়া-সম্মত নয়) তাদের জন্য আসলেই খুব একটা বেশি বিকল্পও নেই।

আমাদের পুঁজিবাজারে শরিয়াসম্মত শেয়ারগুলোতে বিনিয়োগ করলে ভালো রিটার্ন হতে পারে এবং এবং একই সাথে পুরো ট্যাক্স-রিবেটও (কর-রেয়াত) পাওয়া যায়। কিন্তু শরিয়া সম্মত শেয়ার নির্বাচন করা এবং তা প্রতিনিয়ত নজরদারি করা সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। তা ছাড়া, সরাসরি শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ ঝুঁকিপূর্ণও! সবকিছু মিলিয়ে শরিয়া মেনে চলা মানুষগুলোর এমন একটি পন্থা প্রয়োজন যেটি শরিয়াসম্মত হবে, ভালো রিটার্ন দেবে, সঙ্গে নিশ্চিত করবে সর্বোচ্চ ট্যাক্স রিবেট।

আইডিএলসি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট শরিয়া ফান্ড (শুধু শরিয়া-সম্মত বিনিয়োগের মাধ্যমে অর্থের সু-বৃদ্ধি এবং সর্বোচ্চ ট্যাক্স রিবেটই নয়, ‘পিউরিফিকেশনের’ মাধ্যমে ইনকামের বিশুদ্ধতাও নিশ্চিত করে।

আইডিএলসি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট শরিয়া ফান্ড (‘ফান্ড’) ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিস অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (মিউচুয়াল ফান্ড) বিধিমালা, ২০০১’ -এর অধীনে পরিচালিত একটি (বে-মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ড) / (বিনিয়োগ মাধ্যম)। এ ফান্ডে বিনিয়োগের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীরা শরিয়া-সম্মত ব্যবসার মালিকানার অংশীদার হন অর্থাৎ-লাভ/ক্ষতির ভাগীদার হন। যেহেতু লাভ/ক্ষতি দুটিই আপনাকে নিতে হবে, এই বিনিয়োগ মাধ্যমটি তাই কোনো নিশ্চিত মুনাফা/রিটার্ন দেয় না।

আইডিএলসি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট শরিয়া ফান্ডের SIP (Systematic Investment Plan) একসঙ্গে একটি বড় অঙ্কের বিনিয়োগ না করে ডিপিএসের মতোই প্রতি মাসে নিজের সাধ্য অনুযায়ী একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করা যায়। এককালীন বিনিয়োগের তুলনায় মাসে মাসে বিনিয়োগের ফলে বিনিয়োগের ঝুঁকিও অনেকাংশে হ্রাস পায়। এবং দীর্ঘ মেয়াদে দেখা যায় এ ধরনের বিনিয়োগ থেকে সঞ্চয়ী স্কিম এর চেয়ে বেশ ভালো একটি মুনাফা আসে (যেহেতু এই ফান্ডের বিনিয়োগ হয় সরাসরি ব্যবসায়)। এ ছাড়া, আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ অনুযায়ী বিনিয়োগকৃত সম্পূর্ণ টাকাই ট্যাক্স রিবেটের উপযুক্ত বিনিয়োগ হওয়ায় ভালো রিটার্নের পাশাপাশি এ ফান্ড দেয় সর্বোচ্চ ট্যাক্স রিবেটের নিশ্চয়তা।

ভালো রিটার্ন আর সর্বোচ্চ ট্যাক্স-রিবেটের পাশাপাশি আয়ের বিশুদ্ধতা নিশ্চিতে এ ফান্ড ‘পিউরিফিকেশন’ নামক একটি প্রক্রিয়া চালু রেখেছে। শরিয়া প্রতিপালনে ‘পিউরিফিকেশন’ খুবই জরুরি একটি বিষয়। বিষয়টি একটু ব্যাখ্যা করা যাক-

ধরুন, আপনার টাকা শরিয়া ফান্ডের মাধ্যমে একটা কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ করা হলো-যার লাভ/ক্ষতির ভাগীদার আপনি! যেহেতু লাভ বা ক্ষতি আপনাকেই নিতে হবে, অর্থাৎ, এটি guaranteed interest income নয়, কাজেই সুদের হিসাব এখানে আসছে না।

কিন্তু হতে পারে, ওই কোম্পানি তাদের আয়ের একটা অংশ প্রচলিত ব্যাংকে জমা রাখে। যে কারণে, তাদের মোট ইনকামের একটি ক্ষুদ্র অংশ (৫% বা তার চেয়ে কম) আসে সুদ থেকে। তার মানে, টোটাল ইনকামের ৫% (বা তার চেয়ে কম) শরিয়া-সম্মত নয়। এ ক্ষেত্রে, এই বিনিয়োগ থেকে আপনি যখন মুনাফা করছেন, ওই ৫% সুদ পুরো আয় থেকে বাদ না দিলে কিন্তু পুরো মুনাফাটি-ই আর শরিয়া-সম্মত থাকবে না। সুদ হোক বা অন্য কোনো শরিয়া অননুমোদিত আয়-যত ক্ষুদ্রই হোক-সেটাকে ইনকাম থেকে সরিয়ে দেওয়ার প্রসেসটাই হচ্ছে ‘পিউরিফিকেশন’। একদিকে বিনিয়োগটি-ও হয় শরিয়া-সম্মত, তার ওপর সেখান থেকে ইনকামের কোনো ক্ষুদ্র অংশও যদি সম্পূর্ণভাবে শরিয়া অনুমোদিত না হয়, ‘পিউরিফিকেশন’ এর মাধ্যমে তা বাদ দিয়ে আপনার আয়ের বিশুদ্ধতা নিশ্চিত করা হয়।

পাশাপাশি, বিনিয়োগের শরিয়া কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করতে রয়েছে দেশের বরেণ্য ইসলামিক ও ফাইন্যান্স স্কলারদের নিয়ে গঠিত শরিয়া সুপারভাইজারি বোর্ড। এ সবকিছু মিলিয়ে, আইডিএলসি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট শরিয়া ফান্ড এর ‘শরিয়া বিনিয়োগ নীতিমালা’ স্বীকৃতি অর্জন করেছে আন্তর্জাতিক ইসলামি ফাইনান্স অ্যাডভাইজর ‘আমানি অ্যাডভাইজারস লিমিটেড’-এর। দুবাই-ভিত্তিক আমানি অ্যাডভাইজারস লিমিটেড বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ২০০ টির-ও বেশি ক্লায়েন্ট-এর ৬০০ টির-ও বেশি শরিয়া-সংক্রান্ত অ্যাডভাইজরি প্রকল্প সম্পাদনের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বিশ্বের অন্যতম ইসলামি ফাইন্যান্স অ্যাডভাইজরি সংস্থা।

তাই, শরিয়া মেনে চলতে চাওয়া মানুষগুলোর ইনফ্লেশন-কে হারিয়ে অর্থের সু-বৃদ্ধির জন্য এবং সর্বোচ্চ ট্যাক্স রিবেটের জন্য “আইডিএলসি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট শরিয়া ফান্ড-ই হতে পারে সবচেয়ে উপযুক্ত পন্থা।