রোগের বিস্তারের সঙ্গে প্রাণী, প্রকৃতি ও মানুষ সব একাকার হয়ে গেছে
রোগের বিস্তারের সঙ্গে প্রাণী, প্রকৃতি ও মানুষ সব একাকার হয়ে গেছে

আমাদের জানা পৃথিবী বদলে যাচ্ছে। পরিবর্তনের এই মিছিলে ‘ওয়ান হেলথ’ পন্থা বা ধারণা কী এবং কেন, তার উত্তর খোঁজার প্রয়াসেই এই সংক্ষিপ্ত অবতারণা। আমাদের চারপাশে জীব ও জড়ের পারস্পরিক ঘনিষ্ঠ মিথস্ক্রিয়া ১০ হাজার বছরের অধিক সময় ধরে গড়ে ওঠা ভূতাত্ত্বিক পর্বে যে স্থিত অবস্থা বিরাজ করছিল, তার অবসান ঘটছে। অন্যদিকে এক নতুন পর্বের আবির্ভাব ঘটছে, যা অ্যানথ্রোপসিন নামে পরিচিত। প্রকৃতি ও পরিবেশে সব জীব ও জড়ের ওপর এর প্রভাব সব ক্ষেত্রেই দৃশ্যমান। জলবায়ু পরিবর্তন থেকে শুরু করে নতুন নতুন রোগবালাইয়ের আবির্ভাব আমাদের গড়ে ওঠা ব্যবস্থাকে হুমকির মুখে ফেলেছে।

নতুন এই পর্বে সব পরিবর্তনের সঙ্গে ক্ষুদ্র জীবাণু এক প্রাণী থেকে অন্য প্রাণীতে সংক্রমিত হচ্ছে। এর ফলে নতুন নতুন মহামারির আবির্ভাব হচ্ছে। দ্বিতীয় বিশ্ব পরবর্তী সময়ে অ্যান্টিবায়োটিকসহ নতুন নতুন ওষুধের আবিষ্কার, স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার দ্রুত সম্প্রসারণ, স্বাস্থ্যসম্মত পয়োনিষ্কাশনব্যবস্থা সাধারণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া প্রভৃতি কারণে সংক্রামক রোগের প্রকোপ অনেকটাই কমে আসছিল। রোগব্যাধির এ পরিবর্তিত প্রবণতায় প্রভাবিত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সার্জন জেনারেল এক বক্তৃতায় চিকিৎসাবিজ্ঞানের ছাত্রদের সংক্রামক ব্যাধিসংক্রান্ত বই বন্ধ রেখে চিকিৎসাবিজ্ঞানের অন্য সব বিষয়ে মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের সার্জন জেনারেল যে একাই এমন ভাবতেন, তা ভাবা ভুল হবে। মানবজাতি বা বিশেষ করে শিল্পোন্নত বিশ্ব সংক্রামক ব্যাধির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে জিতে গেছে— অনেক বিজ্ঞানী ও পেশাজীবী এমন ধারণা থেকে আত্মপ্রসাদে ভোগা শুরু করেছিলেন।

বিজ্ঞাপন
default-image

তবে এ ধারণা ভুল প্রতীয়মান হতে বেশি সময় লাগেনি। স্বাস্থ্যবিজ্ঞানের অভাবনীয় সব আবিষ্কার সত্ত্বেও মানবজাতিকে নতুন নতুন রোগব্যাধির মুখোমুখি হতে হচ্ছিল এবং পুরোনো অনেক রোগব্যাধি নতুন করে ফিরে আসছিল এবং এ প্রবণতা এখনো অব্যাহত। বনভূমি কমে আসার কারণে বন্য প্রাণীর আবাসস্থলের সংকোচন, জলবায়ু পরিবর্তন, চাহিদা বৃদ্ধির কারণে প্রাণিসম্পদ ও পোলট্রি বাণিজ্যের ব্যাপক বিকাশ ও আন্তর্জাতিকীকরণ, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ও পর্যটনের ব্যাপকতা বহুগুণে বৃদ্ধি, ফসল চাষের নিবিড়তা বৃদ্ধি এবং কৃষি উৎপাদনে সার ও কীটনাশকের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারকে বিশেষজ্ঞরা নতুন এসব রোগব্যাধির ও নতুন স্বাস্থ্য সমস্যার উদ্ভবের কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেন।

নতুন উদ্ভূত এসব রোগকে আমরা উদীয়মান রোগ (ইমার্জিং ডিজিজ) এবং সাম্প্রতিক সময়ে ছিল না কিন্তু নতুন করে আবার দেখা দিচ্ছে, এমন সব রোগব্যাধিকে আমরা পুনরাবির্ভূত (রিমেরিং ডিজিজ) বলি। উদীয়মান ও পুনরাবির্ভূত রোগব্যাধি দমনে প্রচলিত জ্ঞান ও কৌশল খুব একটা কাজে আসে না। বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে, সংক্রামক রোগসমূহের ৬০ শতাংশের বেশি বিভিন্ন প্রাণী থেকে মানুষে এসেছে এবং উদীয়মান রোগসমূহের প্রায় ৭৫ শতাংশই বিভিন্ন প্রাণী থেকে এসেছে। বন্য প্রাণী এসব রোগের অধিকাংশের রিজার্ভার হিসেবে কাজ করে। সাম্প্রতিক উদাহরণ হিসেবে এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা, নিপাহ, সার্স, মার্স, ইবোলা ভাইরাসের কথা বলা যেতে পারে।

শিল্পবিপ্লব–পরবর্তী সময়ে জ্ঞানের নতুন নতুন বিশেষায়িত শাখার উদ্ভবের যে প্রবণতা শুরু হয়েছিল, তা বিষয়ভিত্তিক বিশেষজ্ঞদের তাঁদের নিজস্ব কাজের জগতের নির্দিষ্ট এলাকায় গভীর মনোনিবেশের সুযোগ করে দিয়েছে। এর ফলে তাদের সেবা গ্রহণকারীরাও এসব বিশেষজ্ঞের কাছ থেকে অধিক কার্যকর সেবা পাচ্ছেন। কিন্তু এর ফলে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে একধরনের পারস্পরিক সম্পর্কহীনতার সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে। এই সম্পর্কহীনতার কারণে পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়েছে। এতে স্বাস্থ্য সমস্যাকে সামগ্রিকভাবে না দেখে আলাদাভাবে দেখার প্রবণতা সৃষ্টি হয়। ফলে স্বাস্থ্য সমস্যার মূলে যাওয়া সম্ভব হচ্ছিল না এবং রোগ প্রতিরোধের জন্য সামগ্রিক ব্যবস্থা নেওয়াও সম্ভব হচ্ছিল না।

রোগ বা স্বাস্থ্য সমস্যা একক কারণে খুব বেশি ঘটে না। বড় দাগে বলতে গেলে, স্বাস্থ্য সমস্যা মূলত পরিবেশ, রোগ বা বিপত্তি সৃষ্টিকারী অণুজীব বা উপাদান এবং পোষক প্রাণীর মিথস্ক্রিয়ার ফল। কাজেই স্বাস্থ্য সমস্যার টেকসই সমাধান করতে হলে রোগ সৃষ্টির তিনটি উপাদানের দিকেই নজর দিতে হবে। আর তা করতে হলে দরকার বিভিন্ন পেশার ও বিভিন্ন খাতের সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বিত উদ্যোগ।

২০০৪ সালে ওয়াইল্ড লাইফ কনজারভেশন সোসাইটি আয়োজিত ‘বিল্ডিং ইন্টারডিসিপ্লিনারি ব্রিজেস টু হেলথ ইন আ গ্লোবালাইজড ওয়ার্ল্ড’ শীর্ষক সেমিনার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে অনুষ্ঠিত হয়। মানুষ, পোষা প্রাণী ও বন্য প্রাণীর মধ্যে রোগের পারস্পরিক বিস্তার সম্পর্কে বন্য প্রাণী বিশেষজ্ঞ, ভেটেরিনারিয়ান ও ফিজিশিয়ানরা আলাপ–আলোচনা করে রোগের ঝুঁকি কমিয়ে আনার জন্য ১২টি অগ্রাধিকার এলাকা চিহ্নিত করেন। এই ১২ অগ্রাধিকার ম্যানহাটান প্রিন্সিপাল নামে পরিচিত। এ ঘোষণায় রোগ প্রতিরোধের জন্য আন্তর্জাতিক ও আন্তপেশা উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়, যা বস্তুত ওয়ান হেলথ ধারণার সূচনা করে বলে ধরে নেওয়া হয়।

২০০৪ সালের শেষ দিকে এসে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও দূরপ্রাচ্যে মুরগিতে একটি বিশেষ ধরনের এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা এইচফাইভএনওয়ান দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, চীনে এই ভাইরাসের সংক্রমণের কারণে অনেক মানুষের প্রাণহানি ঘটে। রোগটি সারা বিশ্বে ব্যাপকভাবে (প্যানডেমিক) ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বাড়তে থাকে। এ প্রেক্ষাপটে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, বিশ্ব প্রাণী স্বাস্থ্য সংস্থা ও জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা জেনেভায় অনুষ্ঠিত সম্মেলনে একযোগে কাজ করার ঘোষণা দেয় এবং রোগটিকে উৎসে নিয়ন্ত্রণের আহ্বান জানায়।

বিজ্ঞাপন
বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে, সংক্রামক রোগসমূহের ৬০ শতাংশের বেশি বিভিন্ন প্রাণী থেকে মানুষে এসেছে এবং উদীয়মান রোগসমূহের প্রায় ৭৫ শতাংশই বিভিন্ন প্রাণী থেকে এসেছে।

বাংলাদেশও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে একটি প্রস্তুতি পরিকল্পনা গ্রহণ করে। এ পরিকল্পনায় বহু সেক্টরভিত্তিক সহযোগিতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা নিয়ন্ত্রণে সরকারের স্বাস্থ্য, প্রাণী স্বাস্থ্য ও বন বিভাগ একযোগে কাজ করে আসছে। পারস্পরিক সহযোগিতাভিত্তিক এ কার্যক্রম অ্যানথ্রাক্স নিয়ন্ত্রণেও কাজ করেছে। ২০০৭ সালে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত মন্ত্রী পর্যায়ের সভায় সারা বিশ্বের সরকারসমূহ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো প্যানডেমিক প্রতিরোধে ওয়ান হেলথ ধারণা বাস্তবায়নের ঘোষণা দেন।

২০০৮ সালে বাংলাদেশ চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিমেল সায়েন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়ান হেলথ উদ্যোগকে প্রধান প্রতিপাদ্য হিসেবে নেওয়া এক সম্মেলনে চিকিৎসক, ভেটেরিনারিয়ান, বন্য প্রাণী বিশেষজ্ঞ, পরিবেশবিদ, কৃষিবিজ্ঞানীসহ বিভিন্ন সেক্টর ও পেশার বিশেষজ্ঞরা ওয়ান হেলথ ঘোষণা গ্রহণ করেন। একই বছরে গঠিত হয় ওয়ান হেলথ বাংলাদেশ নামে একটি সংগঠন। এরপর থেকেই সংগঠনটি ওয়ান হেলথ ধারণাকে জনপ্রিয় করে তোলা এবং বহু পেশা ও বহু সেক্টরভিত্তিক ওয়ান হেলথ পদ্ধতি কাজে লাগিয়ে মানুষ, পোষা প্রাণী, বন্য প্রাণী ও প্রতিবেশের স্বাস্থ্য সুরক্ষার যৌথ উদ্যোগ গ্রহণের জন্য বহুমুখী তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।

বৈশ্বিক নানা স্বাস্থ্য সমস্যার সঙ্গে ২০১৪ সালে যুক্ত হয়েছে ইবোলার মতো প্রাণঘাতী রোগের প্রাদুর্ভাব। আফ্রিকায় প্রাণিস্বাস্থ্য ও মানবস্বাস্থ্যের দুর্বল প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো এবং আন্তসেক্টর সমন্বয় ও সহযোগিতার দুর্বলতার কারণে রোগটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং বিপুল প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। ইবোলা ওয়ান হেলথের প্রাসঙ্গিকতা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়। প্যানডেমিকের আশঙ্কা থেকে বাঁচা, বায়োটেররিজমের বিপদ থেকে নিরাপদ থাকা, অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্সের বিপদসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যা থেকে আমাদের পৃথিবীকে বাঁচানোর জন্য ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে গ্লোবাল হেলথ অ্যাজেন্ডা উদ্বোধন করা হয়। বর্তমানে ৫০টি দেশসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। ১১টি অ্যাকশন প্যাকেজের মাধ্যমে এই অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়ন করা হবে এবং বাংলাদেশ এর অন্যতম বাস্তবায়নকারী দেশ।

বাংলাদেশও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে একটি প্রস্তুতি পরিকল্পনা গ্রহণ করে। এ পরিকল্পনায় বহু সেক্টরভিত্তিক সহযোগিতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থা ইমার্জিং প্যানডেমিক থ্রেট প্রোগ্রামের দ্বিতীয় পর্যায় বাস্তবায়ন করছে। এ প্রোগ্রামেও ওয়ান থেলথ অ্যাপ্রোচের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এবং একটি টেকসই ওয়ান হেলথ প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ও ওয়ান হেলথকে চেতনায় লালন করে, এমন একটি পেশাদার প্রজন্ম তৈরি করে যৌথ কাজের একটি সংস্কৃতি গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি মাথায় রেখে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ইনস্টিটিউট অব এপিডেমিওলজি, ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড রিসার্চ (আইইডিসিআর) তাদের এপিডেমিওলেজি কোর্সে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ভেটেরিনারিয়ানদের অন্তর্ভুক্ত করেছে। আবার চট্টগ্রামের ভেটেরিনারি ও অ্যানিমেল সায়েন্স ইউনিভার্সিটি একটি ওয়ান হেলথ ইনস্টিটিউট গড়ে তুলেছে। এভাবেই ওয়ান হেলথের একটি টেকসই সমন্বয় কাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ওয়ান হেলথ–সংক্রান্ত ইন্টারমিনিস্টারিয়েল স্টিয়ারিং কমিটি গঠন করাহয়েছে। আইইডিসিআরে ওয়ান হেলথ সেক্রেটারিয়েট গঠন করা হয়েছে।

সংক্রামক রোগ ছাড়াও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা এবং পুষ্টি সমস্যার সমাধানের জন্যও দরকার ওয়ান হেলথ অ্যাপ্রোচ। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে হলে ফার্ম টু ফর্ক (খামার থেকে কাঁটাচামচ) সব ধাপে খাদ্য যাতে নিরাপদ থাকে, সে পদক্ষেপ নিতে হবে। আর তা নিশ্চিত করতে হলে ওয়ান হেলথ পদ্ধতির কোনো বিকল্প নেই। অনুরূপভাবে অ্যান্টিবায়োটিকের কার্যকারিতা রক্ষায় ওয়ান হেলথ পন্থা গ্রহণেরও কোনো বিকল্প নেই।

default-image

এত কিছুর পরও ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর প্রকাশিত বিশ্ব স্বাস্থ্য নিরাপত্তা সূচক নিরূপণের জন্য পৃথিবীর ১৯৫টি দেশে পরিচালিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় যে বৈশ্বিক মহামারি, বা মহামারির ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রতিরোধ ও নির্ণয় করার সক্ষমতা এবং সাড়া দেওয়ার প্রস্তুতি বিশ্বের অধিকাংশ দেশেরই নেই। মোট ১০০ সূচকের মধ্যে গড় অর্জিত সূচক ৪০ দশমিক ২ এবং এর মধ্যে ৬০টি উচ্চ আয়ের দেশের গড় সূচক মাত্র ৫১ দশমিক ৯। প্রতিবেদনে স্পষ্টতই উল্লেখ করা হয় যে পৃথিবীর জন্য এ ফলাফল এক ভয়াবহ দুঃসংবাদ। এই প্রতিবেদন প্রকাশের মাত্র দুই মাসের কম সময়ের ব্যবধানে পৃথিবী এক নজিরবিহীন কোভিড-১৯ বিশ্ব মহামারির মুখোমুখি হয় এবং উন্নত, উন্নয়নশীল, অনুন্নত কোনো দেশই এই মহামারি মোকাবিলায় যে প্রস্তুত ছিল না, তা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়।

সমগ্র মানবজাতির স্বাস্থ্য নিরাপত্তার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন জৈব নিরাপত্তার অনিশ্চয়তা অবস্থান করছে এবং নতুন আবির্ভূত রোগজীবাণুকে কেন্দ্র করে বিজ্ঞানী মহলের ভবিষ্যদ্বাণী অকাট্যভাবে প্রমাণিত হয়েছে। এবারের বিশ্ব মহামারি কোভিড-১৯, যা সার্স করোনাভাইরাস-২ দ্বারা সংক্রমিত হয়, তা-ও বাদুড় থেকে ছিটকে পড়া একটি ভাইরাস, যা এখন মানুষ থেকে মানুষে ছড়িয়ে পড়ছে।

করোনাভাইরাসের বৈশ্বিক মহামারি আমাদের সামনে এই সত্যকেই তুলে ধরল যে স্বাস্থ্য নিরাপত্তার প্রচলিত ব্যবস্থাপনাকে এক নতুন রূপে রূপান্তর করতে হবে। সমন্বয়, সহযোগিতা, যৌথ উদ্যোগ ও একত্রীকরণের নীতিমালার ওপর ভিত্তি করে বর্তমানের বিচ্ছিন্ন ও সমন্বয়হীন ব্যবস্থাকে ওয়ান হেলথ ব্যবস্থায় রূপান্তর করতে হবে।


ড. নীতীশ দেবনাথ ওয়ান হেলথ বাংলাদেশের জাতীয় সমন্বয়কারী

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0