বরিশাল সদর আসনের সাংসদ ও বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র শওকত হোসেন হিরন আর নেই। আজ বুধবার সকাল সাতটায় রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতালে তিনি ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তাঁর বয়স হয়েছিল ৫৮ বছর।
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক প্রথম আলোকে এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবজালুল করিম প্রথম আলোকে জানান, আজ সকাল সাতটায় হিরনের কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাসব্যবস্থা (লাইফ সাপোর্ট) খুলে নেওয়া হয়।
হিরনের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বরিশালে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
জাহাঙ্গীর কবির নানক জানিয়েছেন, আজ বিকেল চারটায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় হিরনের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। ঢাকায় তাঁর মরদেহ হিমঘরে রাখা হবে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার বেলা দুইটায় তেজগাঁও পুরাতন বিমানবন্দর থেকে হেলিকপ্টারে করে মরদেহ বরিশাল নেওয়া হবে। সেখানে দ্বিতীয় জানাজা হবে। পরের দিন শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে সর্বশেষ জানাজা হবে। এরপর তাঁকে বরিশালের মুসলিম কবরস্থানে দাফন করা হবে।
গত ২২ মার্চ রাতে বরিশাল ক্লাবের লনে পায়চারি করার সময় পা ফসকে পড়ে গিয়ে মাথায় আঘাত পান হিরন। তাঁকে দ্রুত বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে রাত একটায় তাঁকে ঢাকায় পাঠানো হয়। ঢাকার অ্যাপোলো হাসপাতালে তাঁর মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়। ২৩ মার্চ তাঁকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সেখান থেকে আবার তাঁকে ঢাকায় ফেরত এনে অ্যাপোলো হাসপাতালে কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাসে রাখা হয়। আজ সকালে তাঁর কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাসব্যবস্থা খুলে নেওয়া হয়।
দশম জাতীয় সংসদে বরিশাল সদর আসনের সাংসদ হিরন মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। এ ছাড়া বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র তিনি।
এক শোকবার্তায় রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেন, তাঁর (হিরন) মৃত্যুতে দেশ একজন দেশপ্রেমিক ও নিবেদিতপ্রাণ রাজনীতিককে হারাল। তিনি বলেন, বরিশালের উন্নয়নে হিরনের ভূমিকা ছিল অতুলনীয়। বরিশালের মানুষের জন্য তাঁর ভালোবাসা স্মরণীয় হয়ে থাকবে। উন্নয়নের স্থপতি হিরনকে গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় বরিশালের মানুষ মনে রাখবে। রাষ্ট্রপতি মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্য, বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
এক শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে অবহেলিত ছিল বরিশাল শহর। সর্বাত্মক প্রচেষ্টার মাধ্যমে হিরন এই শহরকে প্রাচ্যের ভেনিসে পরিণত করেছেন। তিনি বলেন, হিরনের মৃত্যুতে বরিশালের মানুষ একজন নিবেদিত রাজনীতিবিদ ও উন্নয়নের স্থপতিকে হারাল। তাঁর মৃত্যুতে আওয়ামী লীগ একজন শক্তিশালী সংগঠক এবং রাষ্ট্র একজন সত্যিকারের দেশপ্রেমিককে হারিয়েছে।
জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, মো. শওকত হোসেন ছিলেন দেশ ও জাতির একজন সূর্যসন্তান। তিনি আমৃত্যু মানুষের কল্যাণে কাজ করে গেছেন। তিনি ছিলেন জনগণের বিপদের বন্ধু, সুখ-দুঃখের সাথি এবং দেশের এক গর্বিত সন্তান। তাঁর মৃত্যুতে দেশ ও জাতি একজন বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ও সমাজসেবককে হারাল। তাঁর মৃত্যু দেশের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। এ ক্ষতি কোনোভাবেই পূরণ হওয়ার নয়।
প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এক শোকবার্তায় বলেন, ‘হিরনের মৃত্যুর খবর শুনে আমি দারুণভাবে মর্মাহত হয়েছি। তাঁর মতো একজন জনপ্রিয় নেতার মৃত্যুতে বরিশালবাসী হারাল একজন যোগ্য নেতা, আর আমি হারালাম একজন আপনজনকে। এই মৃত্যুজনিত অভাব পূরণ হওয়ার নয়।’

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0