
আবদুল্লাহপুর-আশুলিয়া মহাসড়কের উত্তর পাশে তিন হাজারের বেশি প্লট নিয়ে গঠিত ১০ নম্বর সেক্টরটি উত্তরার সবচেয়ে বড় সেক্টর। এর ভেতরে বিভিন্ন জায়গায় গড়ে ওঠা অবৈধ বস্তির কারণে নিরাপত্তাব্যবস্থা নাজুক। সেক্টরের রানাভোলা অ্যাভিনিউতে সড়কবাতি না থাকায় সন্ধ্যার পর প্রায়ই ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে বলে বাসিন্দারা জানান।
গতকাল মঙ্গলবার দেখা যায়, সেক্টরের ১৩ নম্বর সড়কের শেষ মাথায় গড়ে উঠেছে বস্তি। রানাভোলা অ্যাভিনিউ থেকে সেক্টরের শেষ সীমানা ভাটুলিয়া পর্যন্ত এ রকম বস্তি আছে প্রায় ২৫টি। মূলত সেক্টরের ফাঁকা প্লটগুলোতে এবং সরকারি ফাঁকা জমিতে বস্তিগুলো গড়ে উঠেছে। বস্তি ছাড়াও সেক্টরের ভেতরে দুটি বেদেপট্টিও আছে।
১০ নম্বর সেক্টর কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. নুরুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, সেক্টরের ফাঁকা জায়গাগুলোতে গড়ে ওঠা বস্তির কারণে পরিবেশ ঠিক থাকছে না। মাদক ব্যবসা ও ছিনতাইয়ের মতো অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। একাধিকবার রাজউককে চিঠি দিয়ে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করা হয়েছে।
তবে বস্তির কারণে অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে, এটা মানতে নারাজ বস্তির বাসিন্দারা। ১৩ নম্বর সড়কে অবস্থিত বস্তির বাসিন্দা এরশাদ মিয়া বলেন, ‘আমরা বস্তিতে কোনো মাদকাসক্ত ব্যক্তিকে থাকতে দিই না, মাদক বেচা তো দূরের কথা। বস্তিতে যারা কোনোমতে থাকে, তারা ঝামেলায় পড়তে চায় না।’
আশুলিয়া রোডের দক্ষিণ পাশে পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গায় গড়ে ওঠা বস্তি কিছুদিন আগে উচ্ছেদ করা হয়েছিল। উচ্ছেদকৃত জায়গায় আবার নতুন অবৈধ দোকান ও বস্তি গড়ে উঠছে। এই জায়গাগুলোও উত্তরা ১০ নম্বর সেক্টরের মধ্যে। ১০ নম্বর সেক্টর কল্যাণ সমিতির পক্ষ থেকে এই জায়গাগুলোতে বনায়ন ও ফুলের বাগান করার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের অনুমতি চাওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলী হোসেন খান প্রথম আলোকে বলেন, খালি প্লটগুলোতে যাতে বস্তি গড়ে না ওঠে, সে বিষয়ে সেক্টরের বাসিন্দাদের উদ্যোগী হতে হবে। বস্তি উচ্ছেদ করতে সিটি করপোরেশন ও রাজউককে চিঠি দেওয়া হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।
দেখা যায়, রানাভোলা অ্যাভিনিউতে গড়ে উঠেছে বাঁশপট্টি। পুরো অ্যাভিনিউতে উন্নয়নের ছোঁয়া সেভাবে লাগেনি। সড়কবাতি নেই। ভাঙাচোরা সড়ক। রাতের বেলা ঘুটঘুটে অন্ধকার থাকায় ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে বলে সেক্টরের বাসিন্দারা জানান।
এ বিষয়ে ডিএনসিসির আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, রানাভোলা অ্যাভিনিউর কিছু জায়গায় উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে। সেখানে সড়কবাতি বসানো হয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আরও কিছু সড়কবাতি লাগানোর ব্যবস্থা করা হবে।
ডিএনসিসি সূত্রে জানা যায়, রানাভোলা অ্যাভিনিউতে থাকা বৈদ্যুতিক খুঁটিতে সড়কবাতি বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফলে সড়কবাতির জন্য আলাদা খুঁটির ব্যবস্থা করতে হবে না। আগামী এক মাসের মধ্যে রানাভোলা অ্যাভিনিউতে ৫০টির মতো সড়কবাতির লাগানো হবে বলে জানা গেছে।
উত্তরা ১০ নম্বর সেক্টরটি ‘ভিআইপি সেক্টর’ হিসেবে পরিচিত হলেও সেভাবে উন্নয়ন হয়নি। তবে সেক্টরের বাসিন্দারা অন্যান্য বিষয়ের মতো নিরাপত্তার প্রশ্নেও নিজেরাই উদ্যোগী হয়েছেন। সেক্টরের নিরাপত্তা বিধানে কল্যাণ সমিতির পক্ষ থেকে ৫৫ জন নিরাপত্তারক্ষী নিয়োগ করা হয়েছে। সেক্টরের ২৪টি মূল সড়কে বসানো হয়েছে লোহার ফটক। রাত ১১টায় এসব লোহার ফটক লাগিয়ে দেন নিরাপত্তারক্ষীরা।