বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি দম্পতি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের বাসায় খুন হন। পরদিন ঘরের ভেতর থেকে তাঁদের ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নওশের আলম শেরেবাংলা থানায় হত্যা মামলা করেছিলেন।

নূরণ নাহার মির্জার বয়স হয়েছিল ৬৪ বছর। কয়েক মাস ধরেই শারীরিক নানা জটিলতা দেখা দেয়। গত ২১ ডিসেম্বর তাঁকে রাজধানীর ইউনিভার্সাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তিনি কিছুটা সুস্থও হয়েছিলেন। পরে ২ জানুয়ারি তাঁর করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ে। পরদিন তাঁকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের করোনা ইউনিটে ভর্তি করা হয়। সেখানেই দায়িত্বরত চিকিৎসকেরা আজ সকাল সোয়া আটটার দিকে পরিবারের সদস্যদের তাঁর মৃত্যুর সংবাদ দেন।

নওশের রহমান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে মা নূরণ নাহারের শারীরিক অবস্থার কথা জানাচ্ছিলেন। ২২ ডিসেম্বর নাক ও বুকে নল লাগানো নূরণ নাহার কিছুটা সুস্থ বোধ করলে হাসপাতালের বিছানায় শুয়েই ছেলে নওশের রহমানের সঙ্গে সেলফি তোলেন। সেই ছবিও পোস্ট করেছিলেন ছেলে। ছেলে ভেবেছিলেন, মা হয়তো হাসপাতাল থেকে ঘরে ফিরবেন।

default-image

নওশের প্রথম আলোকে জানান, তাঁর মাকে রাজধানীর আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। সাগর সরওয়ার, মেহেরুন রুনিসহ পরিবারের অন্য সদস্যদের পাশেই তাঁকে কবর দেওয়া হয়েছে।

নওশের আলম বলেন, ‘আপা ও দুলাভাই নিতহ হওয়ার পর থেকেই আম্মার মানসিক অবস্থা খারাপ হতে থাকে। তিনি শুধু মেঘ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, নিজের পায়ে দাঁড়িয়েছে—এটা দেখে যেতে চেয়েছিলেন। তা হলো না। একইভাবে আপা-দুলাভাইয়ের হত্যাকাণ্ডের বিচারও দেখে যেতে পারলেন না।’

সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের পর তখনকার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন বলেছিলেন, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হবে। এরপর সরকারের অন্যান্য সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরাও অনেক আশ্বাস দিয়েছিলেন। তবে ৯ বছরেও এ মামলায় আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা পড়েনি। এ জন্য র‌্যাবের পক্ষ থেকে ৮৪ বার আদালত থেকে সময় নেওয়া হয়েছে।

default-image

রুনির ভাই নওশের আলম বাদী হয়ে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় করা হত্যা মামলাটি প্রথমে তদন্ত করছিল শেরেবাংলা নগর থানার পুলিশ। চার দিন পর এ হত্যা মামলার তদন্তভার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়। তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার ৬২ দিনের মাথায় ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল হাইকোর্টে ব্যর্থতা স্বীকার করে ডিবি। এরপর আদালত র‍্যাবকে মামলা তদন্তের নির্দেশ দেন। সেই থেকে র‍্যাব মামলাটির তদন্ত করছে।

নূরণ নাহারের ব্যাংকার স্বামী আইনুল হক মিয়া ২০০৮ সালে মারা যান। মেয়ে মেহেরুন রুনি মারা যাওয়ার পর থেকে রাজধানীর ইন্দিরা রোডের বাসায় নূরণ নাহার দুই ছেলে ও মেঘকে নিয়ে থাকতেন।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন