হাটে গাড়ির সংখ্যা ও বিক্রি বেড়েছে

মানিক মিয়া অ্যাভিনিউর রাজধানী উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠে প্রতি শুক্রবার পুরোনো ও ব্যবহৃত গাড়ি কেনাবেচা চলে৷ গতকালের ছবি l প্রথম আলো
মানিক মিয়া অ্যাভিনিউর রাজধানী উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠে প্রতি শুক্রবার পুরোনো ও ব্যবহৃত গাড়ি কেনাবেচা চলে৷ গতকালের ছবি l প্রথম আলো

এক শর বেশি ব্যবহৃত এবং পুরোনো গাড়ি সারি করে রাখা। সব গাড়ির সামনে একটি করে লিফলেট। তাতে গাড়ি-সম্পর্কিত সব তথ্য ও প্রাথমিক দাম লেখা। ক্রেতারা ঘুরছেন, গাড়ি দেখছেন। পছন্দ হলে চালিয়ে দেখছেন, কিনছেন। এ দৃশ্য রাজধানী উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠের কার হাটের।  

প্রতি শুক্রবার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউর স্কুলমাঠে বসে পুরোনো গাড়ির মেলা। শুধু এখানে নয়, একই দিনে লালমাটিয়া বি ব্লক মাঠেও বসে আরেকটি পুরোনো গাড়ি ক্রয়-বিক্রয়ের হাট।

ঢাকা ও আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে লোকে এ দুই মেলায় গাড়ি কিনতে আসেন। পছন্দ হলে হাটের বিক্রয়কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। গাড়ির ইঞ্জিনক্ষমতা, চেসিস ও বডি পরীক্ষা করে দেখেন। দরদাম করেন। অনেকে নাভানা ও রহিমআফরোজ রি-টেস্টিং সেন্টারে গিয়ে পরীক্ষা করান। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে বায়নাপত্র করেন।

নোয়া মাইক্রোবাস কেনার উদ্দেশ্যে সিলেট থেকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউর কার হাটে এসেছেন জহুরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘গাড়ি পছন্দ হয়েছে, তবে দাম বেশি। কিনব কি কিনব না, সিদ্ধান্ত নিতে পারছি না।’ 

যে কেউ এ হাটে গাড়ি তুলতে পারেন। বিভিন্ন কোম্পানির ২০০০ সালের পরের মডেলের গাড়িগুলোই এখানে আসে। সাধারণত পুরোনো গাড়ির ব্যবসায়ী ও ব্যক্তিগত গাড়ির মালিকেরা কার হাট লিমিটেডের মাধ্যমে কেনাবেচা করেন। ক্রেতাদের গাড়ি দেখানোর জন্য কার হাটে আছেন ৭০ জন বিক্রয়কর্মী। যেসব গাড়ির মূল কাগজপত্র, মডেল নিবন্ধন সাল থাকে, সেসব গাড়িই হাটে ওঠে। ক্রেতা মূলত ব্যবসায়ী ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির লোক। হাটে ১৩৪টি গাড়ি প্রদর্শনীর ব্যবস্থা আছে। হাটের বয়স ১৭ বছর। বিক্রীত গাড়ির মালিকানা পরিবর্তনসহ প্রতিবছর ট্যাক্স টোকেন, ফিটনেস, ইনস্যুরেন্স, রুট অনুমোদন নিবন্ধন করে দেয় কার হাট।

কার হাটের সহকারী ক্রেতা-সম্পর্ক ব্যবস্থাপক সৈকত সরকার প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা গাড়ির সব ধরনের কাগজপত্রের নিশ্চয়তা দিই। ক্রেতারা যাচাই-বাছাই ও দরদাম করে কেনেন। শুক্রবার ছুটির দিন হওয়ায় অসংখ্য লোক গাড়ি দেখতে ও কিনতে আসেন।’

লালমাটিয়া বি ব্লক মাঠের কার বিক্রয় মেলার চিত্রও প্রায় একই রকম। ওখানে কার বিক্রয় মেলা লিমিটেডের মাধ্যমে কেনাবেচা চলে। মেলার বয়স ১৪ বছর। প্রতি মেলায় ১২০ থেকে ১৩০টা গাড়ি ওঠে। ব্যক্তিগত গাড়ির মালিক ও ব্যবসায়ীরা মেলা কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় সরাসরি গাড়ি বিক্রি করেন। নিজস্ব বিক্রয়কর্মীরা গাড়ি দেখান, মেলা পরিচালনা করেন। আগে গাড়ি কম বিক্রি হলেও এখন গাড়ির সংখ্যা ও বিক্রি বেড়েছে।

কার বিক্রয় মেলা লিমিটেডের পরিচালক মাহবুব মুরশেদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘মেলায় নতুন মডেলের গাড়ি তোলার চেষ্টা করি। ক্রেতারা বুঝেশুনে কেনেন, দাম ও মানে ঠকার সম্ভাবনা কম।’

দুই মেলায় সব ধরনের গাড়িই ওঠে। তবে টয়োটা ব্র্যান্ডের এলিয়ন, এক্স করোলা, জি-করোলা, প্রিমিও, মাইক্রোবাসের মধ্যে নোয়া, নোয়া-এক্স, হাইয়েস, জিপের মধ্যে পাজেরো, র‌্যাফোর, হোন্ডার সিআরভি, মিতসুবিশির ল্যান্সার, এক্স-স্যালুন, নিশানের নিশান সানি, সাফারি, ব্লু বার্ড, ডুয়েল এস, নিসান জুকি ও মার্চ গাড়ি বেশি পাওয়া যায়। মাঝেমধ্যে পিকআপও ওঠে।

কার বিক্রয় মেলায় গাড়ি কিনতে এসে এ এস এম ফাহিম বলেন, ‘একটা জি-করোলার দাম করছি। নিজে চালিয়ে দেখেছি, গাড়ি ভালো। কেনার আগে রি-টেস্টিং সেন্টারে নিয়ে পরীক্ষা করাব।’