উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এবার জুড়ীতে ৫ হাজার ৮০০, কুলাউড়ায় ৮ হাজার ২০০ এবং বড়লেখায় ৫ হাজার ৪০ হেক্টর নিচু জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে বেশির ভাগ জমি পড়েছে হাকালুকি হাওরে।

হাওরপাড়ের বিভিন্ন এলাকার অন্তত ১০ জন বোরোচাষি বলেন, ধান পাকার আগমুহূর্তে বেশি বৃষ্টি হলে তাঁরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তবে এবার দীর্ঘ খরার পর সম্প্রতি কয়েক দফা বৃষ্টি হওয়ায় ফসলের জন্য ভালো হয়েছে। হাওরে এখনো পানি ঢোকেনি।

পশ্চিম জুড়ী ইউনিয়নের খাকটেকার বর্গাচাষি পরেন্দ্র দাস ১০ বিঘা জমিতে ব্রি ধান ২৮ ও ২৯ জাতের বোরো ধানের আবাদ করেছেন। তিনি বলেন, এবার ফলন ভালো হয়েছে। খরায় সেচসংকট দেখা দিলেও বৃষ্টিতে তা কেটে গেছে। ধান পাকতে শুরু করেছে। এখন ফসল ঘরে তোলার অপেক্ষায় আছেন।

অতীতে বিভিন্ন সময় অতিবৃষ্টি ও উজান থেকে নামা পাহাড়ি ঢলে হাওরের ফসলহানি ঘটেছিল। কয়েকবার ফসলহানির পর কুলাউড়ার ভূকশিমইল ইউনিয়নের মুক্তাজিপুর গ্রামের কৃষক আলী হোসেন বোরো ধানের আবাদ বাদ দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে এবার অনেকটা ঝুঁকি নিয়ে আলী হোসেন বোরো আবাদ করেন। এবার ভালো ফলন হওয়ায় বিগত সময়ের আক্ষেপ কেটে গেছে বলে জানান তিনি।

জুড়ী উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন, সপ্তাহখানেক পরই হাওরে ধান কাটা শুরু হবে। এপ্রিল মাসের মধ্যেই সব ধান কাটা শেষ হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। দ্রুত ধান কাটা ও মাড়াইয়ের জন্য সরকারি ভর্তুকি মূল্যে কয়েকটি কম্বাইন্ড হারভেস্টর ও রিপার যন্ত্র দিয়েছে। বিচ্ছিন্নভাবে কয়েকটি স্থানে ব্লাস্ট রোগের সংক্রমণ দেখা দিলেও তা বেশি ছড়ায়নি।

কুলাউড়ার কৃষি কর্মকর্তা আবদুল মোমিন ও বড়লেখার কৃষি কর্মকর্তা দেবল সরকার বলেন, হাকালুকি হাওরে বোরোর ভালো ফলন হয়েছে। অতিবৃষ্টির কোনো পূর্বাভাস নেই। সঠিক সময়ে কৃষকেরা ফসল ঘরে তুলতে পারবেন বলে তাঁরা আশাবাদী।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন