এআরআই বলেছে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতিবছর সড়ক দুর্ঘটনায় গড়ে ২৫ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। এআরআই আরও বলছে, সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। যেমন ২০২০ সালে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার হার ছিল সাড়ে ২২। ২০২১ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২৩ দশমিক ৪ শতাংশ। অন্যদিকে ২০২০ সালে পথচারী মৃত্যুর হার ছিল ২৯ দশমিক ৯। ২০২১ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩০ দশমিক ৬ শতাংশ। সামগ্রিক বিবেচনায় আগের বছরের তুলনায় ২০২১ সালে সড়ক দুর্ঘটনা ৫ শতাংশ বেড়েছে।

২০১৭ সালে রাইড শেয়ারিং একটা নীতিমালা তৈরি করা হয়। তারপর গত পাঁচ বছরে ঢাকা শহরে মোটরসাইকেলের সংখ্যা প্রায় ১০ লাখে দাঁড়িয়েছে। পুরো যুক্তরাষ্ট্রেও ১০ লাখ মোটরসাইকেল চলে না।

অনুষ্ঠানে এআরআইর পরিচালক মো. হাদিউজ্জামান বলেন, ২০১৫ সালে কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনায় সড়ক নিরাপদ করতে গণপরিবহনকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছিল। ২০১৬ সালে সড়ক দুর্ঘটনার প্রবণতা অনেকটা নিম্নমুখী ছিল। দুঃখজনক হচ্ছে, ২০১৭ সালে রাইড শেয়ারিং নীতিমালা তৈরি করা হয়। তারপর গত পাঁচ বছরে ঢাকা শহরে মোটরসাইকেলের সংখ্যা প্রায় ১০ লাখে দাঁড়িয়েছে। পুরো যুক্তরাষ্ট্রেও ১০ লাখ মোটরসাইকেল চলে না।

অধ্যাপক হাদিউজ্জামান বলেন, ‘দেশে এখন ৩২ লাখের মতো মোটরসাইকেল নিবন্ধিত আছে; অর্থাৎ গণপরিবহনের যে কথা আমরা বলছি, সেই ভারসাম্য অবস্থা এখন আর নেই। অবকাঠামোগত দুর্বলতা থাকার পরও কিছু নীতিগত দুর্বলতা হুটহাট করে নিয়ে ফেলছি। এটা অনেকটা আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত হয়ে যাচ্ছে।’

ঈদযাত্রার বিষয়ে মো. হাদিউজ্জামান বলেন, ‘আমাদের যে পরিমাণ সক্ষমতা আছে, তার দ্বিগুণ মানুষ এবার ঈদযাত্রায় বাড়িতে যাবে। কাজেই সড়ক ব্যবস্থাপনা কোমায় চলে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। যাদের কাজ নেই, তারা ২৭ এপ্রিলের আগেই বাড়ি চলে যায়। ঈদের সময় দুর্ঘটনা ৪০-৫০ শতাংশ বেড়ে যায়। কারণ, সড়কে চাপ বাড়লে দুর্ঘটনা বাড়বে।’

বুয়েটের সহ-উপাচার্য আবদুল জব্বার খান বলেন, ‘আমরা ইদানীং খুব জোরেশোরে শুনছি, ২৩৮ কিলোমিটার সাবওয়ে হবে। ৩০ বছরে তিনটি ধাপে এই সাবওয়ে করা হবে। এতে ব্যয় করা হবে ৬৫ বিলিয়ন ডলার। আমাদের পদ্মা সেতু নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে ৪ বিলিয়ন ডলার। আমরা যে সাবওয়ের কথা চিন্তা করছি, এখনকার প্রাক্কলিত ব্যয় হিসেবে এই টাকা দিয়ে ১৬টি পদ্মা সেতু করা যাবে। এর ব্যয় আরও বাড়ার সম্ভাবনা আছে।’

এত টাকা ব্যয়ে সাবওয়ে নির্মাণ ঠিক হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আবদুল জব্বার খান বলেন, ‘৬৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ৯ লাখ কোটি টাকা দেশের বর্তমান বাজেটের প্রায় দেড় গুণ। যদিও এটা ধীরে ধীরে বাস্তবায়িত হবে, তবু চিন্তার বিষয় থেকেই যায়। কারণ, আমাদের মাথাপিছু ঋণ এর ফলে কতটুকু বাড়বে, সেটিও বিবেচনার মধ্যে আনার প্রয়োজন আছে।’

পরিকল্পনা বিভাগের সচিব প্রদীপ রঞ্জন চক্রবর্তী বলেন, ‘আমরা গবেষণা-সংক্রান্ত প্রকল্প খুব একটা পাই না। বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশির ভাগ প্রকল্প আসে অবকাঠামো নির্মাণের।’ পরিবহনসহ নানা খাতে গবেষণাবিষয়ক প্রকল্প নিয়ে আসার প্রস্তাব দেন তিনি।

বুয়েটের উপাচার্য সত্য প্রকাশ মজুমদার বলেন, দুর্ঘটনা যেন না হয়, তা নিয়ে গবেষণা করা প্রয়োজন। দুর্ঘটনা এড়াতে ফুটপাত ব্যবহার করাসহ ট্রাফিক আইন মেনে চলার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন এআরআইর সহকারী অধ্যাপক আসিফ রায়হান।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন