সার্জেন্টের মামলা দ্রুত নেওয়ার দাবি এইচআরএফবির
রাজধানীর গুলশানে মধ্যরাতে বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালিয়ে এক নারী পুলিশ সার্জেন্টের বাবাকে চাপা দেওয়ার ঘটনার ১২ দিন পরও অভিযোগ গ্রহণ না করায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস ফোরাম বাংলাদেশ (এইচআরএফবি)। পাশাপাশি দ্রুততার সঙ্গে মামলা গ্রহণ করাসহ পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছে মানবাধিকার ও নাগরিক সংগঠনগুলোর এই জোট।
আজ বৃহস্পতিবার এইচআরএফবির সমন্বয়ক তামান্না হকের সই করা এক বিবৃতিতে এ প্রতিবাদ ও দাবিগুলো জানানো হয়। দাবিগুলো হলো ভুক্তভোগী ও তাঁর পরিবার যাতে বিচার লাভের অধিকার থেকে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করার জন্য দ্রুততার সঙ্গে মামলা গ্রহণ ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা; সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ থাকা সত্ত্বেও মামলা গ্রহণ না করার জন্য দায়ী পুলিশ কর্মকর্তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা; নারী সার্জেন্ট ও তাঁর পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ; নারী সার্জেন্ট মহুয়া হাজংয়ের পেশাগত জীবনে যেন কোনো প্রকার নিরাপত্তাহীনতার সৃষ্টি না হয়, তা নিশ্চিত করা এবং আহত মনোরঞ্জন হাজংয়ের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা।
ভুক্তভোগীর নৃতাত্ত্বিক কিংবা অভিযুক্ত ব্যক্তিদের পারিবারিক পরিচয় কোনোভাবেই যাতে বিচার লাভের অন্তরায় হয়ে না দাঁড়ায়, সেটিও নিশ্চিত করতে বলেছে এইচআরএফবি।
বিবৃতিতে এইচআরএফবি বলেছে, গণমাধ্যমসূত্রে জানা গেছে, তিন দফায় নারী সার্জেন্ট মহুয়া হাজং মামলা করার চেষ্টা চালিয়েছেন। কিন্তু তাঁর মামলা নেওয়া হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, গাড়িটি চালাচ্ছিলেন এক বিচারপতির ছেলে সাইফ হাসান। পরে পথচারীরা গাড়ির চালক ও গাড়িটিকে আটক করে পুলিশে দেয়। কিন্তু কিছুক্ষণ পর বিচারপতির ছেলে ও তাঁর বন্ধুদের ছেড়ে দেয় পুলিশ। আর আহত মনোরঞ্জনকে পঙ্গু হাসপাতালে পাঠানো হয়। তাঁর কোমরের নিচের অংশ থেঁতলে যাওয়ায় একটি পা কেটে ফেলতে হয়েছে। এখন তিনি জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন।
এইচআরএফবি বলছে, আইনের আশ্রয়লাভের অধিকার প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার। একজন পুলিশ হয়েও মহুয়া হাজং এতবার প্রচেষ্টা চালানোর পরও মামলা করতে না পারা থেকে প্রতীয়মান হয়, এ ক্ষেত্রে কোনো প্রভাবশালী পক্ষ ভূমিকা রাখছে।