সাইমুনের কথা বলতে পারা নিয়ে সংশয়

গুলিবিদ্ধ সেই কিশোর শেখ সাইমুন ভবিষ্যতে কথা বলতে পারবে কি না, তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। সপ্তাহ খানেক আগে তার মাথায় গুলি লাগে। সে এখনো কথা বলতে পারছে না। কথা বলতে গেলে মুখ থেকে শুধু একটি-দুটি শব্দ বের হয়।
রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতালে সাইমুন চিকিৎসাধীন। তার বাবা শেখ জাহাঙ্গীর টেলিফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার ছেলেটা আবার কথা বলতে পারবে কি না, বুঝতে পারছি না। চিকিৎসকেরা বলেছেন, মাথায় যেভাবে গুলিটা লেগেছে এবং যে জায়গায় আঘাত পেয়েছে, তাতে করে সে ভবিষ্যতে কথা বলতে পারবে কি না, তা বলা যাচ্ছে না।’
সাইমুন মা-বাবার একমাত্র ছেলে। বয়স ১৩ বছর। পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশোনা করেছে। তার বাবা শেখ জাহাঙ্গীর লক্ষ্মীবাজারে ফুটপাতে কাপড়ের ব্যবসা করেন। এলাকায় সাইমুন ডানপিটে হিসেবে পরিচিত। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর সাইমুনকে প্রথমে পুলিশের সহায়তায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে এলাকাবাসী সাইমুনের পাশে দাঁড়ায়। সবাই যে যার মতো করে আর্থিকভাবে সহায়তা করে একটি তহবিল গঠন করে। তারপর বুধবার রাতে সাইমুনকে অ্যাপোলো হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রথমে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়। বর্তমানে তাকে ওয়ার্ডে রাখা হয়েছে।
১৩ আগস্ট মঙ্গলবার রাত নয়টার দিকে পুরান ঢাকার লক্ষ্মীবাজারে ডিআইটি মার্কেটে ঈদ উপলক্ষে আয়োজিত মেলায় সাইমুন গুলিবিদ্ধ হয়। লক্ষ্মীবাজারের স্থায়ী বাসিন্দা এবং সাইমুনের কয়েকজন আত্মীয় নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ডিআইটি মার্কেটে স্বেচ্ছাসেবক লীগ প্রতিবছর ঈদের সময় কয়েক দিনব্যাপী মেলার আয়োজন করে। মেলায় আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের নেতাদের মধ্যে কোন্দলের একপর্যায়ে গুলির ঘটনা ঘটে। তবে সাইমুন গুলির লক্ষ্য ছিল না। সে মেলায় গিয়েছিল আনন্দ করতে।