সিলেটের উজানে ভারতের মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জিতে বৃষ্টি কমতে শুরু করেছে। তবে বন্ধ হয়নি। গতকাল রোববার ২৪ ঘণ্টায় সেখানে ১২২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এর আগের এক সপ্তাহের প্রায় প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৯০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হয়েছে।

সিলেটেও বৃষ্টি কমে এসেছে। ফলে এক সপ্তাহ ধরে চলা বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। সিলেট, সুনামগঞ্জ ও নেত্রকোনায় বন্যার পানি কমতে শুরু করেছে। তবে ওই পানি হবিগঞ্জ দিয়ে নামতে শুরু করায় সেখানকার নদ-নদীতে পানি বাড়ছে। সেখানে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে।

অন্যদিকে চট্টগ্রাম ও পার্বত্য জেলাগুলোতে অস্বাভাবিক হারে বৃষ্টি বেড়েছে। ফলে সেখানে পাহাড়ধস শুরু হয়েছে। সামনের কয়েক দিন ওই ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুজ্জামান ভূঁইয়া প্রথম আলোকে বলেন, বাংলাদেশের উজানে মেঘালয়ে বৃষ্টি কমলেও আসাম ও ত্রিপুরায় বৃষ্টি চলছে। ফলে উত্তরাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে। আরও সপ্তাহখানেক উত্তর-মধ্যাঞ্চলে বৃষ্টি চলতে পারে।

দেশের উত্তরাঞ্চলের প্রধান নদী ব্রহ্মপুত্র ও যমুনার পানি বাড়তে শুরু করেছে। লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল, কুড়িগ্রাম, রংপুর ও গাইবান্ধায় বন্যার পানি বাড়ছে। আগামীকাল মঙ্গলবারের মধ্যে তিস্তার পানিও বাড়তে পারে। এ ছাড়া চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান ও রাঙামাটির নদ-নদীর পানি বাড়তে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অবশ্য বলছে, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দেশের উত্তরাঞ্চল ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল এবং এর উজানে ভারতের মেঘালয়, আসাম, ত্রিপুরা ও পশ্চিমবঙ্গের হিমালয় পাদদেশীয় অঞ্চলে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। ফলে পদ্মা, ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, ধরলা, দুধকুমারসহ আশপাশের নদ-নদীর পানি বাড়তে পারে। তবে অন্য এলাকাগুলোর তুলনায় মেঘালয়ে ভারী বৃষ্টিপাত কমে আসতে পারে।

এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পর্যবেক্ষণ বলছে, আজ সকাল থেকে চট্টগ্রাম বিভাগ ও পার্বত্য চট্টগ্রামে ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। এ ছাড়া দেশের উত্তরাঞ্চলেও বৃষ্টি চলছে এবং অব্যাহত থাকবে। সিলেট বিভাগে বৃষ্টি কমলেও তা আপাতত বন্ধ হচ্ছে না।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন