স্বাস্থ্যে অক্সিজেন সরবরাহ বাড়িয়েছে আবুল খায়ের গ্রুপ
দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়ায় অক্সিজেনের চাহিদাও বেড়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে অক্সিজেন সরবরাহ বাড়িয়েছে আবুল খায়ের গ্রুপ। বিভিন্ন হাসপাতালে বিনা মূল্যে অক্সিজেন সরবরাহ শুরু করেছে গ্রুপটি।
গত সপ্তাহে চট্টগ্রামের বাইরে রাজশাহী, নাটোর, নড়াইল ও সিলেটের বিভিন্ন হাসপাতালে বিনা মূল্যে অক্সিজেন সরবরাহ শুরু করে আবুল খায়ের গ্রুপ। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অক্সিজেন-সংকটের খবর আসার পর বিনা মূল্যে এসব হাসপাতালে অক্সিজেন সরবরাহ শুরু করা হয়।
আবদুল খায়ের গ্রুপ অক্সিজেন উৎপাদন করে মূলত রড তৈরির কারখানায় ব্যবহারের জন্য। চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় গ্রুপের ইস্পাত কারখানার পাশে অক্সিজেন প্ল্যান্ট রয়েছে। এটির উৎপাদনক্ষমতা ২৬০ টন। কারখানায় ব্যবহারের জন্য এত দিন ২৫০ টন অক্সিজেন গ্যাস আকারে ও ১০ টন তরল আকারে উৎপাদিত হতো।
দেশে করোনা সংক্রমণ শুরুর পর গত বছরের ১২ মে স্বাস্থ্য খাতে তরল অক্সিজেন সরবরাহ শুরু করে গ্রুপটি। করোনা সংক্রমণ বাড়লে স্বাস্থ্যে সরবরাহের জন্য তরল অক্সিজেন উৎপাদনক্ষমতা ১০ টন থেকে বাড়িয়ে ১৫ থেকে ২০ টনে উন্নীত করা হয়। সম্প্রতি নতুন করে করোনা সংক্রমণ বাড়ায় এখন দিনে ৩০ টন তরল অক্সিজেন উৎপাদিত হচ্ছে, যার সবটুকুই স্বাস্থ্যে সরবরাহ করা হচ্ছে।
অক্সিজেন প্ল্যান্টের কর্মকর্তারা জানান, রড উৎপাদনের জন্য কারখানায় ৯৯ শতাংশ বিশুদ্ধ অক্সিজেন উৎপাদিত হচ্ছে। স্বাস্থ্য খাতে দরকার হয় ন্যূনতম ৯৫ থেকে ৯৬ শতাংশ বিশুদ্ধ অক্সিজেন।
এ বিষয়ে আবুল খায়ের গ্রুপের কর্মকর্তারা জানান, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদিত দুটি প্রতিষ্ঠান—লিনডে বাংলাদেশ ও স্পেক্ট্রা অক্সিজেন লিমিটেডকে প্রতিদিন তরল অক্সিজেন সরবরাহ করছেন তাঁরা। এ ছাড়া সারা দেশে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে বিনা মূল্যে সিলিন্ডারে অক্সিজেন সরবরাহ করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত ১৮ হাজারের বেশি ব্যক্তিগত ও হাসপাতালের সিলিন্ডার বিনা মূল্যে পুনরায় ভরে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বিনা মূল্যে অক্সিজেনসহ পাঁচ হাজার সিলিন্ডার বিতরণ করেছেন তাঁরা। পাশাপাশি নিজস্ব উদ্যোগে ২০টি হাসপাতালে বিনা মূল্যে কেন্দ্রীয় অক্সিজেন সরবরাহব্যবস্থা স্থাপন করে দেওয়া হয়েছে।
আবুল খায়ের স্টিল প্ল্যান্টের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মুহাম্মদ আবদুল্লাহ প্রথম আলোকে জানান, উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়ায় সেখানকার বিভিন্ন হাসপাতালে সিলিন্ডারে অক্সিজেন সরবরাহ শুরু করেছেন তাঁরা। বর্তমানে দিনে ৫০০ সিলিন্ডারে অক্সিজেন সরবরাহের সক্ষমতা রয়েছে।
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়তে থাকায় সিলিন্ডারে অক্সিজেন সরবরাহ বাড়াতে নতুন করে যন্ত্রপাতি আমদানি করা হচ্ছে।