বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সম্প্রতি পিপিআরসি-বিআইজিডি তাদের গবেষণায় দেখিয়েছে, করোনাকালে দেশে ৩ কোটি ২৪ লাখ মানুষ নতুন করে দরিদ্র হয়েছে। আমরা সানেমের পক্ষ থেকে গবেষণায় একই ধরনের ফলাফল তুলে ধরেছিলাম। আমরা বলেছিলাম, দারিদ্র্যের হার এখন প্রায় ৪২ শতাংশের মতো, যা ২০১৯ সালের তুলনায় দ্বিগুণ। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে নতুন দরিদ্র শ্রেণি তৈরি হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করা হচ্ছে না। এটা অস্বীকৃতির একটি সংস্কৃতি। এবারের বাজেটেও বিষয়টি উপেক্ষিত থেকেছে। এবার জ্বালানির দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রেও এই অস্বীকৃতির সংস্কৃতি কাজ করেছে। নীতিনির্ধারকেরা ধরে নিয়েছেন, সমস্যা গভীর না।

যাঁরা নতুন করে দরিদ্র হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে মধ্যবিত্ত বা নিম্নমধ্যবিত্তরাও রয়েছেন। তাঁদের সংকট আরও গভীর। তাঁরা যে সমস্যায় আছেন, তার কোনো স্বীকৃতিই নেই। নীতিনির্ধারকেরা ধরে নিয়েছেন, এখন স্বাভাবিক সময়। তাই অন্য সময় যেভাবে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি হয়, এবারও হঠাৎ করে তেমন একটি সিদ্ধান্ত হলো। নীতিনির্ধারকদের বুঝতে হবে, এটা কোনো স্বাভাবিক সময় নয়। আমরা করোনায় বিধ্বস্ত একটি বাস্তবতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। এই দুঃসময়ে অসাধারণ সিদ্ধান্ত দরকার।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) লোকসানের কথা বলে জ্বালানির দাম বাড়ানো হলো। কিন্তু এর ফলে অর্থনীতি ও সামাজিক ক্ষতি হবে অনেক বেশি। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেড়েছে। তবে দেশে দাম স্থিতিশীল রাখতে সরকার জ্বালানি তেল আমদানির ওপর কর কমিয়ে দিতে পারত। এতে যে রাজস্ব ক্ষতি হতো, সেটাকে অর্থনীতির জন্য প্রণোদনা হিসেবে একটি প্যাকেজের আওতায় আনা যেত। দাম বাড়ানোর বিষয়টি ছয় মাস পিছিয়ে দিলে অর্থনীতির সব খাত ও সাধারণ মানুষ সুফল পেত।

ভারতে জ্বালানির দাম বেশি বলে পাচার হয়ে যাবে, এটা শক্তিশালী যুক্তি নয়। পণ্য পাচার ঠেকানোর দায় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর। পাচারের যুক্তি দিয়ে দেশের পণ্যের দাম বাড়ানো যায় না।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন