দুই দিন ধরে ধর্ষণের শিকার নারী ও তাঁর স্বামীর সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা চালান প্রথম আলোর এই প্রতিবেদক। কিন্তু ট্যুরিস্ট পুলিশের পক্ষ থেকে অনুমতি পাওয়া যায়নি।
কারণ জানতে চাইলে ট্যুরিস্ট পুলিশের পুলিশ সুপার মো. জিল্লুর রহমান বলেন, তাঁরা বিশ্রামে আছেন, কথা বলতে হলে সময় লাগবে। তবে একসঙ্গে কয়েকজন সাংবাদিকের সামনে তাঁদের মুখোমুখি করার চেষ্টা চলছে। তখন সবকিছু জানা যাবে।

তবে মুঠোফোনে ওই নারীর স্বামী বলেন, ঘটনার (২২ ডিসেম্বর রাতে) পর থেকে তাঁদের তিনজনের গোসল হয়নি। ঠিকমতো ঘুম ও খাওয়াদাওয়া হচ্ছে না। কোলের শিশুটা অসুস্থ। কিন্তু নিরাপত্তার কথা বলে তাঁদের ছাড়া হচ্ছে না। তবে এ কথাও সত্যি, ধর্ষণের সঙ্গে জড়িত সন্ত্রাসী আশিকের শক্তিশালী বাহিনী আছে শহরে। সে দিক বিবেচনা করে তাঁরাও এখানে থেকে যেতে রাজি হয়েছেন। ‘কিন্তু এভাবে কত দিন! আমরা বাড়ি ফিরতে চাই,’ ওই নারীর স্বামীর কণ্ঠে আকুতি।

default-image

২২ ডিসেম্বর বিকেলে স্বামী ও শিশুসন্তানকে নিয়ে সৈকতের লাবণী পয়েন্টে নামেন ওই নারী। বালুচর দিয়ে হেঁটে পানির দিকে নামার সময় তাঁর স্বামীর সঙ্গে সামান্য ধাক্কা লাগে আশিকের। এর জের ধরে সন্ধ্যায় পর্যটন গলফ মাঠ এলাকা থেকে ওই নারীকে তুলে নিয়ে যান আশিক। প্রথমে ঝুপড়ি একটি চায়ের দোকানে, পরে কলাতলীর একটি হোটেলে ওই নারীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়।

পরের দিন ২৩ ডিসেম্বর রাতে ওই নারীর স্বামী বাদী হয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় মো. আশিক (২৮), মো. বাবু (২৫), ইসরাফিল হুদা জয় (২৮) ও রিয়াজ উদ্দিন ওরফে ছোটন (৩০) এবং অজ্ঞাতনামা আরও তিনজনসহ মোট সাতজনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।

অবশ্য ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আজ রোববার তিন যুবককে গ্রেপ্তার করেছে ট্যুরিস্ট পুলিশ। তবে তাঁরা কেউ মামলার এজাহারভুক্ত আসামি নন। গ্রেপ্তার তিনজন হলেন—শহরের দক্ষিণ বাহারছড়ার রেজাউল করিম সাহাবুদ্দিন (২৫), চকরিয়ার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের উলুবুনিয়ার মামুনুর রশিদ (২৮) ও পশ্চিম বাহারছড়া এলাকার মেহেদী হাসান (২৫)।

ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মহিউদ্দিন বলেন, ‘পরিস্থিতি স্বাভাবিক মনে করলে তাঁরা (ওই নারী ও তাঁর স্বামী) চলে যেতে পারেন। আমাদের দায়িত্ব নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।’

পুলিশ জানায়, হোটেল কক্ষে নারীকে ধর্ষণে সহযোগিতার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া রিয়াজ উদ্দিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে ট্যুরিস্ট পুলিশ। গত শনিবার বিকেলে কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করে ট্যুরিস্ট পুলিশ। আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিয়াজ উদ্দিন হোটেল জিয়া গেস্ট ইনের ব্যবস্থাপক।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন