বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

গতকাল এক ভার্চ্যুয়াল আলোচনার মাধ্যমে এবং ওয়েবসাইটে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। আইডিইএ উল্লেখ করেছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের উদ্যোগে আয়োজিত গণতন্ত্র শীর্ষ সম্মেলন সামনে রেখে এই প্রতিবেদন সময়োপযোগী।
উল্লেখ্য, বাইডেনের উদ্যোগের এ সম্মেলন আগামী ৯ ও ১০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে ১০০টির বেশি দেশ অংশ নেবে। ভার্চ্যুয়াল এই সম্মেলনে বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।

আইডিইএর ৮০ পৃষ্ঠার ওই প্রতিবেদনে করোনা পরিস্থিতির সময় গণমাধ্যমের কাজে বাধা দেওয়ার ক্ষেত্রে বিভিন্ন দেশের ভূমিকা উল্লেখ করতে গিয়ে বাংলাদেশ প্রসঙ্গ আসে। এতে বলা হয়, করোনাভাইরাস সংক্রমণের সময় সরকারের জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন তুলতে গিয়ে বিভিন্ন দেশের গণমাধ্যমের সক্ষমতা দুর্বল করা হয়েছে। করোনা পরিস্থিতি নিয়ে লিখতে গিয়ে যেসব দেশে গণমাধ্যমের কর্মীরা আটক ও নিপীড়নের শিকার হয়েছেন, তার মধ্যে অন্যতম বাংলাদেশ।

প্রতিবেদনটিতে বাংলাদেশে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের (ডিএসএ) ব্যবহারকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে অন্যতম প্রধান উদ্বেগের কারণ হিসেবে অভিহিত করা হয়। বলা হয়, সমালোচনাকে মিথ্যা তথ্য হিসেবে দাবি করে সরকার গণমাধ্যমকর্মীদের পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যক্তিকে করোনাকালের শুরুতে আটক করেছিল। মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে যে প্রতিবন্ধকতা ছিল, কোভিড-১৯ মোকাবিলার নামে তাকে রীতিমতো জায়েজ করা হয়েছে।

১৯৭৫-৭৮ এবং ১৯৮১-৮৫ পর্যন্ত কর্তৃত্ববাদী ছিল বাংলাদেশ

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, করোনাকালে বাংলাদেশে ব্যাপক মাত্রায় ও সংঘবদ্ধ দুর্নীতির বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে। পাশাপাশি সরকারের জবাবদিহি ও স্বচ্ছতার ঘাটতির বিষয়টিও উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে গণতান্ত্রিক শাসনের ক্ষেত্রে দেশগুলো কেমন করছে, তা নিয়ে পাঁচটি শ্রেণিবিভাজন করা হয়। এগুলো হলো গণতন্ত্রের সূচকে সবচেয়ে ভালো, মধ্যম মানের গণতন্ত্র, দুর্বল গণতন্ত্র, হাইব্রিড সরকার ও স্বৈরতান্ত্রিক সরকার। এ তালিকায় বাংলাদেশকে স্বৈরতান্ত্রিক দেশের শ্রেণিতে রাখা হয়েছে।

সুইডেনভিত্তিক এ সংস্থায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে বাংলাদেশে ‘কতৃত্ববাদী শাসন’ চলছে বলে বলা হয়েছে। ২০১৪ সাল থেকে বাংলাদেশে ধারাবাহিকভাবে কর্তৃত্ববাদী শাসন চলছে। ২০০৮ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে ‘দুর্বল গণতন্ত্র’ ছিল।

১৯৭৫ সালের পর থেকে নেওয়া ডেটা ও তথ্যের ওপর নির্ভর করে গণতন্ত্রের অবস্থা তুলে ধরে এ বছরে ‘গণতন্ত্রের বৈশ্বিক পরিস্থিতি-২০২১’ শীর্ষক ওই প্রতিবেদনে আইডিইএ বলেছে, আগের চেয়ে বেশি দেশে ‘গণতন্ত্রের অবক্ষয়’ হয়েছে।

২০১৪ সাল থেকে বাংলাদেশে একটি কর্তৃত্ববাদী শাসন চলছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এর মধ্যে ২০০৭ সালের শাসনব্যবস্থাকেও, ১৯৭৫-৭৮ এবং ১৯৮১-৮৫ সাল পর্যন্ত কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থা ছিল বাংলাদেশে।

‘গণতন্ত্রের বৈশ্বিক পরিস্থিতি-২০২১’ শীর্ষক প্রতিবেদনটি ২৮টি সূচক আর ৫টি বিস্তৃত বিষয়ের ওপর ভিত্তি তৈরি করা হয়েছে। সূচক অনুযায়ী, নিরপেক্ষ প্রশাসন সূচকে (ক্যাটাগরি) বাংলাদেশের স্কোর সর্বনিম্ন। প্রতিনিধিত্বমূলক সরকার থাকা সূচকেও ‘নিম্ন’ অবস্থানে আমাদের দেশ। ন্যায়বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে সবার অধিকারের বিষয়, সুশীল সমাজের অংশগ্রহণ এবং নাগরিক স্বাধীনতার ক্ষেত্রে মধ্য পরিসরে আছে বাংলাদেশ। তবে ‘নির্বাচনসংক্রান্ত অংশগ্রহণে’র ক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্কোর অনেক বেশি বা উঁচুতে।

প্রতিবেদনে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিত্বমূলক সরকার আছে কি না, তার ভিত্তিতে বিচার করা হয়েছে। এ বিষয়ে সিদ্ধান্তে আসার জন্য সংস্থাটি মূল্যায়ন করেছে যে দেশে পরিচ্ছন্ন নির্বাচন, অন্তর্ভুক্তিমূলক ভোটাধিকার, মুক্ত রাজনৈতিক দল এবং একটি নির্বাচিত সরকার আছে কি না।

সংস্থাটি সরকারের ওপর পর্যাপ্ত ক্ষমতার ভারসাম্য আছে কি না, তা–ও মূল্যায়ন করেছে। সংসদ কার্যকর ও বিচার বিভাগ স্বাধীন কি না এবং গণমাধ্যমের সততা আছে কি না, তা পরীক্ষা করে দেখা হয়েছে প্রতিবেদনে।

সংস্থাটি বাংলাদেশের মৌলিক অধিকার আছে কি না, তা–ও খতিয়ে দেখেছে। এর মধ্য মৌলিক অধিকারের বিষয়, বিচার পাওয়ার অধিকার, ব্যক্তি (নাগরিক) স্বাধীনতার চর্চা, সামাজিক অধিকার এবং সমতা অন্তর্ভুক্ত আছে। প্রতিবেদনে গণমাধ্যমকর্মীদের গ্রেপ্তার ও হয়রানির জন্য বাংলাদেশের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে যে প্রতিবন্ধকতা ছিল, কোভিড-১৯ মোকাবিলার নামে তাকে রীতিমতো জায়েজ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, বিশ্বের অনেক বেশি দেশ কর্তৃত্ববাদের দিকে ধাবিত হচ্ছে। আর প্রতিষ্ঠিত গণতন্ত্রের দেশগুলোও এখন যত হুমকির মুখে, আগে এত বেশি ছিল না।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন