সড়ক দুর্ঘটনার কারণ ১৬ 'অ'
চুয়াডাঙ্গায় সড়ক দুর্ঘটনায় একদিকে যেমন মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে, তেমনি অনেকে শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী হয়ে পড়ছে। জেলায় নিরাপদ সড়ক বাস্তবায়নে গঠিত কমিটি দুর্ঘটনা বেড়ে যাওয়ার পেছনে কারণ হিসেবে ১৬ ‘অ’-কে দায়ী করেছে।
সেগুলো হচ্ছে রাস্তার অপ্রতুলতা ও অপ্রশস্ততা, অতিরিক্ত যানবাহন চলাচল, অবৈধ যানবাহনের অবাধ চলাচল, চালকের অজ্ঞতা-অদক্ষতা, অতিরিক্ত গতি, অহেতুক পাল্লা দিয়ে গাড়ি চালানো, অতিরিক্ত যাত্রী ও পণ্য পরিবহন, সড়কের ওপর অবৈধ হাটবাজার, ফুটপাতের অবৈধ দখল, আইন প্রয়োগে প্রশাসন ও বিআরটিএর অবহেলা, দুর্ঘটনায় জড়িতদের ছাড়িয়ে নিতে অনুরোধ এবং জনসাধারণের অসচেতনতা ও অসাবধানতা।
সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালে জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় ৫৬ জনের প্রাণহানি ঘটে। চলতি বছরের ৮ জানুয়ারি থেকে ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত ১০৮ দিনে ৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে মার্চ মাসেই নিহত হয়েছে ২৭ জন। এর মধ্যে প্রকৌশলী, জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, ছাত্র এবং শিশুও রয়েছে। আহত ব্যক্তিদের সংখ্যা আরও উদ্বেগজনক। সিভিল সার্জনের কার্যালয়ের প্রধান সহকারী রোকেয়া বেগম জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় গড়ে প্রতি মাসে ৫০ জন আহত হয়ে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়।
গত ২৬ মার্চ দামুড়হুদা উপজেলার জয়রামপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় ১৩ জনের প্রাণহানির পর জেলা পুলিশ প্রশাসন একটি কমিটি গঠন করে। এতে প্রশাসন ও বিআরটিএর কর্মকর্তা, সড়ক পরিবহন মালিক-শ্রমিক সংগঠন, ইটভাটা মালিক সমিতি, দোকান মালিক সমিতি, পরিবেশক সমিতির নেতা এবং রাজনীতিক ও জনপ্রতিনিধিরা আছেন। কমিটির সাম্প্রতিক এক বৈঠক ওই ১৬টি কারণ চিহ্নিত করা হয়।
বৈঠকে উপস্থিত সবাই জেলায় সড়ক দুর্ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বেশির ভাগ বক্তা বলেন, সড়কে ভয়াবহ বিশৃঙ্খলা চলছে। চালকদের যেমন খুশি তেমন চলার প্রবণতার কারণেই দুর্ঘটনা বেড়ে চলেছে। ফিটনেসবিহীন বাস-ট্রাক ও অবৈধ যানের অবাধে চলাচল, বিশেষ করে ইটভাটার ট্রাক্টর ও পাওয়ার টিলারের বেপরোয়া চলাচলকে দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কমিটির উল্লেখযোগ্য প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে জেলার পাঁচটি প্রধান সড়কে অবৈধ যান চলাচল করবে না, সড়কের পাশ থেকে হাটবাজার সরাতে হবে, ফুটপাত দখলমুক্ত করতে হবে, অটোরিকশা মহাসড়কে উঠবে না ও পৌর এলাকার বাইরে যাবে না, ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকগুলোতে সড়ক সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন, মোটরসাইকেলের গতি নিয়ন্ত্রণ ও হেলমেটবিহীন চালকদের কাছে পেট্রল বিক্রি বন্ধ ও অবৈধ যানে যাত্রী বহনে নিরুৎসাহিত করতে প্রচারণা চালাতে হবে। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ ও পৌর মেয়রদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করা হয়।
নিরাপদ সড়ক বাস্তবায়নের প্রধান উদ্যোক্তা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন বলেন, ‘দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কাজ করতে চাই। কিন্তু অবৈধ যান ও চালকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গেলেই তদবির আসছে। তদবির বন্ধের পাশাপাশি জনগণকে সচেতন এবং আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। তাহলে সড়ক দুর্ঘটনা অনেক কমে যাবে।’