সিনেটের শিক্ষক প্রতিনিধির ৩৩টি পদেই আওয়ামীপন্থীরা

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সিনেটে শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও বামপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন হলুদ দল নির্বাচিত হয়েছে। ৩৩টি পদের সব কটিতে জিতেছেন হলুদ দলের শিক্ষকেরা। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল নয়টা থেকে বেলা দেড়টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ শেষে রাত সাড়ে আটটায় ফল ঘোষণা করা হয়।
তবে বিএনপি ও জামায়াতপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দল নির্বাচন বর্জন করে। নির্বাচন চলাকালীন বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেন দলের শিক্ষকেরা।
মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় ১৪ বছর পর অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে অংশ নেওয়া ৪০ জন প্রার্থীই ছিলেন হলুদ দলের অনুসারী শিক্ষক।
নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার আলমগীর চৌধুরী বলেন, ‘নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনে ৭৩৯ জন ভোটারের মধ্যে ভোট পড়েছে ৫৪৮টি।’
নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, নির্বাচিত শিক্ষকেরা হলেন মুস্তাফিজুর রহমান ছিদ্দিকী, আবদুল্লাহ আল ফারুক, মাইনুল হাসান চৌধুরী, মোহাম্মদ মহীবুল আজিজ, মোহাম্মদ আলী আজগর চৌধুরী, অরুণ কুমার দেব, মোহাম্মদ নাসিম হাসান, অলক পাল, বেনু কুমার দে, মোহাম্মদ ওমর ফারুক, মোহাম্মদ আবুল মনছুর, মোহাম্মদ সফিউল আলম, মোহাম্মদ জসীমউদ্দিন, মো. দানেশ মিয়া, মো. রাশেদ উন নবী, শংকর লাল সাহা, মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, এস এম মনিরুল হাসান, কাজী এস এম খসরুল আলম কুদ্দুসী, সিরাজ-উদ-দৌল্লাহ, নাসির উদ্দিন, ফরিদ উদ্দিন আহমেদ, ইমরান হোসেন, মোহাম্মদ মাহবুবুল হক, মো. সেকান্দার চৌধুরী, মোহাম্মদ বশির আহম্মদ, সুকান্ত ভট্টাচার্য, ফয়েজুল আজিম, আবুল বশর মোহাম্মদ আবু নোমান, এম এম সালামত উল্যা ভূঁইয়া, জাহাঙ্গীর আলম, সুলতান আহমেদ ও শাহেদ বীন ছাদিক।
এদিকে সাদা দলের মানববন্ধন শেষে দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক কে এম গোলাম মহিউদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দেন মোজাফফর আহমদ চৌধুরী, আবদুল করিম, হারুনুর রশীদ, মোকতার আহমেদ, মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান, মোহাম্মদ শামসুদ্দিন, রফিকুল ইসলাম, মোশারেফ হোসেন ভূঁইয়া, এস এম নছরুল কদির, মো. আতিয়ার রহমান প্রমুখ।
সমাবেশে শিক্ষকেরা অভিযোগ করেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য শুধু শিক্ষকদের নিয়ে সিনেট নির্বাচনের আয়োজন করেছে। এটি অনৈতিক। তাঁরা বলেন, সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে নির্বাচনের তারিখ ও সময় নির্ধারণের বাধ্যবাধকতাকে বর্তমান প্রশাসন অগ্রাহ্য করেছে। উপাচার্যের মেয়াদের শেষ সময়ে এসে অনুগতদের নিয়ে সিনেটে শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচন প্রহসন ছাড়া আর কিছু নয়।
নির্বাচনে সর্বাধিক ভোট পেয়ে জয়ী হওয়া বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সদ্য বিদায়ী সাধারণ সম্পাদক মুস্তাফিজুর রহমান ছিদ্দিকী তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘নির্বাচনে শিক্ষকদের মতামতের প্রতিফলন হয়েছে। তবে নির্বাচনে সব পক্ষ অংশ নিলে ভালো হতো।’