সুফিউলের পরিবার সরাসরি গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হয়নি। তবে সুফিউলের বিষয়ে জাতিসংঘের উচ্চ পদে কর্মরত দুজন বাংলাদেশি কর্মকর্তা গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে প্রথম আলোর সঙ্গে কথা বলেন। সুফিউলের পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁদের মাধ্যমে প্রথম আলোকে বেশ কিছু তথ্য জানানো হয়।

সুফিউলের ঘনিষ্ঠ জাতিসংঘের ওই দুই কর্মকর্তার একজন প্রথম আলোকে বলেন, যাঁদের অপহরণ করা হয়েছে, তাঁরা জীবিত আছেন, এমন তথ্যপ্রমাণ এখন পর্যন্ত সরবরাহ করা হয়নি। আল-কায়েদা আরব পেনিনসুলা (একিউএপি) নামে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী এ অপহরণের সঙ্গে যুক্ত। তারা মুক্তিপণ হিসেবে ৫ মিলিয়ন ডলার (৪৩ কোটি ১১ লাখ ১৫ হাজার ৯৫০ টাকা) (১ ডলার‍=৮৬ টাকা) দাবি করেছে। পাশাপাশি ইয়েমেনে জেলে আটক তাদের কিছু সদস্যকে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানিয়েছে।

জাতিসংঘের হয়ে ইয়েমেন সরকার অপহরণকারীদের সঙ্গে মুক্তিপণের বিষয়ে আলোচনা চালাচ্ছে বলে আরেক কর্মকর্তা জানান। তিনি বলেন, জাতিসংঘের পক্ষ থেকে সুফিউলের পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করা হচ্ছে। জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাবাব ফাতিমা সুফিউলের বিষয়টি জাতিসংঘ সদর দপ্তরের গোচরে এনে ব্যবস্থা নিতে বলেছেন।

সুফিউলের মুক্তির বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের ভূমিকার বিষয়ে বাংলাদেশি ওই কর্মকর্তা বলেন, যে দেশের নাগরিক অপহৃত হয়েছে, মুক্তির বিষয়ে সে দেশকে জোরালো ভূমিকা রাখতে হয়। সুফিউলকে উদ্ধারে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের কোনো চেষ্টা-তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না। বাংলাদেশ সরকার ইয়েমেন সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে। কাতার, কুয়েত, সৌদি আরবের মতো বন্ধুপ্রতীম দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশ সরকার যোগাযোগ করতে পারে। ইয়েমেন সরকারকে এসব দেশ সহায়তা করছে।

বাংলাদেশি ওই কর্মকর্তারা বলেন, এরই মধ্যে ২১ দিন হয়ে গেল সুফিউল আটক আছেন। এখন যদি বাংলাদেশ জোরালো উদ্যোগ না নেয়, তাহলে কত দিন সুফিউলকে আটকে থাকতে হবে, এর কোনো নিশ্চয়তা নেই।

সুফিউলের বিষয়ে কথা বলতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন এবং পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেনের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তাঁদের দুজনের কেউই সাড়া দেননি।

সুফিউলের স্ত্রী ঢাকাতেই থাকেন। তাঁদের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। তাঁরা বর্তমানে প্রবাসী। জাতিসংঘের ওই কর্মকর্তা বলেন, সুফিউলের পুরো পরিবার মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় আছে। সুফিউলের স্ত্রী ভেঙে পড়েছেন।

২০১৪ সাল থেকে ইয়েমেনে যুদ্ধ চলে আসছে। সে সময় রাজধানী সানা আক্রমণ করে আবদ-রাব্বু মানসুর হাদির সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে হুতি বিদ্রোহীরা। পরে ২০১৫ সালের মার্চে হাদি সরকারকে পুনরায় ক্ষমতায় আনতে দেশটিতে হস্তক্ষেপ করে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত জোট। এর পর থেকে এই দুই পক্ষের মধ্যে লড়াই চলে আসছে। এই লড়াইয়ে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। এর জের ধরে দেশটিতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় মানবিক সংকটের সৃষ্টি হয়েছে।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন