মৌলভীবাজার ও সিলেট জেলার পাঁচটি উপজেলার বিভিন্ন এলাকাজুড়ে বিস্তৃত দেশের বৃহত্তম হাওর হাকালুকিকে ‘রামসার সাইট’ ঘোষণা করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলায় গতকাল শনিবার নিবন্ধিত গ্রাম সংরক্ষণ দলসমূহকে (ভিলেজ কনজারভেশন গ্রুপ বা ভিসিজি) ক্ষুদ্র মূলধন অনুদান বিতরণ অনুষ্ঠানে পরিবেশ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ তথ্য জানান।
পরিবেশ অধিদপ্তরের সিবিএ-ইসিএ (সমাজভিত্তিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও জলবায়ু পরিবর্তন অভিযোজন) প্রকল্পের কুলাউড়া কার্যালয় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে হাওরপারের বিভিন্ন এলাকার জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, গ্রাম সংরক্ষণ দলসমূহের প্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
দুপর সাড়ে ১২টার দিকে কুলাউড়া উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে ওই অনুষ্ঠান হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ নাজমুল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. রইছউল আলম মণ্ডল। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন পরিবেশ অধিদপ্তরের যুগ্ম সচিব সুলতান আহমদ ও পরিবেশ অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক সালাহ্ উদ্দিন চৌধুরী। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন জুড়ীর ইউএনও মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম, ফেঞ্চুগঞ্জের ইউএনও মো. আনোয়ার হোসেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ও সিবিএ-ইসিএ প্রকল্পের কুলাউড়া কার্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা নাজিম উদ্দিন শেখ প্রমুখ।
সভায় পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, সুন্দরবন ও টাঙ্গুয়ার হাওরকে বেশ আগেই ‘রামসার সাইট’ ঘোষণা করা হয়েছে। প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন হাকালুকি হাওরকেও ‘রামসার সাইট’ ঘোষণার জন্য পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে সম্প্রতি একটি প্রস্তাব বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। পরে মন্ত্রণালয় থেকে তা ইরানে অবস্থিত রামসার কনভেনশন সচিবালয়ে পাঠানো হয়।
পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলেন, হাকালুকির জীববৈচিত্র্য নানাভাবে নষ্ট হচ্ছে। প্রতিবছর দূরদেশের অসহনীয় শীত থেকে বাঁচতে হাওরে আশ্রয় নেওয়া বিভিন্ন প্রজাতির পরিযায়ী পাখিদের বিষটোপ দিয়ে হত্যা করা হয়। বিলের পানি শুকিয়ে মা-মাছ ও পোনা নিধন করা হয়। শুধু প্রশাসন বা পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষে হাওরের জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় লোকজনকেও এগিয়ে আসতে হবে।
আলোচনা সভার পর হাকালুকি হাওরের বিভিন্ন এলাকার পরিবেশ অধিদপ্তরের ২৮টি ভিসিজির প্রতিনিধিদের হাতে এক লাখ টাকা করে ক্ষুদ্র মূলধন অনুদানের চেক প্রদান করা হয়।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন